বুধবার ১২ আগস্ট ২০২০

২৮ শ্রাবণ ১৪২৭

ই-পেপার

প্রিন্ট সংস্করণ॥কাজী ইহসান বিন দিদার

ডিসেম্বর ১৫,২০১৯, ১২:৪৫

ফেব্রুয়ারি ০৯,২০২০, ১০:০৯

তাহলে কি আত্মহত্যা করেছিল রুম্পা!

  • ধর্ষণের আলামত পায়নি ঢামেক ফরেনসিক বিভাগ
  • সৈকতকে রিমান্ডে নিয়েও বের হয়নি কোনো তথ্য
  • সিটিটিভি ফুটেজও সাদাকালো ও অস্পষ্ট
স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী রুবাইয়াত শারমিন রুম্পার ‘অস্বাভাবিক মৃত্যু’কে তার সতীর্থ এবং পরিবারের সদস্যরা হত্যাকাণ্ড আখ্যা দিলেও যতই দিন যাচ্ছে ততই যেন মনে হচ্ছে ঘটনাটি একটি ‘আত্মহত্যা’! কারণ প্রথমত, রুম্পার মরদেহের ময়নাতদন্তে তার শরীরে ধর্ষণের কোনো আলামত পায়নি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) ফরেনসিক বিভাগ। আর দ্বিতীয়ত, গোয়েন্দা পুলিশও রুম্পার সাবেক প্রেমিক আবদুর রহমান সৈকতকে রিমান্ডে নিয়েও বের করতে পারেনি কোনো তথ্য। তাই সব মিলিয়ে এখন সন্দেহের তীর আত্মহত্যার দিকে। গতকাল শনিবার, ঢামেকের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ আমার সংবাদকে বলেন, রুম্পার মরদেহ ময়নাতদন্তে আমরা তিনটি টেস্ট করেছি। এগুলোর মধ্যে, বায়োলজিক্যাল টেস্টের প্রতিবেদন আমাদের হাতে এসেছে। সেটি অনুযায়ী, তার শরীরে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। রোববার (আজ) আরও দুটি প্রতিবেদনের রিপোর্ট পাওয়া যাবে। সব পেলে তিনটা মিলে একটা প্রতিবেদন তৈরি করে আমরা পুলিশের কাছে জমা দেব। এদিকে, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের রমনা জোনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার এস এম শামীম আমার সংবাদকে বলেন, আমরা এখনো কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারিনি। তদন্তের জন্য আরও সময় প্রয়োজন। কেননা, শুনেছি রুম্পার শরীরের বায়োলজিক্যাল টেস্টের রিপোর্টে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। আর সিটিটিভি ফুটেজও সাদাকালো ও অস্পষ্ট। যে কারণে কোনো কিছুই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে, রুম্পার পরিবার ও তার সহপাঠীরা এখনো বলছেন, রুম্পা আত্মহত্যা করতে পারেন না। এ ধরনের মেয়ে তিনি ছিলেন না। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ৪ ডিসেম্বর দিবাগত রাত পৌনে ১১টার দিকে সিদ্ধেশ্বরীর সার্কুলার রোডের ৬৪/৪ নম্বর বাসার নিচে অজ্ঞাত মরদেহ দেখে পুলিশকে খবর দেয় স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা হত্যার আলামত সংগ্রহ করেন। সুরতহালে পুলিশ গুরুতর কিছু ইনজুরি পায়। সংগৃহীত আলামত ফরেনসিকে পাঠায়। ওই ঘটনার পরদিন পুলিশ বাদি হয়ে রমনা থানায় একটি হত্যামামলা করে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানো হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে। এরপর ৫ ডিসেম্বর রাতে রমনার ওসি নিহতের পরিচয় নিশ্চিতের তথ্য জানান। তিনি বলেন, নিহতের নাম রুবাইয়াত শারমিন রুম্পা। তার বাবার নাম রোকন উদ্দিন। তিনি হবিগঞ্জ এলাকায় পুলিশ ইন্সপেক্টর হিসেবে কর্মরত। রুম্পার বাড়ি ময়মনসিংহ জেলায় হলেও রাজধানীর মালিবাগের শান্তিবাগ এলাকায় থাকতেন। রুম্পার মৃত্যুর ঘটনায় তার সাবেক প্রেমিক আবদুর রহমান সৈকতকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর তাকে রিমান্ডেও নেয়া হয়। তখন, প্রাথমিকভাবে গোয়েন্দা পুলিশ ধারণা করেছিল, রুম্পা-সৈকতের সম্পর্কের ইতি টানতে চেয়েছিলেন সৈকত। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধ তৈরি হলে সৈকত তার সহযোগীদের নিয়ে রুম্পাকে সিদ্ধেশ্বরীর সেই বাসার ছাদে নিয়ে যান। একপর্যায়ে তাকে ওই ছাদ থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। এসটিএমএ