শিরোনাম

ভৈরবে সার্কেল ইন্সপেক্টরসহ দুই সিপাহীকে শোকজ

জামাল মিয়া, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ)  |  ১৯:১৯, আগস্ট ১৯, ২০১৯

ভৈরবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সার্কেল অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও আটক বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠেছে।

ফলে সার্কেল ইন্সপেক্টর মাসুদুর রহমানসহ দু’জন সিপাহীকে শোকজ নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। তাদেরকে আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দিতে সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে।

এছাড়াও সেন্টু রঞ্জন নাথ নামে একজন সাব ইন্সপেক্টরকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। মুঠোফোনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন কিশোরগঞ্জ জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. হাবীব তৌহিদ ইমাম।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, জেলার ১৩টি উপজেলার মধ্যে ৬টি উপজেলা নিয়ে ভৈরব মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সার্কেল অফিস। এই সার্কেল অফিস থেকে ভৈরবসহ কুলিয়ারচর, বাজিতপুর, নিকলী, অষ্টগ্রাম ও কটিয়াদী উপজেলায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

তাছাড়া সড়ক, রেল ও নৌ-পথে অবাদ যাতায়াতের কারণে মাদকের ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ভৈরবকে ব্যবহার করছে চোরাকারবারীরা। ফলে জেলার বাইরে ভৈরবে দেশের দ্বিতীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সার্কেল অফিস স্থাপন করা হয়।

একই সাথে দেশের বন্দরনগরী ভৈরবে মাদকের প্রবেশ বন্ধে এবং মাদক ব্যবসায়ী বা চোরাকাররীদের আটক করে আইনের হাতে সোর্পদ করতে এই সার্কেল অফিসে একজন ইন্সপেক্টর, একজন সাব ইন্সপেক্টর এবং মহিলাসহ ৩জন সিপাহী নিয়োগ দেয়া হয়। শহরের আমলাপড়ায় এই সার্কেল অফিস তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভৈরবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সার্কেল অফিস থাকলেও শহরের কমলপুর, পঞ্চবটি, চন্ডিবের, কালিপুরসহ উপজেলার শ্রীনগর, আগানগর, সাদেকপুর, গজারিয়া, শিবপুর, শিমুলকান্দি ও কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের পাড়া-মহল্লায় মাদকের ছড়াছড়ি। ফলে হাত বাড়ালেই মেলে মরণ নেশা ইয়াবা নামক ট্যবলেট।

শুধু তাই নয়, শহরের পাওয়ার হাউজের হরিজন কোলনী এবং চান্দানী টিলায় প্রতিদিন শত শত লিটার চোলাই মদ তৈরি হলেও নজর নেই সার্কেল অফিসের। এমনকি শহরের আমলা পাড়ায় খোদ সার্কেল অফিসের চারপাশে মাদকের ছড়াছড়ি থাকলে যেনো দেখার কেউ নেই। ফলে নির্বিগ্নে প্রকাশ্য দিবালোকে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছে মাদক ব্যবসায়ীরা। আর মাদকের টাকা যোগার করতে শহরে বাড়ছে চুরি, ছিনতাইয়ের ঘটনা। ফলে প্রায়ই ঘটছে হতাহতের ঘটনাও।

অনুসন্ধানে এবং স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানাগেছে, কয়েক মাস চাকরির সুবাদেই মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সার্কেল অফিসের লোকজনের সখ্যতা গড়ে ওঠে। ফলে প্রতি মাসে হাতিয়ে নেয় তারা মাসোহারা। মাঝে মধ্যে লোক দেখানো অভিযান পরিচালনা করলেও দেখাযায়, চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ীদের না ধরে গাঁজাসেবীদের আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে হাতেগোনা গুনা দু’একজন সাজা দেয়া হয়েছে।

আবার কখনও কখনও চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের কেউ আটক হলেও তাকে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, গেল ৩মাস আগে শিবপুর ইউনিয়নের শম্ভুপুর গ্রামের কালা মিয়া বাড়িতে অভিযান চালায় সার্কেল অফিসের লোকজন।

এসময় কালা মিয়াকে না পেয়ে ঘরের ভেতরে তল্লাশী করার সময় আলমিরাতে রাখা তার মেয়ের বেতনের দশ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ ওঠে সাব ইন্সপেক্টর সেন্টু রঞ্জন নাথ ও তার সহকর্মী সিপাহীদের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনার পরদিন কালা মিয়ার মেয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণায়সহ সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। যদিও এ ঘটনার সাথে জড়িতদের শাস্তি হয়েছে কিনা। এ বিষয়ে জানেন না কেউ।

এছাড়াও রেল স্টেশন এলাকা থেকে হাতকড়া পড়িয়ে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগও রয়েছে। শুধু তাই নয়, প্রায় এক বছর আগে ভৈরব সার্কেল অফিসে কর্মরত ইন্সপেক্টর কামনা শীর্ষ সরকারের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ ওঠে। ফলে তিনি মাদকসহ থানা পুলিশের হাতে আটক হন। পরে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়।

এ প্রসঙ্গে জানতে ভৈরব মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সার্কেল অফিসের ইন্সপেক্টর মাসুদুর রহমানের সাথে দেখা করতে গেল দু’সপ্তাহে ৩ বার গিয়েও তার দেখা মেলেনি। এমনকি অফিসের বাইরে তালা ঝুলতে দেখাযায়।

তাছাড়া দীর্ঘদিন ধরে সাইনবোর্ড না থাকার কারণে দূর থেকে এটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ভৈরব সার্কেল অফিস কিনা বুঝার কোনো উপায় নেই।

এ ব্যপারে কিশোরগঞ্জ জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. হাবীব তৌহিদ ইমাম মুঠোফোনে এ প্রতিবেদককে জানান, ইতিমধ্যে ভৈরব সার্কেল ইন্সপেক্টর মাসুদুর রহমানসহ দু’জন সিপাহীকে শোকজ করা করা হয়েছে।

তাদেরকে আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়াও সাব ইন্সপেক্টর সেন্টু রঞ্জন নাথকে অন্যত্র বদলী করেছে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। যদিও কোনো অভিযোগের কারণে তাকে বদলী করা হয়নি। তাছাড়া ৩ কার্যদিবসের মধ্যে যদি তারা শোকজের জবাব সন্তুষজনক দেয়, তাহলে তাদেরকে সর্তক করে দেয়া হবে।

আর যদি জবাব সন্তুষজনক না হয়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে জানানো হবে। এছাড়াও তিনি ভৈরব সার্কেল অফিসের নানা অনিয়মের কথা অকপটে স্বীকার করে বলেন, তাদের জন্য আমাকে চাপে থাকতে হয়।

আগেও এই অফিসের ইন্সপেক্টর কামনা শীষ সরকারের অপকর্মের কারণে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বদনাম হয়েছে। তাই, তার বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছেন উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ভৈরব সার্কেলের পরিদর্শক মাসুদুর রহমান সেন্টু রঞ্জন নাথকে অন্যত্র বদলির কথা স্বীকার করলেও তিনি ও তার অফিসের সিপাহী কার দর্শানোর নোটিশ পাননি বলে জানান। এছাড়া অফিসের সাইনবোর্ড না থাকার বিষয়ে তিনি বাজেট নেই বলে জানান।

এমআর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত