বহুতল ভবন: স্ত্রীকে অন্য পুরুষে বাধ্য করলেন স্বামী!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক  |  ১৮:০১, জুলাই ১১, ২০১৯

বাবার কথা একদিন মেয়ের জীবনের বড় অভিশাপ হয়ে দাঁড়াবে, কে জানতো? আদরের মেয়েকে বিয়ে দিয়ে তিনি বলেছিলেন, নাতি হলেই একটি বাণিজ্যিক বহুতল ভবন মেয়ের নামে লিখে দেবেন। কিন্তু সেই কথাই যে পরবর্তীতে কাল হবে, তা ধারণাই ছিল না কারোরই।

২০১০ সালে বিয়ে হয় মালাইকার (ছদ্ম নাম)। কিন্তু তারপর ৯ বছর কেটে গেলেও সন্তান হয়নি তার।

ফলে শ্বশুর বাড়ির লোকজন বাবার দেয়া কথা নিজেদের কব্জায় নিতে ফন্দি আঁটেন। তাদের বুদ্ধিতে, স্বামী তার স্ত্রীকে অন্য পুরুষের সঙ্গে সঙ্গমে চাপ দিতে শুরু করেন। এ জন্য স্ত্রীকে প্রতিনিয়ত শারীরিক-মানসিক নিপীড়ন-নির্যাতন চালান তিনি। এ কাজে তাকে সাহায্য করছে তার পরিবারের অন্য সদস্যরাও।

ভারতের দক্ষিণ বেঙ্গালুরুর বাসাভানাগুড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্বামী রঞ্জন (ডাক নাম) এবং শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে দক্ষিণ বেঙ্গালুরুর বাসাভানাগুড়ি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন মালাইকা।

তার অভিযোগ, বিয়ের সময় রঞ্জনকে তার বাবা ১০ কোটি মূল্যের সোনা, ১৫০ কেজি রূপা, একটি বিএমডব্লিউ গাড়ি দিয়েছিল। এছাড়াও অন্যান্য আরো অনেক সামগ্রী দেয়া হয়। শুধু তাই নয়, ৫০ লাখ টাকা খরচ করে বিয়ের অনুষ্ঠানও করেছিলেন বেশ ধুমধাম করে। বিয়ের প্রথম কয়েকমাস সবকিছু ঠিক ছিল। কিন্তু তারপর থেকেই যৌতুক এবং অন্যান্য সামগ্রীর জন্য মালাইকাকে হেনস্থা করতে শুরু করে রঞ্জিত ও তার বোন। শেষপর্যন্ত জয়নগরের ওই বাড়ি থেকে ভাড়াবাবদ ১ কোটি টাকাও রঞ্জিতকে দিতে শুরু করেন মানসার বাবা। এভাবে ৬ বছরে ৬ কোটি টাকা দিয়েও দেন। পাশাপাশি জানান, মালাইকার সন্তান হলে ওই সম্পত্তি তিনি মেয়ের নামে লিখে দেবেন।

এদিকে, শারীরিকভাবে স্বামীর সমস্যা থাকায় বিয়ের বহু বছর পরও নিঃসন্তান থেকে যায় রঞ্জিত-মালাইকা। তাই রঞ্জিতের পরিবারের সদস্যরা মানসাকে অন্য পুরুষের সঙ্গে জোর করে সঙ্গমে বাধ্য করতে থাকে। যাতে পুত্রবধূ মা হয় এবং তার বাবা ওই সম্পত্তি মেয়ের নামে লিখে দেন। এমনকি রঞ্জিতের বোনের বিয়ের পর, তারও স্বামীর সঙ্গে মালাইকাকে সঙ্গম করতে বলা হয়।

পরে সে অস্বীকার করলে মারধরও করা হতে থাকে। বেশ কয়েকবার অশ্লীল কাজের চেষ্টা করে রঞ্জিতের পরিবার। শেষপর্যন্ত মালাইকার মা-বাবা ঘটনা জানতে পারে। এরপর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। এ ঘটনায় এবার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

জেডআই