শিরোনাম

ডেঙ্গুতে ৯৬ জনের মৃত্যু পর্যালোচনায় আসেনি

প্রিন্ট সংস্করণ॥নিজস্ব প্রতিবেদক   |  ০৭:২৮, সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৯

ডেঙ্গুর ভয়াবহতা অনেকটা কমে এসছে। প্রতিদিন তুলনামূলক কম আক্রান্তের খর আসছে। গতকাল বুধবার সকাল পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ৬৩৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন।

তবে আক্রান্তের হার কমে এলেও মৃত্যু এখনো পিছু ছাড়েনি। গতকাল বুধবার বিকাল পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় খুলনা, বরিশাল ও যশোরে নারী ও শিশুসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

এভাবে প্রতিদিন ডেঙ্গুতে মানুষের মৃত্যু বেড়েই চলছে। আক্রান্ত মানেই এখন মৃত্যুভয়। বেসরকারি হিসাবে চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে অন্তত দুই শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

তবে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) কাছে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ১৯৭ জনের তথ্য এসেছে।

এর মধ্যে ১০১ জনের মৃত্যু পর্যালোচনা করে ৬০ জনের ডেঙ্গুজনিত মৃত্যু বলে নিশ্চিত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে প্রতিদিনই মৃতের সংখ্যা বাড়ছে বলে জানা যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে।

এ সংখ্যা এখনো সরকারি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি। তা ছাড়া এবার ডেঙ্গুতে শিশুমৃত্যুর হারও সর্বোচ্চ বলে জানা গেছে আইইডিসিআর সূত্রে।

সরকারের এই গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির মতে, ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত মৃত্যুর ৩৮ দশমিক ৫ শতাংশের বয়সই ১৮ বছরের নিচে। যাদের মধ্যে ১২ জনের বয়স পাঁচ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে। যা মোট মৃত্যুর ২৩ দশমিক এক ভাগ।

ডেঙ্গুজনিত রোগে মারা যাওয়া ৫৭ জনের মধ্যে ৩৮ জনের ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোম এবং ছয়জনের হেমোরেজিক জ্বর ছিলো। ২২ জনের মধ্যে এর আগে ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া মৃতদের মধ্যে ২১ জনের বয়সই ১৮ বছরের নিচে।

এ প্রসঙ্গে আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেবরিনা ফ্লোরা বলেন, আমাদের একটি ‘ডেঙ্গু ডেথ রিভিউ’ কমিটি মূলত ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে কারা মারা গেছে তা নিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছে।

এই কমিটিতে দেশের মেডিসিন, পেডিয়াট্রিক্স, ইপিডেমিওলজি ও ল্যাবরেটরি বিশেষজ্ঞরা আছেন। আরও বিশেষজ্ঞদের এই কমিটিতে যোগ করা হয়।

এ কমিটিই মূলত, সন্দেহজনক ডেঙ্গুজনিত রোগের কারণে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করে। পাশাপাশি ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত রোগের গতি-প্রকৃতি, চিকিৎসা ও সংশ্লিষ্ট সব বিশ্লেষণ করে থাকে।

বুধবারও নারী ও শিশুসহ তিনজনের মৃত্যু : মৃত্যু থেমে নেই। গতকালও তিনজের মৃত্যুর খবর এসেছে। এদের মধ্যে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জিহাদ (১৪) নামে স্কুলছাত্রের গতকাল বুধবার পৌনে ২টার দিকে মৃত্যু হয়েছে।

জিহাদ মুলাদী উপজেলার চরলক্ষ্মীপুর গ্রাামের বাসিন্দা। সে মুলাদির একটি স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। জিহাদ ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে গত মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি হয়।

তবে ভর্তির সময় তার অবস্থা গুরুতর ছিলো বলে জানান চিকিৎসকরা।

এদিকে গতকাল বুধবার সকালে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জাহিদা খাতুন (৩৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি জেলার মনিরামপুর উপজেলার হানুয়ার গ্রামের কাদের মোল্লার স্ত্রী।

গত ৯ সেপ্টেম্বর তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। যশোর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ওবায়দুল কাদের উজ্জ্বল জানান, ডেঙ্গু আক্রান্ত জাহিদার মৃত্যু হয়েছে।

তবে ডেঙ্গু আক্রান্ত হলেও তিনি লিভারসিরোসিসসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন।

এছাড়াও গত মঙ্গলবার গভীর রাতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রহিমা বেগম (৫০) নামে এক গৃহবধুর মৃত্যু হয়েছে। তিনি সাতক্ষীরার তালা উপজেলার আজরাইল গ্রামের রফিকুল ইসলামের স্ত্রী।

এ নিয়ে খুলনায় ১১ রোগী ডেঙ্গুজ্বরে মারা গেছেন। খুমেকের আরপি ডা. শৈলেন্দ্রনাথ বিশ্বাস জানান, রহিমা বেগম গত সোমবার হাসপাতালে ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ভর্তি হন। মঙ্গলবার গভীর রাতে চিকিৎসা চলাকালীন তার মৃত্যু হয়।

সারা দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি : স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের সহকারী পরিচালক ডাক্তার আয়েশা আক্তার জানান, রাজধানীর ৪১টি সরকারি-বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত হাসপাতাল এবং বিভিন্ন বিভাগীয় হাসপাতালে গত মঙ্গলবার সকাল থেকে গতকাল বুধবার সকাল পর্যন্ত ৬৩৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। ভর্তিদের মধ্যে রাজধানী ঢাকার হাসপাতালে ২২১ জন ও ঢাকার বাইরের হাসপাতলে ৪১৩ জন ভর্তি হন।

এদের মধ্যে ঢাকা মেডিকেলে ৪৯, মিটফোর্ডে ৩০, ঢাকা শিশু হাসপাতালে ৩, শহীদ সোহরাওয়ার্দীতে ২৪, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবে ১১, মুগদা মেডিকেলে ২৫, কুর্মিটোলা জেনারেলে ১২, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চারজন। এ ছাড়া রাজধানীর বাইরে ঢাকা বিভাগে ৮৯, চট্টগ্রাম বিভাগে ৫১, খুলনা বিভাগে ১৩৮, রাজশাহী বিভাগে ৪৫, রংপুর বিভাগে ১২, বরিশাল বিভাগে ৬৭, সিলেট বিভাগে পাঁচ এবং ময়মনসিংহ বিভাগে সাতজন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ৭৮ হাজার ৬১৭ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

এখন মাত্র তিন হাজার ১৬৫ জন হাসপাতালে আছেন। বাড়ি ফিরেছেন ৭৫ হাজার ২৫৫ জন। ঢাকায় এ পর্যন্ত ৪৪ হাজার ২০১ জন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।

৪২ হাজার ৬০৮ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি গেছেন। এক হাজার ৪৩৪ জন হাসপাতালে আছেন।

অন্যদিকে ঢাকার বাইরে সারা দেশে ৩৪ হাজার ৪১৬ জন আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এখন এক হাজার ৭৩১ জন হাসপাতালে ভর্তি।

শুধু আগস্ট মাসেই ৫১ হাজার ৭৩৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। গতকাল পর্যন্ত সেপ্টেম্বর মাসের ১১ দিনে সাত হাজার ৫২০ জন আক্রান্ত হয়েছে।

গত জুলাই মাসের ৩১ দিনে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা আগস্টের এক-তৃতীয়াংশের চেয়ে কম।

জুলাই মাসে ডেঙ্গু ভাইরাসে মোট ১৬ হাজার ২৫৩ জন আক্রান্ত হলেও মৃত্যুর সংখ্যা ছিলো ২৮। সরকারি হিসাবে আগস্টে মৃতের সংখ্যা ২২ জনে ঠেকেছে।

অপর দিকে, গত জুন মাসের ৩০ দিনে যা আক্রান্ত হয়েছে আগস্টের প্রথম সপ্তাহে এর চেয়ে বেশি একদিনেই আক্রান্ত হয়েছে। জুনে আক্রান্তের সংখ্যা ছিলো এক হাজার ৮৮৪ জন।

এ মাসে তুলনামূলক মৃত্যুর সংখ্যা বেশি ছিলো— পাঁচজন। এপ্রিলে মারা গেছে দুইজন এবং ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিলো ৫৮ জন।

মে মাসে আক্রান্ত ছিলো ১৯৩, কিন্তু কোনো মৃত্যু ছিলো না। এছাড়া গত জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে ৩৮, ১৮ ও ১৭ জন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত