শিরোনাম

নির্মাণের ৩ মাসেই ভেঙে পড়েছে সেতু

জাহাঙ্গীর আলম আলম, ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম)  |  ২৩:১৭, আগস্ট ১৮, ২০১৯

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের গ্রামীণ রাস্তা কমবেশি ১৫ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতু-কালভার্ট নির্মণি প্রকল্পের ২০১৭-১৮ অর্থবছরে অর্থায়নে ৩০ লাখ ৭৭ হাজার ৬৫৬ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতু হস্তান্তরের তিন মাস যেতে না যেতেই মধ্যে হেলে পড়েছে।

জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে সেতুটি জনসাধারণের চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হয়। ৪০ ফুট দৈর্ঘ্যের উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের পূর্ব-ধণিরাম গ্রামের আবাসনগামী বাঘখাওয়ার চর রাস্তার খালের উপর নির্মিত সেতুটির অ্যাপার্টমেন্ট ওয়াল ভেঙে হেলে পড়েছে।

সেতুটি দিয়ে পূর্ব ধণিরাম আবাসন ও বাঘখাওয়া চরের প্রায় হাজার মানুষ চলাচল করে আসছে। ফলে যাতায়াতের দুর্ভোগে পড়েছে মানুষ। এ ছাড়াও যেকোনো সময় সেতুটি পুরোপুরি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা।

সেতুটির নির্মাণ করেছেন কুড়িগ্রাম শহরের পুরাতন রেল স্টেশন এলাকার এ টি এম দেলদার হোসেন টিটু নামের এক ঠিকাদার। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, সেতুটি একটি স্রোতহীন নালার ওপরে নির্মাণ করা হয়েছে। এর দুই দিকেই বন্যায় মাটি সড়ে গেছে। একদিকে বাঁশের চাটাই দিয়ে চলাচলের করেছে এলাকাবাসীরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুটি নির্মাণের নিম্নমানের সময় কম বালু, কম বড়, কম সিমেন্ট ও মেশিন ছাড়া ঢালাই করার পরও সঠিক তদারকি না থাকায় অ্যাপার্টমেন্ট ওয়াল ভেঙে হেলে পড়েছে সেতুটি।

বাঘখাওয়া চর এলাকার শহর আলী, বজলে রহমান, মরিয়ম বেগম, নাজমা বেগম জানান, সেতুটি নির্মাণের সময় অনিয়ম দেখে বাধা দেয়ায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) তাদের হুমকি ও খারাপ গালিগালাজ করে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল হামিদ জানান, সেতুটি নির্মাণ প্রাক্কলন অনুযায়ী হয়নি। ফলে ধসে পড়েছে। ফুলবাড়ী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সবুজ কুমার গুপ্ত জানান, সম্প্রতি বন্যায় সেতুটির নিচ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় ক্ষতি হয়েছে।

এ ব্যাপারে ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাছুমা আরেফিন জানান, সেতুটি বন্যায় নাকি নিম্নমানের কাজের কারণে ভেঙে পড়েছে সেই বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তারা তদন্ত করে রিপোর্ট দিলেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত