শিরোনাম

বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তি মুক্তিযোদ্ধা ট্রাস্টে তুলকালাম

প্রিন্ট সংস্করণ॥এনায়েত উল্লাহ  |  ১৬:৪৯, জুন ২৬, ২০১৯

মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের উপ-ব্যবস্থাপক আব্দুল কাইয়ুম খানের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীকে চোর বলার অভিযোগ উঠেছে। এব্যাপারে আব্দুল কাইয়ুমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্সের দোকান বরাদ্দে শত কোটি টাকার দুর্নীতির বিষয়টা সামনে তুলে আনলে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের একটি মহল।

অভিযোগে জানা যায়, গত ১৮ জুন একটি চিঠিতে ব্যবস্থাপক উল্লেখ না করায় আবদুল কাইয়ুমের সাথে বসচা হওয়ায় তার বিরুদ্ধে উপরোক্ত অভিযোগ আনেন মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের হিসাব সহকারী (গ্রেড-১) শহিদুল ইসলাম। অভিযোগ নিয়ে আব্দুল কাইয়ুম খানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ মিথ্যা ও তার বিরুদ্ধে এটা ষড়যন্ত্র বলে উল্লেখ করেন।

অভিযোগ সূত্রে আরও জানা যায়, গত ১৮ জুন দাপ্তরিক কাজে শহিদুল মডেল কমপ্লেক্সে গেলে ব্যবস্থাপক (চলতি দায়িত্ব) আব্দুল কাইয়ুম খান তাকে পিয়ন দিয়ে ডেকে নেন। কাইয়ুম খানকে লিখা মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের প্রধান হিসাব রক্ষক মোহাম্মদ হোসেন স্বাক্ষরিত একটি চিঠি দেখিয়ে শহিদুলকে বলা হয় ওই চিঠিতে তাকে কেন গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক উল্লেখ করা হয়নি।

এ নিয়ে বাগ্বিতণ্ডা হলে একপর্যায়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চোর বলে গালি গালাজ করেন। জানা যায়, তিনি চোরের মেয়ে চোর আকম মোজাম্মেল হককে দ্বিতীয়বার মন্ত্রী বানিয়েছেন বলে গালি দেন।

এ ঘটনার বিচার চেয়ে ১৯ জুন শহিদুল ইসলাম মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। পরবর্তীতে প্রকৌশলী উপ-প্রধান সালেহ আহমেদকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি করা হয়। কমিটি সরেজমিন তদন্ত করে ঘটনা সত্য বলে প্রতিবেদন জমা দেন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নিকট।

মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইফতেখারুল ইসলাম খান আমার সংবাদকে জানান, এ বিষয়ে আমার কাছে অভিযোগ করা হয়েছে। আমি তদন্ত কমিটি করেছি। তারাও প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী আব্দুল কাইয়ুম অভিযু্ক্ত। তিনি বঙ্গবন্ধু ও তার কন্যাসহ মুক্তিযোদ্ধাবিষয়কমন্ত্রীকে কটূক্তি করেছেন। মন্ত্রী দেশের বাইরে আছেন। তিনি এলে আমরা কাইয়ুমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।

তিনি আরও বলেন, আব্দুল কাইয়ুম গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্সে দায়িত্বে থাকাকালে ১১ জনের কাছ থেকে বিধি ভঙ্গ করে অতিরিক্ত টাকা আদায় করেছেন। সে ব্যাপারেও তদন্ত চলছে। এ বিষয়ে মতিঝিল থানায় অভিযোগ করা হয়েছে বলেও জানান।

মতিঝিল থানার ওসির সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি এ ব্যাপারে কিছু জানি না। জানা গেছে, অভিযুক্ত আব্দুল কাইয়ুমের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাত ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অনেক অভিযোগ রয়েছে। এ ব্যাপারে একটি মামলাও করা হয়েছে। আরও মামলার প্রস্তুতি চলছে।

অন্যদিকে অভিযু্ক্ত আব্দুল কাইয়ুম বলেন, আমি ষড়যন্ত্রের শিকার। আমি গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্সের দায়িত্বে আসার পর দুর্নীতির ফাইল ফাঁস করি। যে কারণে দুর্নীতির সাথে সংশ্লিষ্ট সবাই আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করে।

তাকে গত কিছুদিন আগেই গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্স থেকে নবাবপুরের মদনপার লেনে অবস্থিত মডেল ইঞ্জিনিয়ারিংওয়ার্কস লিমিটেডে বদলি করা হয়। তবে বদলি নিয়ে তিনি হাইকোর্টে রিট করলে কোর্ট স্টে অর্ডার দিয়েছে বলে জানা গেছে।

বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর বিষয়ে কেন এমন মন্তব্য করেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার পুরো পরিবার আওয়ামী লীগার। আমি ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগ ও পরে যুবলীগ করেছি। আমার দ্বারা এ কাজ কীভাবে সম্ভব? আমি এমন মন্তব্য করিনি। এরা সবাই আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। সাবেক মন্ত্রী শাহজাহান খান বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, আমি সাবেক এ মন্ত্রীকে সব ডকুমেন্ট দেখিয়েছি। তিনি সব বুঝেছেন— কেন এমন হয়েছে। পরে শাহজাহান খান গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্সে গিয়েও তথ্য যাছাই করেছেন বলে জানিয়েছেন। আব্দুল কাইয়ুম এবিষয়ে অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে ৫ লাখ টাকার মানহানি মামলা করবেন বলেও জানান।

এছাড়াও গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্সের ১৫৮টি দোকান নিয়ে ২০১৭ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশনে মামলা করা হয়েছে। সে ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি বলেও জানা গেছে।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত