শিরোনাম
জন দুর্ভোগ চরমে

৩ যুগেও সম্প্রসারিত হয়নি টাঙ্গাইলের বাস টার্মিনাল

রাইসুল ইসলাম লিটন, টাঙ্গাইল  |  ১৭:৫২, আগস্ট ১৮, ২০১৯

৩৭ বছরে যানবাহন ৪ গুণ বাড়লেও সম্প্রসারিত হয়নি টাঙ্গাইল নতুন টার্মিনাল। ফলে প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে যাত্রী সাধারণ ও টার্মিনাল সংলগ্ন দেওলা, কোদালিয়া ও সাবালিয়ার এলাকাবাসীর।

এই টার্মিনাল লাগোয়া টাঙ্গাইল ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনালের হাসপাতাল এ সেবা নিতে আসা রোগী ও তার আত্মীয় স্বজনদের প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে এই টার্মিনালের জন্য।

জানা যায়, ১৯৮১ সালে টাঙ্গাইল-ময়মেনসিংহ সড়কের দেওলা এলাকায় ৩ একর জায়গার উপর এই টার্মিনালটি স্থাপন করা হয়। সে সময় এটার অবস্থান ছিল শহর থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার দূরে।

বর্তমানে শহর সম্প্রসারিত হয়ে এর আশে পাশে ঘন বসতি গড়ে উঠেছে। এছাড়া শেখ হাসিনার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের নতুন ভবন উদ্বোধনের অপেক্ষায়।

এই মেডিকেল কলেজ পুরোপুরি চালু হলে হাসাপাতাল মুখী যে জনতা তৈরি হবে তখন টার্মিনালের কারণে জনদূভোগ চরম আকার ধারণ করবে। এছাড়া দ্রুত গতির যান-বাহনের কারণে রাস্তা পার হয়ে হাসপাতালে প্রবেশ করাও দুরহ হয়ে পড়বে।

মালিক ও শ্রমিক সূত্রে জানা যায়, যখন এই বাস টামিনাল যাত্রা শুরু করে তখন বাসের সংখ্যা ছিল ২৫০টি । বর্তমানে বাস-মিনিবাস রয়েছে ১০০০ হাজারেও বেশি।

ফলে গত ৪ দশকে গাড়ির সংখ্যা ৪ গুণ বৃদ্ধি পেলেও টার্মিনাল এর জায়গা বাড়েনি এক শতাংশও। বরং সম্প্রতি টাঙ্গাইল জেলা পরিষদ টার্মিনালের পাশে ১.৩৩ একর জায়গায় একটি বহুতল বাণিজ্যিক ভবন ‘বির্বতন’ তৈরি করছে। যেখানে আগে বেশ কিছু বাস-মিনি বাস রাখা হতো।

এ ছাড়া টার্মিনাল ভবনের দু’পাশেই পৌর মার্কেট হওয়ায় দোকানগুলোর সামনে বাস দাঁড়াতে দেয় না বলে জানা গেছে।

এই টার্মিনালের রাস্তার পূর্বপাশেই গড়ে উঠেছে বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রান্তে চলাচলকারী বাস কাউন্টার। এ কাউন্টারগুলো আগে ছিল না। এসব বাস প্রায় সময়ই স্ট্যান্ডের পূর্বপাশে রাস্তার উপর রাখা হয়।

ফলে প্রতিনিয়ত সাধারণ যাত্রী ও আশে পাশে বসবাসরত এলাকাবাসীর দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে রোগী পরিবহনের অ্যাম্বুলেন্স যাতায়াতে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। ক্ষেত্র বিশেষে এসব অ্যাম্বুলেন্সকে দীর্ঘক্ষণ ধরে অপেক্ষা করতে হয় নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকা পার হতে।

এ প্রসঙ্গে ঘাটাইল থেকে রোগী বহন করা অ্যাম্বুলেস চালক আ. আলিম জানান, প্রতিদিন রোগী নিয়ে এসে আমাদের এভাবে দাঁডিয়ে থাকতে হয় টার্মিনালে যানজটের কারণে। বিশেষ করে টাঙ্গাইলের উত্তরাঞ্চলের ৬টি উপজেলার রোগী পরিবহনে সবচেয়ে অসুবিধা হয়। বিকল্প রাস্তায় অনেক ঘুরে আসতে হয় বিধায় যানজট থাকলেও বাধ্য হয়ে এ টার্মিনালের রাস্তা ব্যবহার করি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বাসযাত্রী বলেন, টাঙ্গাইল নতুন বাস টার্মিনালটি বর্তমান স্থান থেকে সরিয়ে বাইপাসের কাছে নেয়ার দাবি জানাই। যত দ্রুত এই বাস টার্মিনালটি সরানো হবে ততোই টাঙ্গাইল শহরের জন্য মঙ্গল।

তিনি বলেন, নতুন বাস টার্মিনালকে কেন্দ্র করে একটি অপরাধী চক্র গড়ে উঠেছে তারা বিভিন্নভাবে যাত্রী ও পথচারীদের হয়রানি করে। তাই প্রশাসনের কাছে দাবি, এই টার্মিনালটি সরিয়ে শহরের বাইরে নেয়া হোক।

অটো চালক সামছু বলেন, আমি রাবনা বাইপাস হতে নতুন টার্মিনাল হয়ে নিরালা মোড়ে অটো চালাই। যখন এই টার্মিনালে এসে পৌঁছাই তখন আর সময় ঠিক রাখতে পারি না। বিশেষ করে সকালে আর বিকেলে যানজট বেশি হয়।

দেয়া এলাকার স্কুল ছাত্র রাকিব জানান, আমাদের স্কুলে যেতে খুব সমস্যা হয় এই টার্মিনালের কারণে। বিশেষ করে বৃষ্টির দিনে, গাড়ি আমাদের স্কুল ড্রেসে কাদা লাগিয়ে নষ্ট করে দেয়। এ ছাড়া অটোতে স্কুলে যাই। দেখুন কি যানজট কখন স্কুলে পৌঁছাব বলতে পারছি না।

টাঙ্গাইল বাস-মিনিবাস শ্রমিক সমিতির সহ-সভাপতি সেলিম রহমান বলেন, যখন ১৯৮১ সালে এই বাস টার্মিনাল চালু করা হয় তখন থেকেই আমি এখানে কাজ করছি।

এই টার্মিনালের কিছু জায়গায় অবৈধ সিএনজি স্ট্যান্ড করে জায়গা দখল করে রাখা হয়েছে। আগে জেলা পরিষদের জায়গায় কিছু বাস রাখা যেত। এখন ওখানে মার্কেট তৈরি হচ্ছে। ফলে গাড়ি রাখা যাচ্ছে না।

বাসস্ট্যান্ডের দুই পাশে পৌর মার্কেট হওয়ার সেখানে গাড়ি রাখতে দেয় না দোকান মালিকগণ। ফলে জায়গার অভাব হচ্ছে। যদি টার্মিনালের আশে পাশে সরকার কিছু জায়গা বরাদ্দ দেয় তাহলে আমাদের জন্য সুবিধা হয়।

এ প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন বলেন, শহর বেড়েছে, যান বাহনও বেড়েছে, সেই সাথে পাল্লা দিয়ে জনসংখ্যও বেড়েছে। ফলে বর্তমান বাস টার্মিনাল আর আতিরিক্ত বাস ধারণ করতে পারছে না। সরকারের কাছে আমাদের প্রস্তাব থাকবে এই টার্মিনালটির উর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ করে তিনতলা অথবা চারতলা করা যেতে পারে।

যদি উর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ করা হয় তাহলে নতুন করে জায়গার প্রয়োজন হবে না। সেখানে এক দিক দিয়ে বাস প্রবেশ করবে আরেকদিক দিয়ে বাস বের হয়ে যাবে। যাত্রীদের খাওয়া-দাওয়া বিশ্রামসহ যাবতীয় সুযোগ সুবিধা বাস রাখার পর্যাপ্ত জায়গা হবে।উন্নত বিশ্বের প্রায় সব দেশেই এই ধরণের বাস টার্মিনাল আছে।

আমাদের দেশেও শুরু করা হোক। বাস টার্মিনালটি হাসপাতাল সংলগ্ন হওয়ায় রোগীদের কোন সমস্যা হচ্ছে কিনা প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, না হচ্ছে না। যানবাহনের শব্দ কিংবা কোলাহল হাসপাতালে পৌঁছায় না।

টাঙ্গাইল ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপালের তত্বাবধায়ক ডাঃ নারায়ন চন্দ্র সাহা এ প্রসঙ্গে বলেন, টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসা সেবার মান উন্নয়নে হাসপাতালের সামনের রাস্তার দু’পাশের অবৈধ দোকান-পাট উচ্ছেদ করা অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া এই জায়গায় রাস্তা পার হয়ে হাসাপাতালে আসার জন্য একটি ফুট ওভার ব্রিজও জরুরি।

তিনি বলেন, বাস টার্মিনাল হাসপাতাল সংলগ্ন হওয়ায় বিভিন্ন ধরণের সমস্যা হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব রোগী হাসপাতালে ভর্তি তাদের রাতে শব্দের কারণে ঘুমাতে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও হার্টের রুগীদের সমস্যা বেশি।

বর্তমানে টাঙ্গাইলে জেনারেল হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ১০০০ রোগীকে সেবা দেয়া হয়। এরপর যখন মেডিকেল কলেজ পুর্ণাঙ্গ ভাবে চালু হবে তখন রোগীর পরিমাণ তিনগুণ হয়ে যাবে। তখন এই বাস টার্মিনাল একটি বড় সমস্যা তৈরি করবে।

টাঙ্গাইল পৌর সভার প্যানেল মেয়র মাহমুদা বেগম জেবু এ প্রসঙ্গে বলেন, বর্তমান স্থান থেকে বাস টার্মিনালটি রাবনা বাইপাস এলাকায় সরিয়ে নেয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে। আশা করি দ্রুত বাস টার্মিনালটি সরিয়ে নেয়ার অনুমোদন পাওয়া যাবে।

এমআর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত