শনিবার ০৮ আগস্ট ২০২০

২৪ শ্রাবণ ১৪২৭

ই-পেপার

বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি

ডিসেম্বর ০৭,২০১৯, ০৬:৫২

ফেব্রুয়ারি ০৯,২০২০, ১০:০৯

বিনাচাষে রসুন চাষে ব্যস্ত বড়াইগ্রামের কৃষকরা

গত মৌসুমে ভালো দাম পাওয়ায় বড়াইগ্রামের চাষিরা নিজেদের উদ্ভাবিত বিনাচাষে রসুন আবাদে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। কৃষকেরা বর্তমানে উপজেলার মাঠে মাঠে স্ত্রী-সন্তানদের সাথে নিয়ে রসুন চাষে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। এদিকে, ব্যাপক হারে রসুন বোনার ধুম পড়ায় শ্রমিকের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এ কারণে উপজেলার রয়না ভরট হাটে প্রতিদিন সকালে নাটোরসহ পার্শ্ববর্তী পাবনা ও সিরাজগঞ্জ থেকে আসা শ্রমিকের হাট বসছে। কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত বছর উপজেলায় আট হাজার একশ হেক্টর জমিতে রসুন চাষ হয়েছিল। তবে এবার ১১ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে রসুন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গতবারের চেয়ে তিন হাজার ৫০০ হেক্টর বেশি। দো-আশ ও এঁটেল দোঁ-আশ মাটি রসুন চাষের জন্য বেশি উপযোগী হওয়ায় এ উপজেলায় বরাবরই সর্বাধিক জমিতে রসুন চাষ হয়। গত মৌসুমে প্রতি মণ রসুন তিন হাজার থেকে সর্বোচ্চ আট হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এতে উৎপাদণ খরচ বাদে কৃষকেরা আর্থিকভাবে যথেষ্ঠ লাভবান হয়েছেন। তাই এবারো চাষিরা ব্যাপক হারে রসুন আবাদে ঝুঁকেছেন। এছাড়া অধিক লাভের আশায় কোনো কোনো কৃষক রসুনের জমিতেই সাথীফসল হিসেবে তরমুজ ও বাঙ্গির বীজও রোপণ করছেন। কৃষকেরা জানান, এ পদ্ধতিতে রসুন আবাদে জমি চাষ করতে হয় না। সাধারণত কার্তিক-অগ্রহায়ণ মাসে বর্ষার পানি নেমে গেলে ধান কাটার পর নরম জমিতে বিনাচাষে রসুনের কোয়া লাগানো হয়। এ পদ্ধতিতে আগাছা কম জন্মে এবং সার কম লাগে। ফসল সংগ্রহ ও সংরক্ষণ, রোগবালাই দমন ও অন্যান্য পরিচর্যা স্বাভাবিক রসুনের মতোই। এ পদ্ধতিতে ফলন বেশি হয়। প্রতি বিঘা জমিতে ২০-২৫ মণ হারে রসুন পাওয়া যায়। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মেহেদী হাসান জানান, প্রতি বিঘা জমিতে ৩০ কেজি টিএসপি, ২৫ কেজি পটাশ ও ১৫ কেজি জিপসাম ছিটানোর দুই-একদিনের মধ্যে নরম জমিতে রসুন বীজ রোপণ করতে হয়। রোপণের জন্য প্রতি বিঘা জমিতে দুই মণ রসুন লাগে। রসুন রোপণের দিনই খড় দিয়ে জমি ঢেকে দিতে হয়। একমাস পরে সেচ দিয়ে বিঘায় ১০ কেজি হারে ইউরিয়া ও পাঁচ কেজি হারে এমওপি ছিটিয়ে দিলে ভালো ফলন হয়। মামুদপুর গ্রামের চাষি বিদ্যুৎ কুমার জানান, গত মৌসুমে রসুন চাষ করে বেশ ভালো দাম পেয়েছি। তাই এবারো তিন বিঘা জমিতে রসুন চাষ করেছি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল আহমেদ বলেন, গত মৌসুমে রসুনের ভালো দাম থাকায় উপজেলার রসুনচাষিরা বেশ লাভবান হয়েছেন। এবারো সবাই রসুন চাষে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। গত বছরের চেয়ে এ বছর অধিক জমিতে রসুন চাষ হবে বলে আশা করছি। এমআর