শিরোনাম

তবুও সঞ্চয়পত্রেই ভরসা মধ্যবিত্তের

প্রিন্ট সংস্করণ॥সঞ্জয় অধিকারী  |  ০২:৪৪, আগস্ট ২০, ২০১৯

‘সঞ্চয়পত্র এখন ক্রন্দনরত মা-হারা শিশু। বুড়োরা নির্বাক! বণিক শ্রেণিরা যেন এক নির্মম চার্বাক। তাদের কৌশলেই বুড়োরা পেরেক বন্দি যীশু!’

এভাবেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে নিজের কষ্ট আর ক্ষোভের কথা জানিয়েছেন প্রায় ৭০ বছর বয়সি নাজিম শাহরিয়ার নামে একজন কবি। এই ক্ষোভ আর ক্রন্দন তার একার নয়।

তার মতো আরও যারা সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর ভর করে বৃদ্ধ বয়সে জীবন নির্বাহ করছেন, তাদের সবারই এখন এই মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। ব্যাংক মালিকরা আমানত ও ঋণ উভয়ের সুদহারই এক অঙ্কে নামিয়ে আনার কথা বলেছিলেন, তবে বাস্তবতা হয়েছে ভিন্ন।

ঋণের সুদহার না কমালেও অধিকাংশ ব্যাংকই আমানতের সুদহার ৬ শতাংশে নামিয়ে এনেছে। ফলে ব্যাংকে টাকা রেখে বা সঞ্চয়পত্র কিনে তারা উপযুক্ত মুনাফা পাচ্ছেন না।

আবার এই বয়সে ব্যবসায় বিনিয়োগ করাও তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এতে করে চরম সংকট আর অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন অবসরপ্রাপ্ত আর বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা। বাংলাদেশের মানুষ তাদের সঞ্চিত বা উদ্বৃত্ত অর্থ সাধারণত দুটি ক্ষেত্রে জমা রাখে। এর একটি হলো ব্যাংক, আর অন্যটি জাতীয় সঞ্চয়পত্র।

এর বাইরে কেউ কেউ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে। কিন্তু শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীর সংখ্যা খুব বেশি নয়। কারণ, অনেকেই শেয়ারবাজার ঠিকমতো বুঝতে পারেন না। ফলে তাদের জন্য নিরাপদ বিনিয়োগের স্থান ব্যাংক ও সঞ্চয়পত্র।

কিন্তু বর্তমানে ব্যাংকে আমানতের সুদের হার এক অঙ্কে নেমে এসেছে। আর পাঁচ লাখ টাকার ওপরে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর ১০ শতাংশ হারে উৎসে কর আরোপ করা হয়েছে। ফলে বয়স্ক লোকদের অর্থ সঞ্চয়ের ক্ষেত্র সীমিত হয়ে এসেছে। তবুও মধ্যবিত্তের শেষ ভরসার জায়গা এখনো সঞ্চয়পত্রেই।

এর বাইরে নিম্নবিত্তের মানুষরা টিআইএন নম্বর বাধ্যতামূলক করায় সঞ্চয়পত্রে টাকা বিনিয়োগকে ঝামেলা বলে মনে করছে। আর উচ্চবিত্তদের মধ্যে যাদের বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা রয়েছে, তারা ব্যাংকের মাধ্যমেই সব ধরনের লেনদেন করেন। তাদের উদ্বৃত্ত অর্থও গচ্ছিত থাকে ব্যাংকে। এদের একটি অংশ আবার অপ্রদর্শিত অর্থ দেশের বাইরে বিনিয়োগ করেন। কেউ কেউ আবার সুইস ব্যাংকেও অর্থ গচ্ছিত রাখেন।

তাজুল ইসলাম নামে অবসরপ্রাপ্ত একজন সরকারি কর্মকর্তা বলেন, জীবনের শেষ সম্বল, কিছু টাকা ব্যবসা না বোঝার কারণে নিরাপত্তার জন্য বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা সঞ্চয়পত্র কিনে তা থেকে লভ্যাংশ তুলে পরের কাছে হাত না পেতে নিজের ওষুধ ও বেঁচে থাকার সামগ্রী কিনে থাকেন।

কিন্তু দেখা যায়, প্রতি বছর সরকারি বেতন বাড়ার কারণে পণ্য-দ্রব্যের দাম বেড়েই চলে আর সরকার প্রতি বছর সেই সঞ্চয়পত্রের সুদ কমাতে থাকে। কমতে কমতে এবার সবার দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। তার প্রশ্ন, সবকিছু ফেলে অর্থমন্ত্রীর এই সঞ্চয়পত্রের দিকে নজর কেন?

তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে সরকার এই সঞ্চয়পত্র দুই ভাগে ভাগ করতে পারে। যারা কোটিপতি তাদের হিসাব আলাদা করা। আর যারা শুধু বেঁচে থাকার জন্য ১০/২০/৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র কিনে জীবন চালায় তাদেরটা আলাদা। ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের জন্য একটি ভিন্ন প্রকল্প খোলার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানান, যাতে তারা বাকি জীবন নিশ্চিন্তে কাটাতে পারেন। জানা গেছে, সঞ্চয়পত্রে ঋণ কমাতে নানা উদ্যোগের মধ্যেও বিক্রি কমেনি।

সুদ ও আসল পরিশোধের পর শুধু গত জুন মাসে সঞ্চয়পত্র থেকে তিন হাজার ২০৮ কোটি ২৩ লাখ টাকার ঋণ পেয়েছে সরকার। আর গত এক বছরে সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে সরকারের ঋণ বেড়েছে ৭.৩৩ শতাংশ।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে মেয়াদান্তে সুদের হার ১১.২৮ শতাংশ, তিন বছর মেয়াদি তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে সুদের হার ১১.০৮ শতাংশ, পাঁচ বছর মেয়াদি পরিবার সঞ্চয়পত্রে মেয়াদান্তে সুদের হার ১১.৫২ শতাংশ এবং পাঁচ বছর মেয়াদি পেনশনার সঞ্চয়পত্রে মেয়াদান্তে সুদের হার ১১.৭৬ শতাংশ।

আগে প্রাপ্ত এই মুনাফার ওপর ৫ শতাংশ উৎসে কর ছিল। চলতি বাজেটে সেটা বাড়িয়ে পাঁচ লাখ টাকার ওপরে সঞ্চয়পত্রের মুনাফায় উৎসে কর ১০ শতাংশ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শামসুন্নাহার বেগম দৈনিক আমার সংবাদকে বলেন, সঞ্চয়পত্রের সুদের হার তো কমানো হয়নি। তাছাড়া পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রের মুনাফায় উৎসে কর ৫ শতাংশই বহাল আছে। পাঁচ লাখ টাকার ওপরে হলে উৎসে কর ১০ শতাংশ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রথমদিকে গ্রাহকদের মধ্যে কিছুটা অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছিল।

কিন্তু আমরা তাদের বুঝিয়েছি যে, এটা সরকারি সিদ্ধান্ত। দেশের উন্নয়নের জন্যই এটা করা হয়েছে। এখন আর এটা নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। আজাদ আহসান বাচ্চু নামে শেয়ারবাজারের একজন বিনিয়োগকারী বলেন, চাকরি থেকে অবসর নেয়ার পর কিছু টাকা পেয়েছি। সেটা ব্যাংকে রাখা ছিল। কিন্তু সেখানে সুদের হার কমিয়ে দিয়েছে। সঞ্চয়পত্র কিনতে চেয়েছিলাম, সেখানেও ১০ শতাংশ উৎসে কর আরোপ করেছে।

তাই ভাবলাম শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করবো। কিন্তু এখানেও কোনো নিশ্চয়তা নেই। সব জায়গায়ই নানা প্রতিবন্ধকতা। তাহলে মধ্যবিত্ত তাদের সামান্য সঞ্চিত অর্থ কোথায় রাখবে? তাই অনেকটা নিরুপায় হয়েই সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করতে হয়েছে।

এ বিষয়ে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ-এবিবির চেয়ারম্যান সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, সরকারের সঙ্গে ব্যাংক মালিকরা বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, ঋণ ও আমানতের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার। সেক্ষেত্রে স্বল্প সুদে ঋণ দিতে হলে আমানতের সুদ হারও কমাতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।

সঞ্চয়পত্র বিক্রির চিত্র
অর্থবছর সঞ্চয়পত্র বিক্রির পরিমাণ (টাকা)
২০১৬-১৭ ৫২ হাজার ৪১৭ কোটি
২০১৭-১৮ ৪৬ হাজার ৫৩০ কোটি
২০১৮-১৯ ৪৯ হাজার ৯৩৯ কোটি
সূত্র : বাংলাদেশ ব্যাংক

নিম্নগতি অব্যাহত থাকবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত প্রচেষ্টা ও জনসচেতনতার কারণে এ সংখ্যা কমেছে। তিনি আরও বলেন, গতকাল (১৮ আগস্ট) সকাল ৮টা থেকে আজ গতকাল সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সারাদেশে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৬১৫।

তাদের মধ্যে ঢাকায় ৭৫৭ ও ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে ৮৫৮ জন ভর্তি। এর পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ৭৩৪ এবং ঢাকার বাইরে ৯৭২।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে গতকাল সোমবার পর্যন্ত সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ৫৪ হাজার ৭৯৮। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে ৮৪ শতাংশ ডেঙ্গু রোগী ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ে ফিরেছেন।

সানিয়া তাহমিনা বলেন, সকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দেশের সব ডাইরেক্টর ও লাইন ডাইরেক্টরের উপস্থিতিতে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সিভিল সার্জন ও ইউএইচএফপিওদের ডেঙ্গুর প্রতিকার, প্রতিরোধ ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ক নানা নির্দেশনা দেন।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত