শিরোনাম

দুর্ভোগের অপর নাম বালিয়াকান্দি সদরের সড়ক!

মেহেদী হাসান মাসুদ, বালিয়াকান্দি (রাজবাড়ী)  |  ১৫:৫৯, আগস্ট ১৪, ২০১৯

বালিয়াকান্দি সদরের সড়কে বড় বড় গর্ত, খানা খন্দ হওয়ায় যানবাহন চলাচলে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে উপজেলা সদরে যাতায়াতকারীদের পায়ে হাটার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

প্রতিদিনই জনসাধারণকে কোনো না কোনো দুর্ঘটনার স্বীকার হতে হচ্ছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন কয়েক বছর তো গেল আর কত দিন লাগবে এই সড়কটির দৃশ্যমান উন্নয়ন ঘটতে ?

বুধবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, বালিয়াকান্দি হাসপাতাল থেকে চৌরাস্তা হয়ে বাজারের মধ্যে দিয়ে যাওয়া সোনাপুর সড়কটির অবস্থা ভাল।

তবে বালিয়াকান্দি স্টেডিয়াম মাঠ থেকে সাধু মোল্যার মোড়, সাধু মোল্যার মোড় থেকে ওয়াপদা মোড়, ওয়াপদা মোড় থেকে তালপট্টি, বালিয়াকান্দি চৌরাস্তা থেকে ঘিকমলা প্রায় ১৩ কিলোমিটার অধিকাংশ জায়গায় ভাঙাচোরা খানা-খন্দে ডোবার মতো অবস্থা হয়েছে। বৃষ্টির পানিতে ভরপুর রয়েছে গর্তগুলো।

এছাড়াও ওয়াপদা থেকে মধুখালী যেতে বালিয়াকান্দি অংশেও সড়কে গর্ত যা সাধারণ মানুষের পায়ে হাটার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ওয়াপদায় ১০ টনের উপর ভারী যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞার একটি সাইনবোর্ড দেখা যায়। তবে কে নিয়ন্ত্রণ করবে এই যানবাহন গুলো সেটা এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান ভূমিকা চোখে পরেনি।

বালিয়াকান্দি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কটি এতটাই খারাপ যে মোটরসাইকেল ও পায়ে হাটা লোকজন স্কুলের বাড়ান্দা হয়ে বালিয়াকান্দি মডেল স: পা: বিদ্যালয়ের গেট দিয়ে বের হচ্ছে। এছাড়া হলিচাইল্ট প্রি ক্যাডেট স্কুলের খেলার মাঠ দিয়েও ভ্যান চলতে দেখা গেছে।

সড়কের পাশে বসবাস করা বাসিন্দারা বলেন, এমন কোন দিন নেই এই সড়কে দুর্ঘটনার স্বীকার হতে হচ্ছে না ছোট বড় যানবাহন চালকদের। ঈদের আগের দিন ওয়াপদায় রাত ৯টার সময় ৫টি গরুসহ একটি স্থানীয়ভাবে তৈরি করা ইঞ্জিনচালিত যান উল্টে হয়ে যায়। তার আগের দিন সারারাত আটকে থাকতে হয়েছে বালুবাহী একটি ট্রাক।

প্রায় প্রতিদিনই নসিমনসহ সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো: নায়েব আলী শেখ এর বাড়ির সামনে দেখতে ডোবার মতো সেখানে উল্টে হাবুডুবু অবস্থায় দেখা যায়। ঈদের নামাজের পর ছোট ছোট দুইটি বাচ্চা নিয়ে মোটরসাইকেলসহ চালককে সড়কের মাঝে গর্তে পড়ে যেতেও দেখা গেছে।

উপজেলা সদরের পাশেই বসবাসরত মারুফ মোল্লা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মোটরসাইকেল ছিল বিক্রি করে দিয়েছি। কারণ সদরের সড়কের যে অবস্থা মোটরসাইকেল চালানোও দায়। তবে ঈদের আগে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সড়কটি অন্তত পায়ে হাটার উপযোগী করবে বলে আশা করেছিলাম তাও তো দেখলাম না।

সদর এলাকায় বসবাসকারী কাজী অংকনসহ ঈদে নামাজ পড়তে আসা একাধিক চাকরিজীবি বলেন, আ.লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দেশের দৃশ্যমান উন্নয়ন ঘটছে। বালিয়াকান্দি সদরের সড়কগুলো বছরের পর বছর বেহাল অবস্থা থাকলেও দেখছে না কেউ। উপজেলা সদরে বসবাস করেও পায়ে হেটে বাজার করতে যেতে পারি না।

ঈদের নামাজ পরে বিকল্প সড়ক হিসেবে পাইলট স্কুলের বারান্দা ব্যবহার করতে হয়েছে। তবে সড়কে নূন্যতম চলাচল উপযোগী করার ক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের স্বদিচ্ছার অভাব রয়েছে বলেও তারা দাবী করেন।

বালিয়াকান্দি উপজেলা প্রকৌশলী সজল কুমার দত্ত বলেন, বালিয়াকান্দি জিসি টু মৃগী জিসি রোড এর ১২.৩০ কিলোমিটার এবং বালিয়াকান্দি জিসি টু মধুখালী জিসি রোড ৪.৫৩ কিলোমিটার দুইটি রোড আরসিআইপি প্রকল্প ভুক্ত হয়েছে যা বিদেশী অর্থায়ানে হবে, বিধায় সময় লাগছে। সদরের সড়কের অচলাবস্থা দুর করতে জরুরী ভিত্তিতে মেরামত করা হবে। যা অক্টোবরের মধ্যেই আরম্ভ হবে।

তিনি বলেন সড়ক সংস্কারের থেকে বড় চ্যালেঞ্জ ভারী যানবাহন চলাচলে লাগাম টানা। ভারী যানবাহনের কারণে কয়েক দিনেই নষ্ট হয়ে যায়। এ কারণে কিছু পিলার স্থাপন করা হবে যাতে করে ১০চাকার ট্রাকসহ ভারী যানবাহন চলাচল না করতে পারে।

জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী সড়কের বেহাল দশার বিষয়টি স্বীকার করে এর আগে জানিয়েছিলেন, সড়কটি প্রকল্পভুক্ত হওয়ায় সময় লাগবে, তবে আশা করছি খুব শীঘ্রই হবে। ২০১৯ সালের মধ্যে হবে কি না এমনটি নিশ্চিত করতে পারেননি এই কর্মকর্তা।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, কয়েকদিন আগে সড়কটি সংস্কার করা হয়েছে কিন্তু ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে যা ছিল তাই হয়ে গেছে।

আগামীকাল থেকেই সড়কটিতে মোটামুটি চলাচল উপযোগী করার মতো কাজ শুরু করব। তবে ভারী ট্রাকগুলোকে যদি নিয়ন্ত্রণ করা যায় তবে সড়কগুলো টেকসই হবে।

তারপর প্রকল্পের কাজ হলে তো সব সমস্যার সমাধান সেটাও দ্রুতই হবে। আমি এই সড়কগুলোকে উন্নয়নে প্রতিনিয়ত জোর চেষ্টা চালাচ্ছি। জনসাধারণের দুর্ভোগে আমিও কষ্ট পাচ্ছি বলেও তিনি জানান।

এমআর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত