শিরোনাম

অনুমোদনের অপেক্ষায় নতুন গ্রেড ‘এক্সিলেন্ট’

প্রিন্ট সংস্করণ॥বেলাল হোসেন  |  ০১:০৫, জুন ২০, ২০১৯

বহির্বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষা কার্যক্রমে নতুন গ্রেডিং পদ্ধতি চালু করতে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন এই পদ্ধতিতে ৯০ নম্বরের বেশি পেলে ‘এক্সিলেন্ট’ গ্রেড ধরা হবে। যাকে বলা হবে ‘এ’ই (এক্সিলেন্ট)। জিপিএ-৫ থেকে কমিয়ে সর্বোচ্চ গ্রেড হবে জিপিএ-৪।

বিভিন্ন দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সামঞ্জস্য করতে মূলত এ পদ্ধতি এখন অনুমোদনের অপেক্ষায়। ইতোমধ্যে দেশের শিক্ষা বোর্ডগুলোর অধীনে পরিচালিত পাবলিক পরীক্ষার গ্রেডিং পদ্ধতি পুনর্গঠনের প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়েছে।

এই লক্ষ্যে কিউমুলেটিভ গ্রেড পয়েন্ট এভারেজ (সিজিপিএ) পদ্ধতির আদলে গ্রেড পয়েন্ট এভারেজ (জিপিএ) পদ্ধতির ‘শ্রেণি ব্যাপ্তি পুনর্গঠন’ প্রস্তাবনা তৈরি করেছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড। এই পদ্ধতিতে জিপিএ-৫ বাদ দিয়ে সর্বোচ্চ প্রথম গ্রেডসহ ১০টিরও বেশি গ্রেড রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

গ্রেড নির্ধারণে নম্বরের শ্রেণি ব্যাপ্তি কমিয়ে ৫ নম্বর করার প্রস্তাব করা হয়েছে খসড়ায়। প্রথম গ্রেডের সর্বোচ্চ ফলকে বলা হবে ‘এক্সিলেন্ট’। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২৬ জুন শিক্ষামন্ত্রীর কাছে লিখিতভাবে এই প্রস্তাবনা তুলে ধরা হবে।

গ্রেডিং পদ্ধতি পরিবর্তনের প্রস্তাবনার সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাই প্রক্রিয়া আরও বস্তুনিষ্ঠ করতেই এই নতুন গ্রেডিং পদ্ধতি চালুর চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। কারণ বর্তমানে ৭৯ থেকে মাত্র ১ নম্বর ওপরে ৮০ নম্বর পেলে ‘এ+’ ধরা হয়, কিন্তু যে শিক্ষার্থী ৮০-এর ওপরে অন্তত আরও ১০ নম্বর বেশি পেয়ে ৯০ পাচ্ছে এমনকি ৯০ থেকে ১০০-এর মধ্যে নম্বর পাচ্ছে, তাকেও ‘এ+’ ধরা হচ্ছে।

এতে তার মেধার মূল্যায়ন সঠিকভাবে হচ্ছে না বলেই আমরা মনে করি। ফলে ৯০ থেকে ১০০-এর মধ্যে নম্বর পেলে ওই শিক্ষার্থীকে নতুন গ্রেডিং পদ্ধতি অনুযায়ী ‘এক্সিলেন্ট’ মার্ক বলা যেতে পারে।

এ বিষয়ে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক আমার সংবাদকে বলেন, আমাদের গ্রেডিং পদ্ধতির সঙ্গে বিদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গ্রেডিংয়ের বিস্তর ফারাক।

এতে করে শিক্ষার্থীরা যখন দেশের বাইরে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণে যায়, তখন অনেক সমস্যায় পড়ে। মূলত এসব কারণেই গ্রেডিং পদ্ধতির পরিবর্তনে কাজ চলছে। তিনি বলেন, আমরা একাধিক প্রস্তাব করেছি।

শিক্ষামন্ত্রীর কাছে আগামী বৈঠকে (২৬ জুন) প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে। এরপর মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে শিক্ষাবিদসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হবে। এ বছর সম্ভব না হলেও আগামী বছর থেকে পুনর্গঠন চূড়ান্ত হলে এই এই পদ্ধতি চালু করা হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে নতুন গ্রেডিং পদ্ধতি বাস্তবায়নে নতুন প্রস্তাবনায় দেখা গেছে, ৮০-এর নিচে প্রতি ৫ নম্বর ব্যবধানে গ্রেড পরিবর্তন করা হবে। যেমন ৭৫ থেকে ৭৯ পর্যন্ত ‘এ’, ৭০ থেকে ৭৪ নম্বর পর্যন্ত ‘এ’ মাইনাস, এভাবে প্রতি ৫ নম্বর ব্যবধানে ‘বি’ প্লাস, ‘বি’, ‘বি’ মাইনাস, ‘সি’ প্লাস, ‘সি’, ‘সি’ মাইনাস, ‘ডি’ প্লাস ‘ডি’, ‘ডি’ মাইনাস, ‘ই’ প্লাস, ‘ই’, ও ‘ই’ মাইনাস গ্রেড দেয়া হবে। ফেল হিসেবে ‘এফ’ গ্রেড থাকবে। সর্বনিম্ন পাস নম্বর ৩৩ অথবা ৪০ নির্ধারণ করা হতে পারে। তবে সর্বনিম্ন পাস নম্বর ৩৩ রাখার পক্ষে অধিকাংশ বোর্ড চেয়ারম্যান মতামত দিয়েছেন।

জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি), সেকেন্ডারি স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় গ্রেড পদ্ধতির পরিবর্তন করে জিপিএ-৫ থেকে কমিয়ে সর্বোচ্চ গ্রেড হবে জিপিএ-৪। ৯০ নম্বরের বেশি পেলে নতুন গ্রেড হবে ‘এক্সিলেন্ট’।

৮০ থেকে ৮৯ নম্বর পেলে এ+। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান জানান, প্রাপ্ত নম্বরের ব্যাপ্তি নির্ধারণ বা পাস নম্বরের বিষয়গুলো এই মুহূর্তে শুধুই প্রস্তাবনা। আলোচনার জন্য প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষাবিদ ও অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত ১২ জুন শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় গ্রেড পরিবর্তনের বিষয়টি মৌখিকভাবে প্রস্তাব করা হয়। শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপুমনি নতুন গ্রেড পদ্ধতির খসড়া তৈরি করার নির্দেশ দেন বৈঠকে। মন্ত্রীর নির্দেশে একাধিক খসড়া তৈরি করেছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত