শিরোনাম

গণভবনে আবরারের পরিবার

জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়ার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

প্রিন্ট সংস্করণ॥নিজস্ব প্রতিবেদক   |  ০৭:৪১, অক্টোবর ১৪, ২০১৯

বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দোষী যে দলেরই হোক না কেন তাদের ছাড় দেয়া হবে না। গতকাল বিকালে আবরারের বাবা-মা ও পরিবারের সদস্যরা গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করতে গেলে তাদের এ আশ্বাস দেন তিনি।

গণভবন সূত্র জানায়, বিকাল পাঁচটায় আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ, মা রোকেয়া বেগম এবং ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ গণভবনে যান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে। এ সময় তাদের সান্ত্বনা দেন শেখ হাসিনা। তিনি তাদের আশ্বাস দিয়ে বলেন, অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

গণভবনে আবরার ফাহাদের মা রোকেয়া খাতুনের সাথে সাক্ষাতের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে জড়িয়ে ধরে বলেন, আমি ঘটনাটি শোনার সাথে সাথে সিসি টিভি ফুটেজ দেখে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছি। আমি দেখতে চাইনি কে কার লোক। অপরাধী কে বা কোন দল করে সেটা বিবেচনা করিনি। ওই সময় কিছু শিক্ষার্থী ভিডিও ফুটেজ আটকানোর চেষ্টা করেছে। সেটা তারা কেন করেছে তা এখনো আমার বোধগম্য নয়। তা না হলে হয়তো সব অপরাধী আরও আগেই গ্রেপ্তার হতো।

তিনি আবরারের মায়ের উদ্দেশে আরও বলেন, আপনাকে সান্ত্বনা জানানোর ভাষা আমার জানা নেই। শুধু বলবো আমাকে দেখেন। স্বজন হারানোর বেদনা আমি বুঝি। আমিও এক রাতে সব হারিয়েছিলাম। আমি তখন বিচারও পাইনি। কিন্তু আজ বিচার হচ্ছে।

আবরার হত্যার পর হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কঠোর ভূমিকার কথা উল্লেখ করে আবরারের মা রোকেয়া খাতুন বলেন, আপনি মায়ের আসনে থেকে ঘটনার পর হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে যে কঠোর ভূমিকা নিয়েছেন সে জন্য আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা আমার নেই। এ সময় প্রশাসন ও দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ ও কুষ্টিয়া সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউর রহমান।

উল্লেখ্য, আবরার ফাহাদ ছিলেন বুয়েটের তড়িৎকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। গত ৭ অক্টোবর ভোরে বুয়েটের শেরে বাংলা হলের সিঁড়ি থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। জানা যায়, শিবির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী তাকে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন, পাশাপাশি মোবাইলে তার মেসেঞ্জার ও ফেসবুক অ্যাকাউন্ট যাচাই-বাছাই করেন।

একপর্যায়ে তাকে প্রচণ্ড মারধর করা হয়। পরে আবরার নিস্তেজ হয়ে পড়লে তাকে সিঁড়িতে ফেলে রেখে যান ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। আবরার হত্যাকাণ্ডে জড়িত হিসেবে এরই মধ্যে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগও বুয়েট শাখার ১১ নেতাকে বহিষ্কার করেছে।

এ ঘটনায় আবরারের বাবা ১৯ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন চকবাজার থানায়। আবরার হত্যার জের ধরে এরই মধ্যে বুয়েটে সাংগঠনিক ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত যে ১৯ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে তাদের সাময়িক বহিষ্কারও করতে বাধ্য হয়েছে বুয়েট প্রশাসন। আবরার হত্যার বিচারের দাবিতে বুয়েট শিক্ষার্থীরা এখনো আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত