বুধবার ০৮ এপ্রিল ২০২০

২৫ চৈত্র ১৪২৬

ই-পেপার

নাটোর প্রতিনিধি

জানুয়ারি ১৪,২০২০, ০৮:০৩

ফেব্রুয়ারি ০৯,২০২০, ১০:০৯

নাটোরে ইটভাটায় প্রভাবে সবজি উৎপাদনে ‘ভাটা’

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার দেশব্যপী পরিচিতি শীতকালীন সবজিভূমি হিসেবে। এখানে চলনবিল অধ্যুষিত রাজশাহী বিভাগের চার জেলার ৮ উপজেলার মধ্যে তুলনামূলক বেশি শীতকালীন সবজি উৎপাদিত হয়। প্রতিবছর দেশে মোট রসুনের চাহিদার এক-তৃতীয়াংশ সরবরাহ করা হয় গুরুদাসপুর ও পার্শ^বর্তী বড়াইগ্রাম উপজেলা থেকে। এ ছাড়া বছরে আমন ধানের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ফুলকপি, বাঁধাকপি, পেঁয়াজ ও সরিষার আবাদ হয় উপজেলাজুড়ে। নাটোরের এই গুরুদাসপুর উপজেলার শীতকালীন সবজি, রাস্তাঘাট আর পরিবেশের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে ইটভাটাগুলো। এক ফসলি থেকে শুরু করে তিন ফসলি কৃষি জমিতেও ইটভাটা গড়ে তোলা হচ্ছে। এতে দিনদিন কমে যাচ্ছে আবাদি জমির পরিমাণ। সেই সাথে পাল্লা দিয়ে কমছে ফসলের উৎপাদন। গুরুদাসপুর উপজেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, উপজেলায় মোট ইটভাটার সংখ্যা ১৩টি। এর মধ্যে গুরুদাসপুর পৌর এলাকায় ইটভাটা রয়েছে ৭টি। ইউনিয়ন পর্যায়ে অবস্থিত বাকি ৬টি ইটভাটাও পৌরসভার আবাসিক এলাকার সন্নিকটে। অপরদিকে, উপজেলা কৃষি অফিসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতিটি ইটভাটা গড়ে ৩০ বিঘা করে মোট ৩ শতাধিক বিঘা কৃষিজমি দখল করেছে। এসব জমিতে রোপা, আমন, আউশ ও রবি ফসলের আবাদ হতো। বর্তমানে ইটভাটার কারণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শীতকালীন সবজিগুলো। বিশেষ করে গুরুদাসপুর পৌর এলাকার তাড়াশিয়া পাড়া ও উপজেলার চিতলাপাড়া গ্রামের ফুলকপি, বাঁধাকপি ও সরিষার আবাদ হুমকিতে পড়েছে। ইটভাটার ফ্লাইঅ্যাশ(উড়ন্ত ধোঁয়া ছাই) পার্শ্ববর্তী জমিতে ছড়িয়ে পড়ে পরিণত ফুলকপির ও সরিষার ফুল এবং বাঁধাকপির পাতা প্রতিনিয়ত কালচে বর্ণ ধারণ করছে। বিবর্ণ এসব সবজি বাজারে বিক্রি করে দাম পাচ্ছে না কৃষক। এভাবেই ইটভাটা মালিকরা পরোক্ষভাবে আবাদি জমি চাষের অনুপযোগী করে কৃষকদের বিক্রি করতে বাধ্য করছেন। সলিম উদ্দীন নামের এক কৃষক জানান, আগের মতো সবজি উৎপাদন হয় না ইটভাটার কারণে। পাশাপাশি কীটনাশক সমস্যা আছে। রসুন চাষি সাত্তার আলী জানান, ইটভাটার কারণে কোনো সবজিই তারা ভালোমতো উৎপাদন করতে পারেন না। উৎপাদন খরচ না ওঠায় তারা দিনদিন নিরুৎসাহিত হচ্ছেন সবজির উৎপাদনে। পরিবেশ অধিদপ্তরের আইন অনুযায়ী কোনো পৌর (আবাসিক) এলাকার মধ্যে ইটভাটা থাকা যাবে না। অথচ পরিবেশ অধিদপ্তরকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কোনো ছাড়পত্র ছাড়াই শত শত একর কৃষি জমিতে গড়ে তোলা হচ্ছে ইটভাটা। গত দুই দশকে এভাবেই আবাসিক এলাকায় ঢুকে গেছে ইটভাটা। চলনবিল প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম এম আলী আক্কাস বলেন, গুরুদাসপুরে আঞ্চলিক যোগাযোগের কোটি টাকা ব্যয়ের সড়কগুলো বছর না পেরোতেই নষ্ট হচ্ছে ইটভাটার কারণে। ভাটার প্রভাবে সব ধরনের শীতকালীন সবজিরও উৎপাদন কমে গেছে। স্থানীয় পরিবেশ ও উৎপাদন কেন্দ্রিক অর্থনীতি বাঁচাতে হলে দ্রুত এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল করিম বলেন, কৃষি জমিতে অকৃষি কাজ করার জন্য দিন দিন গুরুদাসপুরে ফসলের আবাদ কমে যাচ্ছে। ইটভাটাগুলো আবাসিক এলাকায় স্থাপিত হওয়ায় কৃষি জমির পরিমাণ হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি জমির উর্বরাশক্তিও কমে যাচ্ছে। গত বছর ২০ হেক্টর জমিতে কপির চাষ হলেও এবার আবাদ হয়েছে ১৮ হেক্টর জমিতে। এ ছাড়া রসুন ও সরিষার আবাদও কমছে। গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তমাল হোসেন বলেন, রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত না করে চলাসহ পরিবেশ ও ফসল রক্ষাসহ বেশ কয়েকটি বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে ইটভাটা মালিকদের। নিয়ম না মানায় ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি ইটভাটাকে জরিমানাও করা হয়েছে। ফসল, ফসলি জমি ও রাস্তাঘাটের স্বার্থে ভবিষ্যতে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমারসংবাদ/এমআর