শিরোনাম

চিকিৎসার অভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করছে একই পরিবারের ৩ জন

কারিমুল হাসান লিখন, ধুনট  |  ২৩:২০, আগস্ট ১৮, ২০১৯

বগুড়ার ধুনট উপজেলার কান্তনগরে অস্বচ্ছলতায় অর্থ ও চিকিৎসার অভাবে পঙ্গুত্বকে বরণ করে নিয়েছে একই পরিবারের তিন সদস্য। প্রতিবেশীদের সহযোগিতা থাকলেও স্থায়ী কোনো সমাধান আছে কি না তাদের জানা নেই।

দীর্ঘ দিন ধরে চালচুলোহীন জীর্ণ ঘরে বসবাস করে দুর্বিষহ জীবন যাপন করছে পরিবারটি। জানা যায়, উপজেলার কালেরপাড়া ইউনিয়নের কান্তনগর গ্রামের ৩ নং ওয়র্ডের বাসিন্দা আমির আলী। তিনি লিভার জন্ডিসে আক্রান্ত হয়ে অর্থ ও চিকিৎসা অভাবে প্রায় আট বছর আগে ইন্তেকাল করেন।

তার মৃত্যুর পর অভাবের সংসারে নেমে আসে ঘোর অন্ধকার। মৃত আমির আলীর স্ত্রী গোলাপী খাতুন প্রায় দুই মাস আগে প্রতিবেশীদের সাহায্যে পিত্তপাথর অপারেশন করেন। তার পর থেকে তিনিও শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন।

বর্তমানে তার দু’পায়ে শক্তি না থাকায় সে আর চলাচল করতে পারেন না। আমির আলী ও গোলাপীর দাম্পত্য জীবনে দুই মেয়ে ও এক ছেলের জন্ম হয়। বড় মেয়ে আতিয়া খাতুন (২০)। সে জন্ম থেকেই অন্ধ।

তার অন্ধত্ব জীবন চলাকালে শারীরিক নানা সমস্যার কারণে সেও এখন পঙ্গুত্ব বরণ করেছে। দিনরাত ২৪ ঘণ্টা শুয়ে থাকা তার কাছে দুর্বিষহ জীবন। ২০০৬ সালে তার প্রতিবন্ধী কার্ড ইস্যু হয়।

আতিয়ার ছোট বোন আরিফা আকতার (১৫)। সে শারীরিকভাবে একটু সুস্থ থাকলেও সংসারের তিন সদস্যের চিকিৎসা, সাংসারিক খরচ ও নিজের জীবনের অনিশ্চিত দীর্ঘ পথ তার জীবনে মানসিক চাপে পরিণত হয়েছে।

আমির আলী ও গোলাপীর দাম্পত্য জীবনে সর্বশেষ ছেলে সন্তান আবদুল্লাহ (১০)। সে গাবতলী উপজেলার নশিপুর হাফেজিয়া মাদ্রাসায় লেখাপড়া করছিল। বেশ কিছুদিন আগে সে টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়।

অভাবের সংসারে তার জ্বর ভালো হলেও শারীরিক নানা সমস্যার কারণে সেও এখন ঠিকমতো হাঁটতে পারে না। পায়ে শক্তি না পাওয়ায় চলাচলের সময় পড়ে যায়। অনেক সময় তাকে লাঠির সাহায্যে চলতে হয়।

মৃত আমির আলীর পরিবারে আয় রোজগারের কেউ নেই। স্বামী আমির আলীর রেখে যাওয়া ছয় শতাংশ জায়গায় জরাজীর্ণ ঘরে গোলাপী আকতার তিন সন্তান নিয়ে বসবাস করে আসছেন।

সরেজমিন দেখা যায়, তাদের সম্বল বলতে বাড়ির ছয় শতাংশ জমি। চাল নেই চুলো নেই, নেই কোনো গৃহপালিত পশু। কতদিন যে তাদের চুলোয় আগুন জ্বলেনি তা বাড়ির পরিবেশ দেখেই বোঝা যায়।

একটি পরিবারের কর্তা না থাকায় বাড়ির ভেতরটা কেন ভূতের পরিবেশ হয় সেটা কারো অজানা নয়। পরিবারের অসুস্থ ব্যক্তিদের নিয়ে নির্ঘুম রাত্রী যাপন করে পরিবারের ছোট মেয়ে আরিফা আক্তার। দুশ্চিন্তার বোঝা নিয়ে নিথর দেহ নিয়ে বিছানায় পড়ে থাকে মা গোলাপী খাতুন।

মেয়ে আতিয়া খাতুনের জীবনে দিনরাত্রি সমান অন্ধকার নিয়ে পঙ্গুত্ব জীবন নিয়ে মাটিতে পড়ে থাকে ২৪ ঘণ্টা। ছোট শিশু ছেলে সন্তান আবদুল্লাহ এখনো জীবনটাকে বুঝতেই শেখেনি।

সেও সুস্থতা হারিয়ে অসুস্থতার মাঝে হাবুডুবু খাচ্ছে। তাদের সংসার ও চিকিৎসা খরচ চালানো তাদের কারো পক্ষে সম্ভব নয়। এমন একটি দুর্বিষহ পরিবার সম্পূর্ণ প্রতিবেশীর ওপর নির্ভশীল। স্থানীয়রা তাদেরকে নানাভাবে আর্থিক সহযোগিতা করে আসছে।

এ সহযোগিতা কতদিন? চালচুলোহীন জীর্ণ ঘরে বসবাস করা এমন একটি পরিবারের জন্য স্থায়ী কি কোনো সমাধান আছে? এমনটাই প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন পঙ্গুত্ব বরণ করা গৃহকর্তী গোলাপী খাতুন।

স্থানীয়রা বলেন, প্রতিবেশী হিসেবে আমরা আমাদের সাধ্যমতো তাদের সহযোগিতা করার চেষ্টা করছি। যদি সরকারি বা বেসরকারিভাবে স্থায়ী কোনো সমাধান করা হয়, তাহলে তারা হয়তো এই সমাজে আরো অনেকের মতো জীবন চালাতে পারবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত