শিরোনাম

‘বিশেষ গোষ্ঠী নয় নতুন বাজেটে জনসাধারণের কল্যাণ চাই’

নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ১২:৩২, জুন ১৩, ২০১৯

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমদ আসন্ন বাজেটকে বাস্তবমুখী করার পরামর্শ দিয়েছেন।

আমার সংবাদের সঙ্গে কথোপকথনে তিনি বলেন, গত কয়েক বছর ধরেই বিশাল আকারের বাজেট দেওয়া হচ্ছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। পাঁচ লাখ কোটি টাকারও বেশি বাজেট দেওয়া হবে। এটা এক হিসেবে বেশি নয়। কিন্তু বাজেটটা যেন বাস্তবমুখী হয়। এটা না হলে বাজেটের সফলতা পাওয়া যাবে না।

তিনি বলেন, বিরাট বাজেট দিয়ে সেটা ভালোভাবে বাস্তবায়ন করা না গেলে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে। অনেক সময় বাজেটে একটি বিশাল ঘাটতি থাকে, আয় ও ব্যয়ের মধ্যে অনেক ফারাক থাকে। বিশাল খাটতি হলে সরকার বিশাল ট্যাক্স, ফি ইত্যাদির লক্ষ্য নির্ধারণ করে। সরকারের রাজস্ব আয়ের যে লক্ষ্য থাকে, তা পূরণ হয় না। অন্যদিকে মানুষের ভোগান্তি বাড়ে।

বাজেটের ঘাটতি এড়ানোর জন্য এনবিআর নানা ধরনের চাপ তৈরি করে। কর, ট্যাক্স এবং নানা ধরনের ফি আরোপ করে। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়ে। মানুষ বিরক্ত হয়। ব্যবসায়ীরা তো ভুক্তভোগী হয়ই, সাধারণ মানুষও এই ভোগান্তি থেকে রেহাই পায় না। অতএব বাজেট দেওয়ার সময় আয়ের উৎস ও কাঠামো ঠিক রাখতে হবে, তখন ব্যয়টাও যুক্তিসংগত ও ফলপ্রসূ হবে।

তিনি বলেন, বাজেট থেকে আপামর জনসাধারণ যেন উপকৃত হয়। এ জন্য একটা কল্যাণমুখী এবং গণবাজেট প্রয়োজন। যাতে সার্বিকভাবে মানুষ বাজেট থেকে উপকার লাভ করে। শুধু বিশেষ গোষ্ঠী ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায় বা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রণোদনা দিলেই হবে না, নতুন বাজেটের ফলে সাধারণ মানুষ যেন উপকৃত হয়, সে বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে।

বাজেটের সুফলটা সবাইকে পেতে হবে। বাংলাদেশকে কল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হলে বাজেট জনকল্যাণমুখী করতে হবে। শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং প্রবৃদ্ধি হতে থাকবে, এমন নয়। অর্থনৈতিক উন্নয়ন হলে আরও কিছু বিষয় সামনে আসবে। রপ্তানি বাড়বে, রেমিট্যান্স বাড়বে; কিন্তু এগুলো কিছু সুযোগ মাত্র। জীবনযাত্রার মানও বাড়তে হবে। মানুষের সামাজিক নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

আরেকটি বিষয়ে বাজেটে গুরুত্ব দিতে হবে, তাহলো কর্মসংস্থান তৈরিতে জোর দিতে হবে। বাজেটের প্রধান যেসব দিক থাকবে, এর মধ্যে এগুলো অন্যতম একটি লক্ষ্য হওয়া উচিত। এজন্য বাজেটে শিল্পোন্নয়নের দিকে জোর দেওয়া উচিত। শিল্প বলতে শুধু রপ্তানি শিল্প নয়। দেশের ভেতরে যে ছোট-বড় ও মাঝারি শিল্প আছে, সেগুলোর উন্নতি করতে হবে।

আমাদের এখানে বর্তমানে সেবা খাত থেকে ভালো আয় হচ্ছে। এখন দরকার শিল্পোন্নয়নে জোর দেওয়া। ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ বাড়লে কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে। আর উন্নয়নটা যেন শুধু কেন্দ্রমুখী না হয়। উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধি প্রচুর পরিমাণে হচ্ছে, সন্দেহ নেই। কিন্তু লক্ষ্য রাখতে হবে, উন্নয়নটা যেন শুধু ঢাকা এবং কিছু বড় শহরকেন্দ্রিক না হয়। সব ধরনের উন্নয়নের সুবিধা ও সুফল যেন সারা দেশের মানুষ উপভোগ করতে পারে, সেদিকে নজর দিতে হবে।

প্রণোদনার ক্ষেত্রে আরও বেশি সতর্ক হতে হবে। প্রণোদনা যেটা দেওয়া হয় সেটা কিন্তু বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে এবং নির্বাচিত কিছু প্রতিষ্ঠানকে। ভর্তুকি যারা পায়, তারা পেয়েই যায়। এ ধারা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। প্রণোদনার ব্যপ্তি বাড়াতে হবে। সুনির্দিষ্ট খাতে এটা সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না।

ট্যাক্সের ক্ষেত্রেও আওতা বাড়াতে হবে। প্রতিবছর যারা ট্যাক্স দিচ্ছেন, তাদের ওপরেই শুধু চড়াও হলে হবে না। বহু লোকের টিন নম্বর আছে, কিন্তু তারা ট্যাক্স দিচ্ছেন না। এ ছাড়া ঢাকা শহরেও অনেক ব্যবসায়ী আছেন, যারা ট্যাক্সের আওতায় নেই। শনাক্ত করে তাদের কাছ থেকে ট্যাক্স আদায় করতে হবে।

আরআর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত