শিরোনাম

চীনের ২৮ প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রে কালো তালিকাভূক্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক   |  ০৫:৫১, অক্টোবর ০৮, ২০১৯

চীনের ২৮ প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভূক্ত করলো যুক্তরাষ্ট্র। জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশন চালাকলীন চীনের উইঘুরের মুসলিমদের উপর চীনাদের সাম্প্রদায়কি নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র ফুটে ওঠেছে।

এর প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র এরকম ২৮ টি প্রতিষ্ঠানকে ব্ল্যাকলিস্ট করে যারা উইঘুরের মুসলিমদের নির্যাতনের সাথে জড়িত।

বর্তমানে ওয়াশিংটনের অনুমোদন ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কোন কোম্পানীর কাছ থেকে পণ্য কিনতে পারবে না ঐ প্রতিষ্ঠানগুলো। কোম্পানীগুলোর মধ্যে রয়েছে সরকারি এজেন্সি ও প্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিষ্ঠান।

বিশেষ করে নজরদারি বিষয়ক সরঞ্জাম তৈরির কোম্পানি রয়েছে এর মধ্যে। বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার অধীনে চীনা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে নিষিদ্ধ করার ঘটনা এটাই প্রথম নয়।

মে মাসে টেলি যোগাযোগ বিষয়ক জায়ান্ট প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়েকে ট্রাম্প প্রশাসন এনটিটি লিস্টে ফেলে। কারণ, এ প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদিত পণ্য বিশেষ করে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে চীন গোয়েন্দাগিরি করে বলে আশঙ্কা করা হয়।

তবে সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ফাইলে বলা হয়, যেসব সংগঠনকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে তারা মানবাধিকার লঙ্ঘন ও মানুষের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে।

এমন অভিযোগ অনেক দিনের। বিভিন্ন মানবাধিকার বিষয়ক গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে মুসলিম উইঘুরদের বিরুদ্ধে চীন মারাত্মক নিষ্পেষণ চালাচ্ছে।

লাখ লাখ উইঘুরকে বন্দিশিবিরে আটকে রেখে তাদের ওপর নির্যাতন করা হচ্ছে। তবে এসব শিবিরকে উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ভোকেশনাল প্রশিক্ষণ সেন্টার বলে অভিহিত করে চীন।

সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, চীনে নিষ্পেষণ, গণ খেয়ালখুশি মতো গ্রেপ্তার, উইঘুর-কাজাখ ও অন্যান্য মুসলিম সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে উচ্চ প্রযুক্তির নজরদারি করে আসছে চীন।

নিষিদ্ধ ওই ২৮টি সংগঠন তার সঙ্গে জড়িত। এই তালিকায় রয়েছে সিনজিয়াং প্রদেশের পাবলিক সিকিউরিটি ব্যুরো। এ ছাড়া রয়েছে সরকারের ছোট ছোট ১৯টি এজেন্সি।

ওই তালিকায় বাণিজ্যিক গ্রুপের মধ্যে রয়েছে আটটি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো হিকভিশন, দাহুয়া টেকনোলজি, মেগভি টেকনোলজি।

এগুলো সব ‘ফেসিয়াল রিকনিশেন’ বা মুখ দেখে চিনে ফেলা বিষয়ক প্রযুক্তির। বিশ্বে নজরদারি বিষয়ক সরঞ্জাম উৎপাদনের সবচেয়ে বড় কারখানার মধ্যে হিকভিশন অন্যতম।

বিবিসির সাংবাদিক কারিশমা ভাস্বানি বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তে চীনের প্রযুক্তি বিষয়ক উচ্চাকাংখা যে আঘাতপ্রাপ্ত হবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

ন্যূনতম সময়ের জন্য হলেও এই আঘাত লাগবে। যেসব কোম্পানিকে টার্গেট করা হয়েছে এর মধ্যে রয়েছে চীনের প্রযুক্তি বিষয়ক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংশ্লিষ্ট তারকা প্রতিষ্ঠান।

কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য যেসব প্রয়োজনীয় প্রসেসর চিপ প্রয়োজন হয় তা আনা হয় যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টেল ও এনভিডিয়ার মতো প্রতিষ্ঠান থেকে।

এসএ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত