বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর ২০২০

১৭ আশ্বিন ১৪২৭

ই-পেপার

মেহেদী হাসান মাসুদ, বালিয়াকান্দি (রাজবাড়ী)

জানুয়ারি ১৯,২০২০, ০৬:১৭

ফেব্রুয়ারি ০৯,২০২০, ১০:০৯

বালিয়াকান্দিতে পিঁয়াজ চাষে ঝুঁকছেন কৃষক

মসলা জাতীয় ফসল উৎপাদনে বিখ্যাত এলাকা হিসেবে পরিচিত রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলা। এ উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫শত হেক্টর জমিতে পিঁয়াজের আবাদ বেশি হচ্ছে। কৃষকরা তীব্র শীত উপেক্ষা করে পিয়াজের চারা রোপনে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন। এ সুযোগে পিঁয়াজ রোপনে শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে কৃষকরা অতিরিক্ত মূল্যে শ্রমিক সংগ্রহ করে দ্রুত রোপন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। বালিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুত্রে জানাগেছে, এ উপজেলাতে গত বছর সাড়ে হাজার হেক্টর জমিতে পিঁয়াজের আবাদ হয়। চলতি মৌসুমে ১০ হাজার হেক্টর জমির বেশি জমিতে পিঁয়াজের চাষ হচ্ছে। এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অধিক জমিতে পিঁয়াজের আবাদ হবে। এ উপজেলাতে লাল তীর কিং, তাহেরপুরী, ফরিদপুরী, বারি-১সহ বিভিন্ন জাতের পিঁয়াজ রোপন করা হচ্ছে। পিঁয়াজ রোপনকারী শ্রমিক জলিল, কায়সার, দাউদ, কামাল, সোহরাব আলী বলেন, উপজেলার নারুয়া, ইসলামপুর, নবাবপুর, বহরপুর, জামালপুর, বালিয়াকান্দি, জঙ্গল ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামের মাঠেই চলছে পিঁয়াজ চারা রোপনের মৌসুম। প্রতিদিন ভোর থেকেই পিঁয়াজের চারা উত্তোলনের পর মাঠে জমিতে রোপন করা হয়। প্রতিজন প্রতি ৫শত টাকা থেকে ৬শত টাকা করে কাজ করা হচ্ছে। তবে একযোগে কাজ শুরু হওয়ায় শ্রমিকের চাহিদা বেশি থাকায় দাম একটু বেশি নেওয়া হচ্ছে। এক সপ্তাহের মধ্যেই পিঁয়াজ রোপন সম্পন্ন হবে। পিঁয়াজ রোপনকারী কৃষক রহিম মোল্যা, রফিকুল ইসলাম, আ. লতিফ, শহর আলী বলেন, এ বছর পিঁয়াজের দাম ভালো পাওয়ার কারণে কৃষকরা পিঁয়াজ চাষে ঝুকছেন। এ অঞ্চলে একযোগে পিঁয়াজের চাষ হওয়ায় এখন শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। ৫ থেকে ৬শত টাকা করে প্রতিদিন দিতে হচ্ছে। সর্বোচ্চ বিকাল ৪টা পর্যন্ত পিঁয়াজ রোপনের কাজ করা হয়। তারপর আর কেউ মাঠে থাকে না। কয়েকদিনের প্রচন্ড শীতের কারণে পিঁয়াজ রোপনকারীদের একটু অসুবিধা হচ্ছিল। তবে দুদিন রোদের কারণে এখন পিঁয়াজ রোপন সম্পন্ন করতে চেষ্টা করা হচ্ছে। ১ কেজি দানার পিঁয়াজ চারা ১৬-১৮ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। জনের দাম বেশি ও পিঁয়াজ চারার দাম বেশি হলেও কৃষকরা জমি খালি না রেখে পিয়াজ চারা রোপনে ব্যস্ত সময় পার করছে। অনেকের পিঁয়াজ রোপন ইতিমধ্যেই শেষ করেছেন। তবে আগামী ১৫ দিনের মধ্যেই এ অঞ্চলে পিঁয়াজ চারা রোপন করা শেষ হবে বলে ধারনা করা হচ্ছে। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আবহাওয়ার অনুকুল পরিবেশ থাকার কারণে চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অধিক জমিতে পিঁয়াজের চাষ হবে। এ অঞ্চলে তাহেরপুরী, ফরিদপুরী, লালতীর কিং, বারী পিঁয়াজ-১সহ বিভিন্ন জাতের পিঁয়াজের চাষ করা হয়। আমারসংবাদ/এমআর