শিরোনাম

আফ্রিকায় যৌনতার বিনিময়ে শিক্ষার সুযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক   |  ০৬:৪০, অক্টোবর ০৮, ২০১৯

পরীক্ষায় বেশি নম্বরসহ নানা সুযোগ সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে ফাঁদে ফেলে জিম্মি করে রাখছে শিক্ষকরা। এরকম ঘটনা ঘটছে আফ্রিকার নামিদামী বিশ্ববিদ্যালয়েও। অধ্যাপকরা দিনের পর দিন ধরে এ নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে।

নির্যাতনের কোন প্রমাণ না থাকায় অভিযোগ থাকলেও কোন প্রতিকার পাচ্ছে না ভূক্তভোগী শিক্ষার্থীরা। বিবিসি জানায় আফিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন চলতে থাকা এ নিপীড়ন বর্তমানে মহামারী আকার ধারণ করেছে।

শিক্ষকদের যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে কয়েক ডজন লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর ‘বিবিসি আফ্রিকা আই’ নারী শিক্ষার্থীর ছদ্মবেশে কয়েকজন সাংবাদিককে নাইজেরিয়ার ‘ইউনিভার্সিটি অব লাগোস’ এবং ‘ইউনিভার্সিটি অব ঘানায়’ পাঠায়।

তাদের শরীরে গোপন ক্যামেরা রাখা ছিল। যেগুলোতে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ অধ্যাপকের যৌন নিপীড়ন, সহবাসের প্রস্তাব দেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে জোর করার ভিডিও ধারণ করা হয়।

বিবিসি সোমবার এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এ প্রতিবেদনে লাগোস বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী বলেন, “প্রতি বছর, প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের, প্রতিটি বিভাগের প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জীবনে যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়ার আলাদা আলাদা গল্প আছে।”

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, “কেউ নিপীড়নের শিকার শিক্ষার্থীদের কথা শুনতে পর্যন্ত চায় না। কেউ তাদের কথা বিশ্বাসও করে না। আমি জানি অনেক শিক্ষার্থী নিপীড়নের শিকার। কিন্তু কেউ কিছু করছে না।”

বিবিসি’র প্রতিবেদক কিকি মোরদি প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অধ্যাপকদের কাছে যৌন নিপীড়ন কতটা ভয়ঙ্কর পর্যায়ে চলে গেছে তা জানতে পারেন এবং বন্ধ দরজার পেছনে কী হয় তা সবার সামনে তুলে ধরার উদ্যোগ নেন।

মোরদি নিজেও বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন বলে জানান। তিনি বলেন, “শুধু আমি একা নই। বরং পশ্চিম আফ্রিকার অভিজাত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দশকের পর দশক ধরে এটা চলছে।”

‘বিবিসি আফ্রিকা আই’ এক বছরের বেশি সময় ধরে এটি নিয়ে তথ্যানুসন্ধান করে এবং প্রমাণ জোগাড়ের জন্য গোপন ক্যামেরায় ভিডিও ধারণ শুরু করে।

দলটি প্রায় নয় মাস ধরে লাগোস বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে কলা অনুষদের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক সাবেক উপ প্রধান এবং স্থানীয় একটি গির্জার প্রধান যাজক ডা. বনিফেস ইগবেনিগুকে টার্গেট করে। যার বিরুদ্ধ যৌন নিপীড়ন করার অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে।

‘বিবিসি আফ্রিকা আই’ এর নারী সাংবাদিক ১৭ বছরের এক কিশোরীর ছদ্মবেশে লাগোস বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ইচ্ছা নিয়ে অধ্যাপক বোনিফেস ইগবেনিগুয়ের সঙ্গে দেখা করে।

প্রথম সাক্ষাতের দিনই তিনি শিক্ষার্থীর ছদ্মবেশে থাকা সাংবাদিকের চেহারার প্রশংসা শুরু করেন। কয়েক দিন পর ইগবেনিগু ওই শিক্ষার্থীকে আবারও ডাকেন এবং তার সঙ্গে প্রার্থনা করতে বলেন। কিন্তু সেটা স্বাভাবিক প্রার্থনা ছিল না। বরং তিনি বিরক্তির ও অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করছিলেন।

সেদিনই ভর্তিতে সাহায্য কারার কথা বলে নিজের যৌন জীবন নিয়ে আলোচনা শুরু করেন ওই অধ্যাপক। চতুর্থ সাক্ষাতে তিনি ছদ্মবেশী সাংবাদিককে গোপন জায়গায় ডাকেন এবং তাকে চুমু ‍খাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং জোর করে চুমু খান।

ইগবেনিগুর কাছে যৌন নিপীড়নের শিকার কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গেও কথা বলেছে বিবি টীম। তাদের একজন বলেন, গ্র্যাজুয়েশন করার সময় তিনি চারবার আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেন। তার অভিযোগ, অধ্যাপক ইগবেনিগু দিনের পর দিন তাকে যৌন নিপীড়ন করে গেছেন।

“তাক থামানোর কোনো উপায় আমার হাতে ছিল না। তাই আমি নিজেকেই শেষে করে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম।”
ঘানা বিশ্ববিদ্যালয়েও বেশ কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে বিবিসি আফ্রিকা আই দল অধ্যাপক ড. পল খাওয়ামি বুতাকরকে টার্গেট করে।

তার কাছে এক সাংবাদিক ছদ্মবেশে সম্মান শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী হিসেবে যান এবং সম্মানোত্তর ডিগ্রি নিয়ে কথা বলা শুরু করেন। দ্বিতীয় সাক্ষাতের দিনই অধ্যাপক বুতাকর একান্তে দেখা করার প্রস্তাব দিয়ে বসেন।

অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো অধ্যাপক কোনো শিক্ষার্থীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কে জড়াতে পারবেন না। বিবিসি আফ্রিকা আই দলের হাতে কুকর্মের ভিডিও থাকার পরও উভয় অধ্যাপকই নিজেদের নির্দোষ বলে দাবি করেছেন।


বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার আশ্বাস দিয়েছে।

এসএ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত