শিরোনাম

কোটি শ্রমজীবীর জন্য ৭ আদালত

প্রিন্ট সংস্করণ॥নাজমুল আহসান রাজু  |  ০০:৫১, মে ২৬, ২০১৯

দেশে এক কোটি শ্রমজীবীর জন্য রয়েছে মাত্র ৭টি শ্রম আদালত। শ্রম বিরোধ ও শ্রম আইন লঙ্ঘনের জন্য শ্রম আদালতেই প্রতিকার চাইতে হয়। আইনে ৬০ কার্যদিবসে মামলা নিষ্পত্তির সময়সীমা বেঁধে দেয়া থাকলেও ছয় মাসেও নিষ্পত্তি হয়নি এমন মামলা রয়েছে মোট মামলার ৬০ ভাগ। ধীরগতির বিচার প্রক্রিয়ার কারণে শ্রমজীবী বিচারপ্রার্থীরা কাঙ্ক্ষিত সুফল থেকে বঞ্চিত।

সূত্র জানিয়েছে, ১৭ হাজার ৬০৮টি মামলা বিচারাধীন শ্রম আদালতে। এর মধ্যে ছয় মাস ধরে ঝুলছে ১০ হাজার ৮৩৮ মামলা। তিন মাসের বেশি সময় ধরে বিচারাধীন রয়েছে ৬৪৯৫টি মামলা।

আর এক মাস ধরে আছে ৩২৭৫টি মামলা। বিচারাধীন এসব মামলা বেশিরভাগই গার্মেন্ট খাতের শ্রম বিরোধ ও শ্রম আইন লঙ্ঘন থেকে উদ্ভূত। কারখানা বন্ধ ঘোষণা, চাকরিচ্যুতি, অবসরের পর সুবিধাদি না দেয়া, বেতন আটকে রাখা, বিলম্বে বেতন দেয়ার অভিযোগ করেছেন শ্রমিক-কর্মচারীরা।

আশা করা হচ্ছে শ্রম আইনের মামলা জট কমাতে আরও ৩টি বিভাগীয় শহরে আদালত স্থাপন করতে যাচ্ছে সরকার। সিলেট, বরিশাল ও রংপুরে এ তিনটি আদালত স্থাপন করা হবে। এতে করে শ্রম আইনে করা মামলা সংখ্যা কমবে বলে আশা করছেন আইন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা।

বর্তমানে শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালে ১০৪৭টি আপিল বিচারাধীন। ৪৫৭৬টি মামলা ঢাকার প্রথম শ্রম আদালতে, ৫২৬৩টি মামলা ঢাকার দ্বিতীয় শ্রম আদালতে, ৪০০৫টি মামলা ঢাকার ৩য় শ্রম আদালতে। আর চট্টগ্রামের প্রথম শ্রম আদালতে ১৫১০টি, দ্বিতীয় শ্রম আদালতে ৫৮৭টি। রাজশাহীর শ্রম আদালতে ৪১৫টি এবং খুলনার শ্রম আদালতে বিচারাধীন ২১৪টি মামলা।

রাজধানীর একটি খ্যাতনামা গার্মেন্ট প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন আইয়ুব আলী। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে কাজ করার পর ২০১৮ সালের ১ জুলাই চাকরিচ্যুত করা হয় আইয়ুবকে। চাকরিচ্যুত করা হলেও গ্রাচুইটি ও প্রভিডেন্ড তহবিলের কোনো অর্থ দেয়া হয়নি তাকে। এতে সংক্ষুব্ধ হয়ে শ্রম আদালতে মামলা করেছেন তিনি। গত বছর ১ সেপ্টেম্বর মামলা করলেও এখনো তার মামলাটি চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হয়নি।

আলেয়া খাতুনসহ ১০ জন গার্মেন্ট শ্রমিক এসেছেন রাজধানীর আশুলিয়া থেকে। সেখানে রয়্যাল ডেনিম নামে একটি গার্মেন্ট কারখানায় চাকরি করেছেন। প্রতিষ্ঠানটি চলতি বছর ‘লে অফ’ ঘোষণা করা হলে তাদের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। কর্তৃপক্ষ কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ দেয়নি তাদের। উল্টো দুই মাসের বকেয়া রয়েছে তাদের। বকেয়া পাওয়া ও ক্ষতিপূরণ পেতে তারা শ্রম আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।

মো. আবুল হাশেম মজুমদার ১৯৮৭ সালের ১৫ মে বেসরকারি দি সিটি ব্যাংকে টাইপিস্ট পদে যোগ দেন। পরে তিনি জ্যেষ্ঠ কম্পিউটার অপারেটর পদে পদোন্নতি পান। ২০১৩ সালের ৮ মে তাকে পদ থেকে চাকরিচ্যুত করা হলে তিনি শ্রম আদালতে মামলা করেন।

শ্রম আইন ২০০৬ এর ৩৩(১) ধারায় করা মামলায় তাকে চাকরিতে পুনর্বহাল এবং প্রাপ্য সুবিধাদি ফেরত দেয়ার আর্জি রয়েছে। শ্রম আদালতে তিনি চাকরিতে পুনর্বহালের নির্দেশ পেলেও ব্যাংক কর্তপক্ষ আপিল করায় তা চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। এরমধ্যে চাকরি হারানোর ৬ বছর গড়িয়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী দেশে প্রাতিষ্ঠানিক শ্রমিকের সংখ্যা রয়েছে ৬৭ লাখ ৮৭ হাজার। যারা মূলত সরকারি-বেসরকারি সংস্থায় নিয়মিত শ্রম দিয়ে থাকেন। এসব সংস্থার মধ্যে রয়েছে— পাট, টেক্সটাইল, চিনি, কাগজ, গার্মেন্ট, হালকা যান, পরিবহন, ট্যানারি, চা ও নৌযান শ্রমিক। এরমধ্যে সরকারি কর্মচারীদের জন্য পৃথক প্রশাসনিক আদালত রয়েছে।

শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার অধীর চন্দ্র বালা জানিয়েছেন, মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ ও সাক্ষী না আসার কারণে মামলাজট বাড়ছে। পাশাপাশি ফরিয়াদির সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু সেই তুলনায় আদালতের সংখ্যা কম। আশার কথা হচ্ছে আরও তিনটি বিভাগীয় শহরে সরকার শ্রম আদালত প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছে। এগুলো প্রতিষ্ঠা হলে আরও বেশিসংখ্যাক আইনগত প্রতিকার পাবেন।

আইন মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, ১৯৭২ সালে শ্রম আদালত প্রতিষ্ঠা করা হয়। এর মধ্যে ঢাকা, রাজশাহী ও খুলনার শ্রম আদালত ছিল। পরবর্তীতে ১৯৯৪ সালে চট্টগ্রামে প্রতিষ্ঠা করা হয় শ্রম আদালত।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত