শিরোনাম

আজ শোকাবহ ১৫ আগস্ট

প্রিন্ট সংস্করণ॥আসাদুজ্জামান আজম   |  ০৯:২৪, আগস্ট ১৪, ২০১৯

আজ ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস। শোকাতুর বাঙালি জাতির আত্মদহনের দিন। মানব সভ্যতার ইতিহাসে ঘৃণ্য ও নৃশংসতম হত্যাকাণ্ডের কালিমালিপ্ত বেদনাবিধূর একটি শোকের দিন।

১৯৭৫ সালের এই দিনে স্বাধীনতাবিরোধী দেশি-বিদেশি শত্রু, মানবতার শত্রু প্রতিক্রিয়াশীল ঘাতকচক্রের হাতে বাঙালি জাতির মুক্তি আন্দোলনের মহানায়ক, বিশ্বের লাঞ্ছিত-বঞ্চিত-নিপীড়িত মানুষের মহান নেতা, বাংলা ও বাঙালির হাজার বছরের আরাধ্য পুরুষ, স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্থপতি, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়।

সেদিন ইতিহাসের নিষ্ঠুরতম এই হত্যাকাণ্ডে বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী মহিয়সী নারী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর একমাত্র ভ্রাতা শেখ আবু নাসের, জাতির জনকের জ্যেষ্ঠ পুত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন শেখ কামাল, দ্বিতীয় পুত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা লেফটেন্যান্ট শেখ জামাল, কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেল, নবপরিণীতা পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক শেখ ফজলুল হক মণি ও তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী বেগম আরজু মণি, স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম সংগঠক ও জাতির জনকের ভগ্নিপতি আব্দুর রব সেরনিয়াবাত, তার ছোট মেয়ে বেবী সেরনিয়াবাত, কনিষ্ঠ পুত্র আরিফ সেরনিয়াবাত, নাতি সুকান্ত আব্দুল্লাহ বাবু, ভাইয়ের ছেলে শহীদ সেরনিয়াবাত, আব্দুল নঈম খান রিন্টু, বঙ্গবন্ধুর প্রধান নিরাপত্তা অফিসার কর্নেল জামিল উদ্দিন আহমেদ ও কর্তব্যরত অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী নিহত হন। বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে থাকায় প্রাণে রক্ষা পান।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে সেদিন অদম্য বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার স্বাদ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল। সদ্য স্বাধীন ভূমিকে রক্তাক্ত করে বন্দুকের নলের মুখে অবরুদ্ধ করা হয়েছিল গোটা জাতিকে। সেদিন জনকের রক্তাক্ত নিথর দেহ মাটিয়ে লুটিয়ে পড়ার সঙ্গে বীরের জাতি বাঙালিকে বিশ্বের বুকে কলঙ্কিত করেছিল ঘাতকরা। থমকে দেয়া হয়েছিল বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের স্বপ্ন।

বন্ধ করা হয়েছিল অর্থনৈতিক মুক্তি পথ। শুধু বাংলাদেশ নয়, সেদিন বিশ্ববাসী হারিয়েছিল বীরত্বপূর্ণ, অদম্য স্পৃহা, দৃঢ় প্রত্যয়, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা সম্পন্ন একজন রাজনীতির কবি। বঙ্গবন্ধুর উদারতার টেনে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় একটি প্রবন্ধে বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধু অত্যন্ত উদারনীতির প্রবর্তক ছিলেন। তিনি পাকিস্তানি শাসকদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে বাংলাদেশ সৃষ্টি করেছেন।

কিন্তু ক্ষমতাসীন হওয়ার পর তিনি পাকিস্তানের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় রাখার উদ্যোগ নিয়েছিলেন।’ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের প্রসঙ্গ টেনে প্রণব মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘আমি বলতে পারি, এ ক্ষেত্রে শেখ মুজিবুর রহমান দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠ জননেতা। তার বাগ্মিতার তুলনা মেলা ভার।

তিনি দক্ষিণ এশিয়ার গণ্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক নেতা হয়ে উঠছিলেন। দক্ষিণ এশিয়ার দুর্ভাগ্য যে, এ ধরনের জনপ্রিয় রাষ্ট্রনেতাদের অকালেই প্রাণ হারাতে হয়। বঙ্গবন্ধু, ইন্দিরা গান্ধী, রাজীব গান্ধী, বন্দরনায়েকে— এরা জীবিত থাকলে আজ হয়তো দক্ষিণ এশিয়ার চেহারা অন্যরকম হতো।

১৯২০ সালের ১৭ মার্চ টুঙ্গিপাড়ায় ক্ষণজন্মা শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন বাঙালির মুক্তির দূত। বঙ্গ বা বাংলার সত্যিকারের আপজন হয়ে উপাধি পেয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। অদম্য সাহস আর বীরত্বপূর্ণ নেতৃত্ব, ত্যাগ, সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বিশ্ব মানচিত্রে লাল-সবুজের পতাকা সম্বলিত বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জনক হয়েছিলেন। জাতির পিতার সকল অনুভূতি ছিলো, এ দেশের মানুষের প্রতি।

তাই তো বাঙালি জাতির প্রতি তার গভীর ভালোবাসা, মমত্ববোধ, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও আর্শের দ্বারা সমগ্র বাঙালি জাতিকে উজ্জীবিত করে স্বাধীনতা অর্জনের চূড়ান্ত আত্মত্যাগে দীক্ষিত করে তুলেছিলেন। তার নেতৃত্বে ’৪৮-এর ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগের জন্মলাভ, ’৪৮-এর মার্চে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা ঘোষণার প্রতিবাদে আন্দোলন, ’৪৯-এর ২৩ জুন আওয়ামী লীগের জন্ম, ’৫২-এর রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন, ’৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ’৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, ’৬৬-এর ছয়দফা, ’৬৮-এর আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা ও ১১-দফা, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ’৭০-এর নির্বাচনে ‘আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়সহ ইতিহাস সৃষ্টিকারী নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতির স্বাধীনতা অর্জনের আকাঙ্ক্ষা চূড়ান্ত লক্ষ্যে এগিয়ে যায়।

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণে স্বাধীনতা সংগ্রামের অগ্নিশপথে ঐক্যবদ্ধ হয় বাঙালি জাতি। ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করলে শুরু হয় সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ। বঙ্গবন্ধুর কালজয়ী নেতৃত্বে পাকিস্তানি দুঃশাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ২৪ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের স্ফুলিঙ্গে উজ্জীবিত ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা।

বাঙালি জাতির অস্থিমজ্জায় মিশে আছেন বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। মুজিবাদর্শে শানিত বাংলার আকাশ-বাতাস জল-সমতল। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের কাছে শেখ মুজিবুর রহমানের অবিনাশী চেতনা ও আদর্শ চির প্রবাহমান থাকবে।

তিনি বাংলার মাটি ও মানুষের পরম আত্মীয়, শত বছরের ঘোর নিশীথিনীর তিমির বিদারী অরুণ, ইতিহাসের বিস্ময়কর নেতৃত্বের কালজয়ী স্রষ্টা, বাংলার ইতিহাসের মহানায়ক, স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা, স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা।

উন্নত সমৃদ্ধ ‘সোনার বাংলা’র স্বপ্নসারথী। সারাটি জীবন পরাধীনতা শিকল থেকে বাঙালি জাতিকে স্বাধীন, ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত স্বনির্ভর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় কাজ করে গেছেন। ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট নরপিশাচরূপী খুনিরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ করতে ঘৃণ্য ইনডেমনিটি আইন জারি করে।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে দীর্ঘ ২১ বছর বাঙালি জাতি বিচারহীনতার কলঙ্ককের বোঝা বহন করতে বাধ্য হয়। জাতির পিতার কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গঠিত সরকার বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে নিয়মতান্ত্রিক বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ২০১০ সালে ঘাতকদের ফাঁসির রায় কার্যকর করার মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করে।

জাতির পিতা চেয়েছিলেন ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের জনগণের মুক্তির যে স্বপ্ন দেখেছিলেন তার সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যকে জয় করে বিশ্বসভায় একটি উন্নয়নশীল, মর্যাদাবান জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ। সারা বিশ্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল। বাঙালি জাতি কৃতজ্ঞচিত্তে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ‘মুজিববর্ষ’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

বাঙালি জাতি বঙ্গবন্ধ ুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০৪১ সালের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীন বাংলাদেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশে পরিণত করবে। সেই স্বপ্নময় ভবিষ্যতের বিনির্মাণের জন্য জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ থাকার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে বাঙালি জাতি গভীর শ্রদ্ধার সাথে পালন করবে জাতীয় শোক দিবস।

জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী অঙ্গ সংগঠনসহ সরকারি ও বেসরকারিভাবে সারা দেশে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। দিনটি সরকারি ছুটির দিন।

রাষ্ট্রীয়ভাবে দিবসটি পালিত হবে। সারা দেশসহ বিদেশে বাংলাদেশ মিশনে জাতীয় পতাকা রাখা হবে অর্ধনমিত। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন।

আজ সূর্যোদয় ক্ষণে বঙ্গবন্ধু ভবন এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সংগঠনের সকল স্তরের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে। সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক স্মৃতি-বিজড়িত ধানমন্ডিস্থ বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করবেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী।

এছাড়াও ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন এবং নগরীর প্রতিটি শাখা থেকে শোক মিছিলসহ বঙ্গবন্ধু ভবনে শ্রদ্ধা নিবেদন করবে। সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে বনানী কবরস্থানে ১৫ আগস্টের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন, মাজার জিয়ারত, ফাতেহা পাঠ, মোনাজাত ও মিলাদ মাহফিল। সকাল ১০টায় টুঙ্গীপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন, ফাতেহা পাঠ, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। টুঙ্গীপাড়ার কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত থাকবেন।

এছাড়া বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের নেতৃবৃন্দসহ সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন। বাদ জোহর দেশের সকল মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল।

মন্দির, প্যাগোডা, গির্জা, উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা আয়োজন করা হবে। এর অংশ হিসেবে সকাল ৯টায় ওয়াইএমসিএ চ্যাপেল, ১৯ সেনপাড়া, পর্বতা, মিরপুর-১০ এ খ্রিস্টান সম্প্রদায়, সকাল ১০ টায় মেরুল বাড্ডাস্থ আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারে বৌদ্ধ সম্প্রদায় এবং সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে হিন্দু সম্প্রদায় বিশেষ প্রার্থনা সভার আয়োজন করবে। দুপুরে অস্বচ্ছল, এতিম ও দুঃস্থ মানুষদের মাঝে খাদ্য বিতরণ করা হবে। বাদ আছর বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হবে।

এছাড়া আগামীকাল ১৬ আগস্ট শুক্রবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনা সভায়র আয়োজন করা হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সাথে সামঞ্জস্য রেখে দলের সহযোগী, ভ্রাতৃপ্রতিম, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সংস্থাসমূহকে কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

শোক দিবসে নগরজুড়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা
জাতীয় শোক দিবসে ধানমন্ডি ৩২, বঙ্গবন্ধু জাদুঘর ও বনানী কবরস্থানসহ নগরজুড়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া। তিনি বলেন, শোক দিবস উপলক্ষে শহীদদের উদ্দেশ্যে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও সম্মান প্রদর্শন করবেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, মন্ত্রী, এমপিসহ সামরিক-বেসামরিক ও কূটনীতিকরা। তাদের নিরাপত্তায় কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২-এ গতকাল বুধবার বেলা ১১টায় জাতীয় শোক দিবসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন আছাদুজ্জামান মিয়া। ধানমন্ডি ৩২-এ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে আসা সর্বস্তরের মানুষকে শৃঙ্খলার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতার অনুরোধ জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে ডগ স্কোয়াড দিয়ে সুইপিং করা হবে। প্রত্যেকটি গেটে আর্চওয়ে থাকবে। আর্চওয়ের মধ্য দিয়ে সবাইকে তল্লাশি করে প্রবেশ করতে দেয়া হবে।

আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, শোক দিবসে শ্রদ্ধা জানাতে ধানমন্ডি ৩২-এ সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে। শৃঙ্খলার স্বার্থে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও যান চলাচলে নতুন নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। নিরাপত্তায় নির্ধারিত পোশাকে ও সাদা পোশাকে পুলিশ, র‌্যাবের সদস্যরা সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবেন। ভিভিআইপিদের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে উন্মুক্ত করে দেয়া হবে ধানমন্ডি ৩২ এলাকা। তবে সবাইকে আর্চওয়ে ও তল্লাশির মধ্য দিয়ে ঢুকতে হবে।

কমিশনার বলেন, পুরো ধানমন্ডি ৩২ এলাকা নিরাপত্তার স্বার্থে সিসি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। চেকপোস্ট ও আর্চওয়ে পেরিয়ে সবাইকে যেতে হবে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে। ডিএমপি কমিশনার জানান, ভিভিআইপিদের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাধারণ মানুষ রাজনৈতিক-নেতাকর্মীরা রাসেল স্কয়ার দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে পারবেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে পশ্চিম প্রান্ত দিয়ে বেরিয়ে যাবেন। শ্রদ্ধা নিবেদনের ক্ষেত্রে অনেকে সেলফি বা ছবি তুলতে গিয়ে জটলা পাকান।

অন্যদের শ্রদ্ধা নিবেদনে সুযোগ করে দিতে সবাই যথাসম্ভব দ্রুত বেরিয়ে যাবেন। তিনি আরও জানান, এ এলাকা যানবাহনমুক্ত থাকবে। সোনারগাঁও ক্রসিং থেকে রাসেল স্কয়ার, সিটি কলেজ থেকে রাসেল স্কয়ার পর্যন্ত, ধানমন্ডি ২৭ থেকে রাসেল স্কয়ার পর্যন্ত যানবাহন চলাচল ও পার্কিং বন্ধ থাকবে। নিরাপত্তার স্বার্থে সবাইকে হেঁটে আসতে হবে। ধানমন্ডি লেকেও পাহারা থাকবে।

সেখানে নিরাপত্তা বাহিনী ও গোয়েন্দা সদস্যরা নিয়োজিত থাকবেন। এ ছাড়া নগরজুড়ে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের কাঙ্গালিভোজসহ অজস্র অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকবে। সেখানেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে বলেও জানান ডিএমপি কমিশনার।

এর আগে কমিশনার পুরো এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম, কৃঞ্চপদ রায়, মীর রেজাউল আলম ও আব্দুল বাতেনসহ ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত