শিরোনাম

সুই-সুতা রেখেই প্রসূতির গোপনাঙ্গ সেলাই

রংপুর প্রতিনিধি  |  ১০:১৮, আগস্ট ২৩, ২০১৯

রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে সন্তান প্রসবের পর মায়ের বিশেষ অঙ্গে সুঁই-সুতা রেখেই সেলাই করে দিয়েছেন বলে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।

এতে গত দুই দিন ধরে হাসপাতালে যন্ত্রণায় ছটফট করছেন ওই প্রসূতি।

এ ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন প্রসূতির স্বজনরা।

ভুক্তভোগী প্রসূতির স্বামী তানজিদ জানান, মঙ্গলবার আফরোজার প্রসবব্যথা উঠলে বিকেল ৩টার দিকে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ওই দিন রাত পৌনে ৮টার দিকে আফরোজাকে অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয়।

স্বাভাবিক ডেলিভারির জন্য আফরোজার বিশেষ অঙ্গে অস্ত্রোপচার করা হয়। কন্যা সন্তান প্রসবের পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাকে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়।

এদিকে অস্ত্রোপচারের পর থেকেই অসহ্য ব্যথায় ছটফট করতে থাকেন প্রসূতি। শুরু হয় রক্তক্ষরণ। একপর্যায়ে বিষয়টি চিকিৎসককে জানালে তারা বৃহস্পতিবার সকালে এক্স-রে করার পরামর্শ দেন।

চিকিৎসকদের পরামর্শে বেসরকারি একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে গিয়ে এক্স-রে করালে প্রসূতির বিশেষ অঙ্গের ভেতর সুঁই-সুতার অস্তিত্ব পাওয়া যায়।

প্রসূতির নানি শাশুড়ি রেজিয়া বেগম অভিযোগ করে বলেন, অপারেশন থিয়েটারে কোনো চিকিৎসক তার অপারেশন করেনি। নার্স দিয়ে অপারেশন করা হয়েছে।

এ সময় প্রসূতি ব্যথায় ছটফট করতে থাকলে তাকে চড়-থাপ্পড়ও মারেন কর্তব্যরত নার্সরা।

প্রসূতি আফরোজা বলেন, ব্যথায় ছটফট করলেও কর্তব্যরত নার্স ও চিকিৎসকরা তার কথা শোনেননি। উল্টো অপারেশন থিয়েটারেই তাকে চড়-থাপ্পড় মারেন কর্তব্যরত নার্সরা।

এদিকে, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শারমিন সুলতানা লাকী বলেন, ভুলক্রমে এটা হয়েছে। রোগীর সুচিকিৎসায় পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. সুলতান আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে তার কক্ষে গেলে অফিস সহকারী বলেন, স্যার, ঢাকায়। পরে তার মোবাইল ফোনে কল দেয়া হলেও তা রিসিভ হয়নি।

জেডআই

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত