বুধবার ১২ আগস্ট ২০২০

২৮ শ্রাবণ ১৪২৭

ই-পেপার

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

ডিসেম্বর ১১,২০১৯, ১২:০৯

ফেব্রুয়ারি ০৯,২০২০, ১০:০৯

‘আব্বু-আম্মু স্বাভাবিকভাবেই আমার মাটি দিও!’

কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় নূপুর বিশ্বাস মায়া (১৭) নামে এক এইচএসসি পরীক্ষার্থী বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন। জানা গেছে, কলেজের টেস্ট পরীক্ষায় ফেল করায় এমন কাণ্ড ঘটিয়েছেন নূপুর। মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। নিহত নূপুর হরিণারায়রপুর এলাকার মাছ ব্যবসায়ী বাবুল হোসেনের মেয়ে। তিনি দোয়ারকাদাস আগরওয়াল মহিলা কলেজ থেকে এবার মানবিক বিভাগে টেস্ট পরীক্ষা দিয়েছিলেন। কলেজের অধ্যক্ষ আসাদুজ্জামান বলেন, এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের চূড়ান্ত পরীক্ষার রেজাল্টে চারটি বিষয়ে ফেল করে নূপুর। এর আগে সে দুই বিষয়ে ফেল করেছিল। তিনি আরো বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে মাকে সঙ্গে নিয়ে কলেজে আসে নূপুর। এ সময় শিক্ষকদের কাছ থেকে জানতে পারে, নূপুর চারটি বিষয়ে ফেল করেছে। এই কথা শুনে নূপুরের মা তাকে বকাঝকাও করেন। গতকাল কলেজে অধ্যক্ষের রুমে প্রবেশের পর নূপুরের কথাবার্তা অসংলগ্ন ছিল। সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারছিল না। কথা বলতে বলতেই মাটিতে লুটিয়ে পড়ে সে। ওই সময় তার হাতে থাকা একটি কাচের বোতল ছিটকে পড়ে। ধারণা করা হচ্ছে, সেই বোতলে বিষাক্ত কিছু ছিল। কলেজের শিক্ষক সেলিম জানান, স্থানীয় চিকিৎসকরা তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করান। তবে হাসপাতালে নেয়ার পথেই মারা যায় নূপুর। নূপুরের মা লাভলী খাতুন বলেন, নূপুর বাড়ি থেকে স্বাভাবিকভাবে স্কুলে যায়। কলেজে যাওয়ার পর সে আর সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারছিল না। কথা বলতে বলতেই মাটিতে পড়ে যায়। কলেজে যাওয়ার আগেই হয়তো বিষপান করেছিল। এদিকে নূপুরের লেখা চিরকুটটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। এতে লেখা ছিলো, আব্বু-আম্মু আমায় ক্ষমা করে দিও। আমি কখনও চাই না আমার জন্য তোমরা আর কষ্ট পাও। আমি ভালোভাবে পড়াশোনা করতে চেয়েছিলাম, অনেক স্বপ্ন ছিল আমার। আমি জানি আমাকে নিয়েও অনেক স্বপ্ন ছিল তোমাদেরও। আমি যে তোমাদের একমাত্র মেয়ে। আমি পৃথিবী থেকে চলে গেলাম। আমায় ক্ষমা করো। আর আমার জন্য একটুও কষ্ট পেও না। আমি চাই আমার লাশটা যেন স্বাভাবিকভাবে মাটি দেয়া হয়। আত্মহত্যা করলে পুলিশ আসে, তারা ময়নাতদন্ত করে। এভাবে মরলে তো কোথায় যেন লাশ পাঠায়। ওখানে আমার খুব ভয় লাগে। স্বাভাবিকভাবেই আমার মাটি দিও। পুলিশরা যেন অন্য সবার মতো আমার লাশকে কষ্ট না দেয়, আমায় যেন স্পর্শ না করে। আমায় ভালোভাবে মাটি দিও। ও আম্মু আমার যে মরে যাওয়ার পর অনেক ভয় লাগবে, আমাকে তো কবরে জায়গা দেবে না, আমার যে খুব কষ্ট হবে। ক্ষমা করে দিও। কলেজের স্যার রা চাইলে হয়তো আমার ভবিষ্যৎ নষ্ট হতো না। এ প্রসঙ্গে নিহতের বাবা বাবুল আহমেদ জানান, নূপুর ভীষণ অভিমানী ছিলো। নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ায় হয়তো সে অভিমানে বিষপান করেছে। কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার এসআই আরিফ বলেন, নূপুরের লেখা চিরকুটে কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ ছিল না। ডিসির অনুমতি নিয়ে পরিবারের সম্মতিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফন করা হয়েছে। জেডআই