শিরোনাম

বয়স বৃদ্ধির আন্দোলন বৃহৎ গণজমায়েতের প্রস্তুতি

প্রিন্ট সংস্করণ॥রাসেল মাহমুদ  |  ০৫:২৫, জুন ১৯, ২০১৯

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩০ বছর থেকে বাড়িয়ে ৩৫ বছর করার দাবিতে এবার বৃহৎ গণজমায়েতের প্রস্তুতি নিচ্ছে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র পরিষদ।

ইতোমধ্যে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।

ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ৬ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে জমায়েত হতে চায় আন্দোলনকারীরা।

সম্প্রতি আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া বিবাদমান দুটি পক্ষ যৌথভাবে এ কর্মসূচি ঘোষণা করে।

আন্দোলনকারীরা বলছেন, অন্যান্য যেকোনো সময়ের তুলনায় এবার উপস্থিতি বেশি হবে। তাই ৩৫ বছরের দাবিতে সর্বাত্মক আন্দোলন গড়ে তুলতে এই সমাবেশ গণজামায়েতে রূপ নেবে।

টানা কয়েক বছর ধরে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩০ বছর থেকে ৩৫ বছর করার দাবিতে আন্দোলন করে আসছিলেন চাকরিপ্রার্থীরা।

তবে এখন পর্যন্ত আশ্বাস ছাড়া কিছুই মেলেনি।

সবশেষে জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটে ৩৫ বছরের দাবিটি নাকচ হয়। ফলে যেটুকু আশা ছিলো তাও নিরাশায় রূপ নেয়।

তবে জাতীয় সংসদে নাকচ হলেও আন্দোলন থেকে পিছপা হননি চাকরিপ্রত্যাশীরা।

বরং পূর্ণ উদ্যোম নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন করা হবে বলে সংবাদ সম্মেলন করে ঘোষণা দেয় আন্দোলনকারীরা।

সেই ঘোষণা অনুযায়ী সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন-অর-রশিদ আমার সংবাদকে বলেন, গত শনিবার সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটি একটি সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ওই সভায় বিবদমান পক্ষ দুটির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থেকে যৌথভাবে সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেয়।

তিনি আরও বলেন, সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ৬ জুলাই এ কর্মসূচি পালিত হবে।

আর কর্মসূচি বাস্তবায়নে ঢাকাসহ সারা দেশের জেলা সমন্বয়ক কমিটি তাদের সকল ইউনিটকে সাথে নিয়ে উক্ত কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকবে বলে আমরা আশা করছি।

সংগঠনটির অন্য একটির পক্ষের নেতৃত্ব দেওয়া ইমতিয়াজ হোসেন গণজমায়েতের প্রস্তুতি সম্পর্কে বলেন, সারা দেশের ৩৫ প্রত্যাশী সহযোদ্ধারা আমরা এখন সকলেই একত্রিত হয়েছি। যেখানে কোনো গ্রুপিংয়ের অস্তিত্ব নেই। ৬ জুলাইয়ের কর্মসূচি নিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এইদিন বৃহৎ একটি গণজমায়েত করার ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছি। সারা দেশের প্রতিটি জেলা থেকে ৩৫ চাই আন্দোলনকারীরা যোগ দিবেন। আমাদের যৌক্তিক দাবির সবার সম্মতি রয়েছে।

তাই শক্তিশালী ও জোরালোভাবে আমাদের চাওয়া উপস্থাপন করতে পারলে শিগগিরই একটি সুখবর পাওয়ার আশা করছি।

তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের সঙ্গেও আমাদের সাক্ষাৎ হয়েছে। এসময় ছাত্রলীগের নেতৃস্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন। তিনিও আশ্বস্ত করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছেও আমাদের দাবি উপস্থাপনের চেষ্টা চালাচ্ছি।

আন্দোলনকারীদের মধ্যে নেতৃত্ব নিয়ে পূর্বে যে দ্বন্দ্ব ছিলো বর্তমানে তা নেই উল্লেখ করে ইমতিয়াজ বলেন, আমাদের মধ্যে নেতৃত্ব নিয়ে যে ভুলবোঝাবুঝি হয়েছিলো তার মিটমাট হয়ে গেছে।

এখন সকলকে নিয়ে একটি সর্বাত্মক আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

আশা করছি, এখন থেকে আন্দোলন আরও জোরদার হবে। ৩৫ চাই চাকরিপ্রার্থীদের প্রাণের দাবি আদায় হবে।

এসময় তিনি আরও বলেন, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি-সম্পাদক শোভন-রাব্বানীসহ ডাকসুর ভিপি নুরসহ ছাত্রনেতারা আমাদের দাবিতে সম্মতি প্রদান করছেন।

এছাড়া সরকারের বিভিন্ন উচ্চমহলেরও সম্মতি রয়েছে। তারপরও সরকারের পক্ষ থেকে ৩৫-র ঘোষণা আসতে কেন বিলম্বিত হচ্ছে তা বোধগম্য নয়।

তবে এবার আমাদের দাবি আদায়ে আর শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে বলে মনে করছি।

উল্লেখ্য, ঈদের পর বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা দেওয়া হবে বলে রমজান মাসে সংবাদ সম্মেলন করা জানায় সংগঠনটি। তারই অংশ হিসেবে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত