শিরোনাম

উন্নয়নের ছোঁয়া নেই উত্তরে

প্রিন্ট সংস্করণ॥জাহাঙ্গীর আলম  |  ০২:২০, মে ২৭, ২০১৯

বছরের পর বছর কেটে গেলেও ঢাকা উত্তর সিটিতে যুক্ত নতুন ১৮টি ওয়ার্ডের সড়কগুলো এখনো খানাখন্দে ভরা। সন্ধ্যার পর বাতির অভাবে ভুতুড়ে পরিবেশের সৃষ্টি হয়, অন্ধকারে পথ চলাই কঠিন। ড্রেনের অভাবে জলাবদ্ধতা নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে গেছে।

এসব সমস্যা দূর করতে উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এ জন্য ৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি ব্যয় করা হবে। যাতে সড়ক উন্নয়ন, পানি নিষ্কাশন ও পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা থাকে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা ও বিদেশ প্রশিক্ষণে প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।

ভাড়া গাড়ি ব্যবহারে ২ লাখ ৮ হাজার ৪৪০ লিটার তেলে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২ কোটি টাকা। যা অনেক বেশি। প্রকল্পটি খুব শিগগিরই জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি-একনেক সভায় অনুমোদন পেতে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, ২০১১ সালের ৪ ডিসেম্বর ঢাকা সিটি কর্পোরেশন দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায়। এরপর ২০১৬ সালের ২৮ জুন উত্তর সিটিতে ১৮টি ওয়ার্ড নতুন করে যুক্ত হয়।

এর ফলে প্রায় ৮৩ বর্গকিলোমিটার এ সিটির পরিধি বেড়ে ১১৪ দশমিক ৫৬ বর্গকিলোমিটারে প্রসারিত হয়েছে। সবার মনে স্বপ্ন দানা বাঁধে— এবার হয়তো উন্নয়ন হবে। কিন্তু প্রায় ৩ বছর কেটে গেলেও উন্নত সড়ক, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ও সড়কে আলোর মুখ দেখেনি তারা। ফাইল ঠেলাঠেলিতে কেটে গেছে দীর্ঘ কয়েক বছর।

তাই দেরিতে হলেও সব সেবা নিশ্চিত করতে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সমপ্রসারিত অর্থাৎ নতুন যোগ হওয়া ১৮টি ওয়ার্ড ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন।

বিভিন্ন সমস্যা দূর করতে ‘ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে নতুনভাবে অন্তর্ভুক্ত ১৮টি ওয়ার্ডের সড়ক অবকাঠামো ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার নির্মাণ ও উন্নয়ন’ প্রকল্পটি তৈরি করে অনুমোদনের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে কয়েক মাস আগে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে।

প্রকল্পটি ২০১৯ সালের জুলাই থেকে ২০২২ সালের জুনে বাস্তবায়ন করা হবে। এর আওতায় সড়ক উন্নয়ন নির্মাণ করা হবে ১৭৯ কিলোমিটার। তাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৩৮
দশমিক ৭৯ কোটি টাকা। নর্দমা নির্মাণ ও উন্নয়ন করা হবে ২৩০ কিলোমিটার, এতে ব্যয় করা হবে ১ হাজার ৫০ কোটি ২৫ লাখ টাকা। রাস্তায় এলইডি বৈদ্যুতিক বাতি স্থাপন করা হবে প্রায় ২০ হাজার। তাতে ব্যয় করা হবে ১২০ কোটি টাকা।

ভূমি অধিগ্রহণ করা হবে ২০৮ দশমিক ৫ বিঘা। এ কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৮৪৮ কোটি টাকা। এছাড়া ২৮ কিলোমিটার খাল উন্নয়নের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসনেরও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে অফিসারদের বেতনের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা।

তাদের উৎসবভাতা দেয়া হবে ৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে ৪৩টি মোটরসাইকেল কেনা হবে। ১৪৪টি গাড়ি ভাড়া করে চালানো হবে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে এক কোটি ৪৪ লাখ টাকা। ওই সব গাড়ি ব্যবহারে ২ লাখ ৮ হাজার ৪৪০ লিটার তেল ব্যবহার করা হবে। এতে অর্থ ব্যয় করা হবে ১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।

শুধু তাই নয়, বিদেশে প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাতে বিশাল অংকের তিন কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এছাড়া অন্য আরও অঙ্গ রয়েছে। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ২৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। তা যাচাই-বাছাই করতে পরিকল্পনা কমিশনে সম্প্রতি প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি-পিইসি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় কিছু ব্যাপারে আপত্তি করে সংশোধন করতে বলা হয়। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব-ডিপিপি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। তাই বাকি কাজ শেষ করে খুব শিগগিরই একনেক সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে বলে সূত্র জানায়।

সূত্র আরও জানায়, ২০১৬ সালের ৯ মে প্রাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটিতে (নিকার) ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে আটটি করে ইউনিয়ন যুক্তের সিদ্ধান্ত হয়। পরবর্তীতে নবগঠিত ৩৬টি ওয়ার্ডকে দশটি অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়।

গত বছরের ৩০ জুলাই ডিএসসিসির শ্যামপুর, দনিয়া, মাতুয়াইল, সারুলিয়া, ডেমরা, মান্ডা, দক্ষিণগাঁও ও নাসিরাবাদ ইউনিয়নকে ৫৮, ৫৯, ৬০, ৬১, ৬২, ৬৩, ৬৪, ৬৫, ৬৬, ৬৭, ৬৮, ৬৯, ৭০, ৭১, ৭২, ৭৩, ৭৪ ও ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডে বিভক্ত করা হয়।

অপরদিকে, ডিএনসিসির অন্তর্ভুক্ত বাড্ডা, ভাটারা, সাতারকুল, বেরাইদ, ডুমনি, উত্তরখান, দক্ষিণখান ও হরিরামপুর ইউনিয়নকে ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪১, ৪২, ৪৩, ৪৪, ৪৫, ৪৬, ৪৭, ৪৮, ৪৯, ৫০, ৫১, ৫২, ৫৩ ও ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডে বিভক্ত করা হয়।

অপরদিকে ডিএনসিসিরর উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত হরিরামপুর ইউনিয়ন এবং পূর্বাঞ্চলের উত্তরখান, দক্ষিণখান, বাড্ডা, বেরাইদ, ডুমনি, সাতারকুল ও ভাটারা ইউনিয়ন ১৮টি ওয়ার্ডে বিভক্ত করে ডিএনসিসিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ফলে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আয়তনও বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন সংস্থার সমন্বহীনতায় দীর্ঘ সময়েও লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত