শিরোনাম

বিশ্বকাপের পর যে লিজেন্ডদের হারাবেন ক্রিকেটপ্রেমীরা

সুলাইমান সাদী  |  ২১:০০, মে ২৫, ২০১৯

বিশ্বকাপের পর যে লিজেন্ডদের হারাবেন ক্রিকেটপ্রেমীরা
লন্ডন ও ওয়েলসে ২০১৯ বিশ্বকাপ শুরুর আর বাকি কয়েকদিন। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে সেরা ১০ দল।

সবগুলো দল যার যার স্কোয়াড ঘোষণা করেছে এরই মধ্যে। তাদের মধ্যে কিছু খেলোয়ার এবারই প্রথম বিশ্বাকাপ খেলবে, কিছু সিনিয়র খেলোয়ারকে পুরোপুরি জ্বলে উঠতে দেখা যাবে, যারা আগেই বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।

বেশ কিছু সিনিয়র ও অভিজ্ঞ খেলোয়ার এ বিশ্বকাপকে তাদের ক্যারিয়ারের সর্বশেষ মেগা ইভেন্ট ঘোষণা করেছেন। এছাড়া কিছু খেলোয়ার না চাইলেও এ বিশ্বকাপ তাদের জন্য শেষ ইভেন্ট হতে পারে।

যাদের হারাতে পারেন ক্রিকেটপ্রেমীরা

মাশরাফি বিন মর্তুজা

আসন্ন বিশ্বকাপেও তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমের ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। বিশ্বনন্দিত ফাস্ট বোলার এবছর তার শেষ বিশ্বকাপ খেলবেন। সম্প্রতিই তিনি জাতীয় দল থেকে বিদায় নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। বিদায়ের পর টি-টোয়েন্টি টিমের প্রতিনিধিত্ব করবেন তিনি।

উল্লেখ্য, ৩৫ বছর বয়সী এ ফাস্ট বোলারকে গত মৌসুমে টিমের কমান্ড দেয়া হয়েছিল। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ইতিহাসে প্রথমবার কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে।

তিনি ২০০৭ সালে ভারতের বিরুদ্ধে ক্যারিয়ার শুরু করে প্রথম ম্যাচেই ৫ উইকেটে বাংলাদেশকে বিজয়ী করেন এবং নিজে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন।

বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে সেরা ক্যাপ্টেন মাশরাফি বিন মর্তুজা ৫ অক্টোবর ১৯৮৩ সালে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি ২০০৩, ২০০৭ ও ২০১৫ বিশ্বকাপে নিজের দেশকে নেতৃত্ব দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যান।

তিনি হাঁটুর ইঞ্জুরির কারণে ২০১১ বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারেননি। বাংলার এ টাইগার ১৭ সালের ক্যারিয়ারে ২০৫ ম্যাচে ২৫৯ ব্যাটসম্যানকে ধরাশায়ী করেছেন।

মাহেন্দ্র সিং ধোনি

ভারতীয় ক্রিকেট টিমের সাবেক এ ক্যাপ্টেন এ বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচে অংশ গ্রহণকারীর মর্যাদায় ভূষিত হবেন। ১৫ বছরের ক্যারিয়ারে সবকিছুই পেয়েছেন তিনি।

২০১১ সালে দ্বিতীয়বারের মতো ভারত বিশ্বকাপ শিরোপা জয় করেছিল তার নেতৃত্বে। ধোনি একমাত্র ক্যাপ্টেন, যার নেতৃত্বে ভারত ২০০৭ আইসিসি ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টি, ২০১১ ওয়ার্ল্ড কাপ এবং ২০১৩ আইসিসি চ্যাম্পিয়ন ট্রফি নিজের করে নিয়েছে। তিনি ২০০৭ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ভারতীয় দলের নেতৃত্ব দেন।

৩৭ বছরের এ ব্যাটসম্যান-উইকেট কিপার ক্যারিয়ারে ওয়ানডে ক্রিকেটে ১০ হাজার রান করেন এবং উইকেটের পেছনে দাঁড়িয়ে ৩০০ শিকার তালুবন্ধ করেন।

ক্রিস গেইল

ক্রিকেটের দুনিয়ায় ছক্কার কথা মনে হলেই ওয়েস্ট  ইন্ডিজের বিশালাকার কালোদেহী ক্রিস গেলের চেহারা ভেসে ওঠে। ১৯৯৯ সালে ওয়ানডে ক্রিকেটে পদার্পণের পর লাগাতার ৫ বার বিশ্বকাপ খেলেছেন।

তিনি তিন ফরম্যাটেই বেশ কয়েকটা রেকর্ড গড়েছেন ক্যারিয়ারে। ক্যারিয়ারে ৩১৪টি ছক্কা হাঁকিয়ে তিনি দ্বিতীয় স্থানে আছেন। ৩৫১ ছক্কা পিটিয়ে শহিদ আফ্রিদি প্রথম।

৩৯ বছর বয়সী গেইল ১৯ বছরের ক্যারিয়ারে ২৮৯ ম্যাচ খেলে ৩৮.১৬ গড়ে ১০ হাজার ১৫১ রানের পাহাড় গড়েছেন।

শোয়েব মালিক

পাকিস্তান ক্রিকেট টিমের সেরা অলরাউন্ডার শোয়েব মালিক জাতীয় দলের জন্য অনেকগুলো ম্যাচেই চাবি হয়ে কাজ করেছেন। ওপেনিং, ফিল্ডিং, লো-অর্ডার ব্যাটিং থেকে শুরু করে অফ স্পিন বোলিংয়েও সেরা পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন।

শোয়েব মালিক সেই লিজেন্ড খেলোয়ারদের অন্যতম, যারা গত শতাব্দীতে আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ক্রিকেট শুরু করেছিলেন। ৪ অক্টোবর ১৯৯৯ ওয়ানডে ক্রিকেট শুরু করা শোয়েব মালিক পাকিস্তান জাতীয় দলের অন্যতম সিনিয়র ও অভিজ্ঞ খেলোয়ার। ৩৭ বছর বয়সী এই সাবেক ক্যাপ্টেন আরো আগেই ওয়ানডে ফরম্যাট থেকে বিদায় নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তাকে এবার দ্বিতীয় ও শেষবারের মতো বিশ্বকাপের গ্রাউন্ডে জ্বলে উঠতে দেখা যাবে।

তিনি ২০০৭ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে সাবেক ক্যাপ্টেন ও বর্তমান চিফ সিলেক্টর ইনজামামুল হকের নেতৃত্বে দলের প্রতিনিধিত্ব। ২৮২ ম্যাচে তিনি ৭৪৮১ রান করেছেন এবং উইকেট ফেলেছেন ১৫৬টি। তিনি তার ক্যারিয়ারে ৯টি সেঞ্চুরি, ৪৪ ফিফিটি ও অসাধারণ ফিল্ডিংয়ের ছাপ রেখে ৯৬টি ক্যাচ ধরেছেন।

মুহাম্মদ হাফিজ

পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দল ১০ সিনিয়র খেলোয়ারসহ নতুন খেলোয়ারদের একটি স্কোয়াট ঘোষণা করেছে। `প্রফেসর‘ মুহাম্মদ হাফিজ সে ১০ অভিজ্ঞ খেলোয়ারদের একজন।

৩৮ বছর বয়সী এ ক্রিকেটার ২০০৩ সালের ৩ এপ্রিল জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে খেলা শুরু করেন। তিনি এবার হয়ত শেষবারের মতো তৃতীয় বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করবেন।

মুহাম্মদ হাফিজ ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টির ক্যাপ্টেন হলেও ওয়ানডে ক্রিকেটে তার পারফরম্যান্স খুব বেশি সুবিধার ছিল না। ২০০৭ ও ২০১১-এর বিশ্বকাপেও তিনি অংশ গ্রহণ করেছেন।

২০৮ ম্যাচে তিনি ৩৩ গড়ে ৬৩০২ রান করেছেন। তিনি ১১টি সেঞ্চুরি ও ৩৫টি ফিফটিও দেগেছেন।

রস টেলর

৪ মার্চ ১৯৮৪ সালে জন্ম নেয়া নিউজিল্যান্ড দলের এ খেলোয়ার এবার চতুর্থবারের মতো মেগা ইভেন্টে অংশ নেবেন। তিনি ২০০৬ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ওয়ানডে ক্যারিয়ার শুরু করেন।

তার সেরা পারফরম্যান্স পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ৩০২ রানের একটি ইনিংস। ৩৫ বছর বয়সী এ ক্রিকেটার ২০১০ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে এক ম্যাচে জাতীয় দলের ক্যাপ্টেনও ছিলেন। তিনি ২০টি সেঞ্চুরি করে নিউজিল্যান্ডের জাতীয় দলে সেরা সেঞ্চুরিয়ান হিসেবে সাফল্য অর্জন করেছেন।

শন মার্শ

অস্ট্রেলিয়া প্রথমবার শন মার্শকে ১৫ সদস্যের স্কোয়াটে জায়গা দিয়েছে। ২০০৮ সাল থেকে তিনি ওয়ানডে ক্রিকেট খেলছেন। কিন্তু কখনো বিশ্বকাপে অংশ গ্রহণের সুযোগ হয়নি।

তিনি তার ১১ বছরের ক্যারিয়ারে ৭১ ম্যাচ খেলে ৭টি সেঞ্চুরি ও ১৫টি হাফ-সেঞ্চুরির মাধ্যমে ২৭৪৭ রান করেছেন।

হাশিম আমলা

দক্ষিণ আফ্রিকার মুসলিম এ খেলোয়ার কিছুদিন ধরে ফর্মে না থাকার কারণে এবারের মেগা ইভেন্টে অংশ গ্রহণ নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছিল। তবুও জাতীয় দল তার অভিজ্ঞতার কারণে ওপেনার হিসেবে তাকে দলে রেখেছে।

২০০৮ সালে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে তিনি ওয়ানডে ক্রিকেট শুরু করেন। ১৭৪ আন্তর্জাতিক খেলায় অংশ গ্রহণ করে ৮০০০ রান তুলেছেন। তার গড় রান ৪৯.৭৪। ২৭টি সেঞ্চুরি ও ৩৭টি হাফ-সেঞ্চুরি তার ঝুলিতে। ৩৬ বছর বয়সী এ ক্রিকেটার তৃতীয় বারের মতো এ মেগা ইভেন্টে খেলবেন। এর আগে ২০১১ ও ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে তিনি অংশ গ্রহণ করেছেন।

ডেল স্টেন

দক্ষিণ আফ্রিকার এ ফাস্ট বোলার ওয়ার্ল্ড ক্লাস বোলারদের একজন। তিনিও তৃতীয়বারের মতো মেগা ইভেন্টে যোগ দেবেন।

২০১১ সালের ওয়ার্ল্ড কাপের গ্রুপ ম্যাচে তিনি ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং করেন। সেখানে তিনি ৫০ রানের বিনিময়ে ৫ উইকেট তুলেছিলেন।

তিনি ২০০৫ সালে প্রথম ওয়ানডে ক্রিকেট খেলেন এবং এরপরে ১২৫টি ম্যাচে অংশ গ্রহণ করে ১৯৬টি উইকেট ফেলেন।

জেপি ডুমিনি

দক্ষিণ আফ্রিকার এ খেলোয়ারও এবারের বিশ্বকাপের পর দল থেকে সরে পড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি ২০১১ সালের বিশ্বাকাপ আসরে তিনি অংশ গ্রহণ করেছিলেন।

২০০৪ সালে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ওয়ানডে ক্যারিয়ার শুরু করেন। পুরো ক্যারিয়ার ইঞ্জুরিতে কাটানোর পরও তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার সেরার ১০ খেলোয়ারের একজন। তিনি ১৯৪ ম্যাচ খেলে রান করেছেন ৫০৪৭।

২০১৫ ওয়ার্ল্ড কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকান হিসেবে হ্যাট্রিক স্কোর করেন।

লাথিস মালিঙ্গা

শ্রীলঙ্কান ডেথ বোলার লাথিস মালিঙ্গা চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নেবেন। তার ধ্বংসাত্মক বোলিংয়ের ফলে শ্রীলঙ্কা ২০০৭ ও ২০১১ বিশ্বকাপে ফাইনালে পৌঁছার সৌভাগ্য হয়। তিনি ২০১৯ বিশ্বকাপকে তার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন।

শ্রীলঙ্কার ইতিহাসে মুরালি ধরন ও চমন্দাওয়াসের পর তৃতীয় নম্বরের বোলার তিনি। ২১৮ ম্যাচ খেলে তিনি ৩২২টি উইকেট ঝুলিতে পুরতে সক্ষম হয়েছেন।

জীবন মেন্ডিস

শ্রীলঙ্কান অলরাউন্ডার জীবন মেন্ডিস দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ খেলবেন এবার। ২০১০ থেকে ওয়ানডে ক্রিকেট খেলে আসা এ ক্রিকেটারের জন্যও এটি শেষ বিশ্বকাপ হতে পারে।

৮ বছরের ক্যারিয়ারে ৫৪ ম্যাচে শ্রীলঙ্কার প্রতিনিধিত্ব করতে গিয়ে ৬০৪ রান করেছেন এবং ২৮টি উইকেটের পতন ঘটিয়েছেন।

এ খেলোয়াররা ছাড়াও আরো বেশ কয়েকজন খেলোয়ারের জন্য এটি বিদায়ী বিশ্বকাপ হতে পারে। ২০১৯-এর এ মেগা ইভেন্টের মধ্য দিয়ে তাদের হারাতে পারেন ক্রিকেটপ্রেমীরা।

এসএস

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত