শিরোনাম

বিএডিসি’র ৫৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে কৃষিমন্ত্রী

‘আগে কৃষকদের ভর্ৎসনা করতো এখন গর্ব করে’

নিজস্ব প্রতিবেদক   |  ১২:৩৫, অক্টোবর ১৩, ২০১৯

কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, চাষা বলে একসময় অভিজাত শ্রেণির লোকেরা মানুষকে ভর্ৎসনা করতো। কালের বিবর্তনে আজ অভিযাত শ্রেণির শিক্ষিত লোকেরা গর্ব করে কৃষিকাজের নিজের সম্পৃক্ততার কথা বলেন। কিন্তু বর্তমানে কৃষি শ্রমিকরা যে পারিশ্রমিক পায় তা দিয়ে তাদের জীবন চলা দায়।

তিনি বলেন, কৃষির আধুনিকায়ন ও বাণিজ্যিকীকরণই কৃষকদের আশার আলো দেখাবে। সেই সাথে কৃষি প্রক্রিয়াজাত করে রপ্তানী করতে হবে। অপ্রচলিত অধিক মূল্যেও ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে।

রোববার (১৩ অক্টোবর) রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের(বিএডিসি) ৫৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

দিনের শুরুতে বেলুন উড়িয়ে দিবসের শুভ সূচনা করেন এবং দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত মেলার স্টল পরিদর্শন করেন। পরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মূর‌্যাল উন্মোচন করে ইলেকট্রনিক গেট এবং ভবনের দশম তলায় বঙ্গবন্ধু কর্ণার উদ্বোধন করেন।

মন্ত্রী বলেন, ৭৫ পরবর্তী সরকার গণতন্ত্রের মুখোশ পরে দেশ ও জনগণকে শোষণ করেছে। এদেশের কৃষকরা সারের জন্য জীবন দিয়েছে। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা কৃষকের ঘরে ঘরে সার পৌঁছে দিয়েছেন, সার নিয়ে এখন আর কৃষকদের মধ্যে কোনো উৎকণ্ঠা নেই।

তিনি বলেন, সারের মূল্য কমিয়ে কৃষকদের হাতের নাগালে রেখেছেন; এছাড়া কৃষি যন্ত্রপাতি, বীজসহ বিভিন্ন খাতে প্রণোদনা প্রদানের ফলে দেশের কৃষির সাফল্য বিশ্বস্বীকৃত। সরকারের লক্ষ্য ছিল খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, তা হয়েছে। এমডিজি’র গোল অর্জিত হয়েছে, এখন পালা এসডিজি’র গোল অর্জনের, ইতোমধ্যে ক্ষুধামুক্ত হয়েছে দেশ। এখন চ্যালেঞ্জ হচ্ছে পুষ্টিকর নিরাপদ খাদ্য, তাও ২০৩০ সালের আগেই অর্জিত হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করেছে। তাই সবাইকে জবাবদিহীতার আওতায় আসতে হবে। বিএডিসিকেও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। নতুন নতুন প্রযুক্তি ও জাত উদ্ভবন করে মানুষের কাছে দ্রুত পৌঁছাতে হবে। প্রতিষ্ঠানের সম্মান বৃদ্ধির জন্য সততা ও আন্তরিকতার সাথে কাজ করতে হবে।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে জনসেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে হবে। বঙ্গবন্ধু কৃষিবিদদের প্রথম শ্রেণির মর্যাদা দিয়ে বলেছিলেন আমার মান রাখিস, কৃষিবিদরা তার মান রেখেছে রাখবে; প্রধানমন্ত্রীরও মান রাখবে। তাহলেই এসডিজি’র লক্ষ্য মাত্রা ২০৩০ সালের আগেই অর্জন করতে পারবো।

বিএডিসি’র চেয়ারম্যান মো: সায়েদুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন কৃষি সচিব ড.এস এম নাজমুল ইসলাম, কৃষি সচিব মো: নাসিরুজ্জামান ও সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নান।

বিএইচ/আরআর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত