শিরোনাম

অক্টোবরে জাতীয় কাউন্সিল আওয়ামী লীগের ভাবনায় তরুণ নেতৃত্ব

প্রিন্ট সংস্করণ॥আসাদুজ্জামান আজম  |  ১৬:৩৮, জুন ২৬, ২০১৯

অক্টোবরে বা চলতি বছরের শেষদিকে অনুষ্ঠিত হতে পারে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় কাউন্সিল। দলের জাতীয় কাউন্সিল যথাসময়ে করার ইচ্ছা পোষণ করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বৈঠককালে এমন সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন তিনি।

একইসঙ্গে সে অনুযায়ী প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। দলীয় কাউন্সিলের সম্ভাব্য সময় নির্ধারণের ঘোষণা আসার পর হতেই সরগরম আওয়ামী লীগের রাজনীতি। কেন্দ্রীয় কমিটিতে নিজের পদোন্নতি, পদ ধরে রাখাসহ কাঙ্ক্ষিত পদ পেতে লবিয়িং-গ্রুপিং করছেন দলটির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।

আগামী দিনে প্রবীণ নেতৃত্বের সঙ্গে এক ঝাঁক নবীনের সমন্বয় ঘটিয়ে দেশবাসীকে চমক দেখাতে চান প্রধানমন্ত্রী। প্রযুক্তি ও ঐতিহ্যের সমন্বয় ঘটিয়ে মাঠের ক্লিন ইমেজের দক্ষ, যোগ্য, ত্যাগী, মেধাবী, পরিশ্রমী তরুণ নেতাদের এগিয়ে আনা হবে বলে জানা গেছে।

তথ্য মতে, বিএনপিসহ সমমনা দলগুলো নিশ্চুপ থাকলেও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ রাজনীতির মাঠ চাঙ্গা করে রাখছে। একের পর এক ইস্যুতে গোটাদেশ ক্ষমতাসীনদের দিকে। একাদশ জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়, প্রশংসনীয় সরকার গঠন, উপজেলা নির্বাচনের কাঙ্ক্ষিত ফসল ঘরে তুলেছে দলটি।

এরই মধ্যে দলের জাতীয় সম্মেলন করার ঘোষণা উৎসবে নতুন উত্তাপ এনে দিয়েছে। আওয়ামী লীগের তৃণমূল রাজনীতি থেকে কেন্দ্র— পুরোটাই সরগরম হয়ে উঠছে।

সূত্র মতে, জাতীয় সম্মেলনের ঘোষণা আসার পরপরই কর্মপরিকল্পনা নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে দলটির হাইকমান্ড। সম্মেলন সফল করতে বিভিন্ন পর্যায়ে আলাপ-আলোচনা শুরু করেছেন। উদ্যোগ নেওয়া হবে মেয়াদ উত্তীর্ণ জেলা ও উপজেলা কমিটির সম্মেলনের।

বিশেষ করে যেসব জেলার কমিটির নেতৃত্ব নিয়ে মতবিরোধ আছে, সেসব জেলার সম্মেলন শেষ করতে সভাপতি শেখ হাসিনা কড়াকড়ি নির্দেশনা দিয়েছেন। ইতোমধ্যে তৃণমূলের মূল চালিকা শক্তি ইউনিয়ন পর্যায়ের সম্মেলন শুরু হয়েছে সারা দেশে।

ইউনিয়ন সম্মেলনের পর উপজেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এরপর শুরু হবে জাতীয় সম্মেলনের মূল কাজ। জাতীয় সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটিসহ বিভিন্ন উপ-কমিটি গঠনের মাধ্যমে গোটা দেশ কাউন্সিল উত্তাপে আনা হবে।

দলের জাতীয় এ সম্মেলনের ঘোষণা আসার পর ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ছড়িয়ে পড়েছে নেতাকর্মীদের মধ্যে। দলীয় নেতাকর্মীরা চাঙ্গা হয়ে উঠেছেন। তৃণমূল, উপজেলা-জেলা, মহানগর, জাতীয় রাজনীতি সর্বত্র কাউন্সিলের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ছে।

কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে সম্পৃক্তদের তৎপরতা বেড়ে গেছে। ধানমন্ডিস্থ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়, বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ নীতিনির্ধারক পর্যায়ের নেতাদের অফিস-বাসা সরগরম হয়ে উঠছে।

তথ্য মতে, হালের রাজনীতি সামনে রেখে সম্মেলন কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দলীয় গঠনতন্ত্র সংশোধন-সংযোজনসহ ঘোষণাপত্রে পরিবর্তন আসতে পারে। উন্নত বাংলাদেশ গঠন ও বিশ্ব পরিমণ্ডলে নিজেদের জানান দিতে আগামী কাউন্সিলে ঢেলে সাজাতে চান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

নতুন কমিটিকে ঢেলে সাজাতে কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান দেয়া হবে দলের জন্য নিবেদিত, পরীক্ষিত ত্যাগী নেতাদের। একইসঙ্গে এগিয়ে আনা হতে পারে, মেধাবী, সৎ, একঝাঁক তরুণ নেতাকে। একাধিক আওয়ামী লীগনেতা এ তথ্য জানিয়েছেন।

সূত্র জানায়, টানা দশ বছর ক্ষমতায় থাকার কারণে অনেক এলাকায় নেতাকর্মীদের কোন্দল ও রেষারেষিতে আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। তাই তৃণমূলসহ কেন্দ্র শক্তিশালী করতে জাতীয় সম্মেলনের কাউন্সিলের মাধ্যমে সরকার ও দলের মধ্যে ভারসাম্য আনার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দলের শীর্ষ এক নেতা দুই পদে থেকে একসঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন। সরকার ও দলীয় কর্মকাণ্ডের একসঙ্গে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ে। অন্যদিকে, অনেক নেতার সরকার ও দলের কোনো পদে না থাকার কারণে তাদের সাংগঠনিক তৎপরতা কমে গেছে।

এ জন্য দল ও সরকারের মধ্যে স্পষ্ট সীমারেখা টানতে দলের গুরুত্বপূর্ণদের সরকারে না রাখার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হতে পারে কাউন্সিলে। সরকারের মন্ত্রিসভায় আছেন এমন সদস্যদের দলে না রাখার সম্ভাবনা বেশি।

এছাড়া আগামী ২০২০ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ ও ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করবে এ দলের নেতৃত্বের সরকার। এর আগেই দলকে নতুন করে সাজানোর পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। দলকে নতুন সরকার থেকে যতটুকু সম্ভব আলাদা করা হবে।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগ কর্মীবান্ধব দল। আওয়ামী লীগের সম্মেলন মানেই উৎসাহ-উদ্দীপনা। এখনো মূল প্রস্তুতি শুরু হয়নি, আলাপ-আলোচনা হচ্ছে। কারা বাদ পড়ছেন, কারা আসছেন এখনই সেটা বলা যাচ্ছে না। তবে আওয়ামী লীগের সব সময় ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন হয়, এবারও হবে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, অক্টোবরের ২৩ তারিখে আমাদের সম্মেলন হয়েছিল, আমরা অক্টোবরেই সম্মেলন করার চিন্তা করছি। নেত্রী ইতোমধ্যে যথাসময়ে সম্মেলন করার ইচ্ছাপোষণ করেছেন, আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। সকল স্তরের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে সম্মেলন সফল করার প্রস্তুতি নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, সর্বশেষ ২০১৬ সালের ২২ ও ২৩ অক্টোবর আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। ঐ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে শেখ হাসিনা পুননির্বাচিত হন। আর প্রথমবারের মতো দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন ওবায়দুল কাদের।

এর আগে ১৯৮১ সালের সম্মেলনে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে প্রথমবারের মতো দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। এরপর ১৯৮৭, ১৯৯২, ১৯৯৭, ২০০২, ২০০৯, ২০১২ ও ২০১৬ সালে তিনি সভাপতি নির্বাচিত হয়ে আসছেন।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত