বৃহস্পতিবার ০২ জুলাই ২০২০

১৮ আষাঢ় ১৪২৭

ই-পেপার

প্রিন্ট সংস্করণ॥রফিকুল ইসলাম

জানুয়ারি ০৪,২০২০, ১২:৫৫

ফেব্রুয়ারি ১৭,২০২০, ০৩:১৭

দুর্নীতি করলে ছাড় নয়

দুর্নীতি সবসময় দুর্নীতিই উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন বলেছেন, সরকার গঠনের পর থেকেই চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, সন্ত্রাস, মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির ঘোষণা করেছেন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

নেত্রীর এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সারা দেশেই শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। নতুন বছরও ওই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে কেউ দুর্নীতি করতে পারে না। কেউ দুর্নীতি করলে তাকে ছাড় দেয়া হবে না।

গত বৃহস্পতিবার ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগের সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দৈনিক আমার সংবাদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, যারা আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে দুর্নীতি ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত আছে, তাদের স্থান আওয়ামী লীগে হবে না। এজন্য দলের মধ্যেও শুদ্ধি অভিযান চালানো হচ্ছে। দল ও সরকারে শুদ্ধি অভিযানের মধ্যমে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।

তিনি বলেন, ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারের হত্যা করে বাংলাদেশের উন্নয়নকে অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছিল স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি। তারা বাংলার অসহায় মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিন খেলেছে। দেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করেছিল। কিন্তু আজ বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কখনো ক্ষমতার রাজনীতি করেন না। দেশের মানুষের সেবার মনোভাব নিয়ে রাজনীতি করেন। ফলে আজ দেশে এত উন্নয়ন হচ্ছে।

দেশের সব শ্রেণি-পেষার মানুষ মুজিববর্ষ পালন করবে উল্লেখ করে আ.লীগের এ সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, বঙ্গবন্ধু সবসময় দেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করতেন। তিনি দেশের মানুষকে স্বাধীনতা উপহার দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিলো দেশের সাধারণ মানুষকে নিয়ে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি-জামায়াতসহ স্বাধীনতাবিরোধীরা আন্দোলনের নামে মুজিববর্ষকে ম্লান করার ষড়যন্ত্র করছে। ওইসব ষড়যন্ত্রকারীদের রাজনীতির মাঠে চূড়ান্তভাবে প্রতিহত করা হবে।

ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীরা বিপুল ভোটে জয়লাভ করবে উল্লেখ করে আফজাল বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর ঢাকাসহ সারা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত উন্নয়ন করেছেন।

ফলে একাদশ জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে দেশের মানুষ নিরষ্কুশ বিজয় উপহার দিয়েছে। আগামী ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে আ.লীগ বিপুল ভোটে জয়লাভ করবে।

তিনি আরও বলেন, দেশে যেকোনো নির্বাচন এলেই বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে নানামুখি ষড়যন্ত্র করে। সিটি নির্বাচনেও তারা ষড়যন্ত্র করতে পারে।

বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, বিএনপি ভোটের মাঠে নেমেছে। তাদের আমরা স্বাগতম জানাই। আমরা চাই তারা নির্বাচনের ফলাফল পর্যন্ত অপেক্ষা করুক। মিথ্য তথ্য দিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করতে বিএনপি নেতাকর্মীদের অনুরোধ জানান আওয়ামী লীগের এই নেতা।

দায়িত্ব আপনার জন্য চ্যালেঞ্জ কি না— জানতে চাইলে তিনি বলেন, ছাত্রজীবন থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত আছি। ছাত্রলীগ থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগের অনেক গুরু দায়িত্ব পালন করেছি। তাই এ দায়িত্ব পালন আমার জন্য চ্যালেঞ্জ নয়। এটি নেত্রীর দেয়া দায়িত্ব।

সেই দায়িত্ব পালনে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে আমি প্রস্তুত আছি। অ্যাড. আফজাল বলেন, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার কারণে বিএনপি-জামায়াতসহ ভিন্নপন্থি রাজনৈতিক দলের অনেকে পিঠ বাঁচাতে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছে। তাদের স্থান আওয়ামী লীগের হবে না।

সে কারণে গত বছর অনেক জেলায় সম্মেলন করা হয়েছে। সেই ধারা নতুন বছরও অব্যাহত থাকবে। সম্মেলনের মধ্য দিয়ে তাদের চিহ্নিত করে দল থেকে ছেটে ফেলা হচ্ছে, আওয়ামী লীগকে হাইব্রিডমুক্ত করা হচ্ছে।

আমারসংবাদ/এসটিএমএ