রবিবার ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০

১১ ফাল্গুন ১৪২৬

ই-পেপার

প্রিন্ট সংস্করণ॥ইসলাম রকিব, চুয়াডাঙ্গা

জানুয়ারি ২১,২০২০, ০১:৩৭

ফেব্রুয়ারি ০৯,২০২০, ১০:০৯

দেশের বৃহৎ খেজুরগুড়ের হাট চুয়াডাঙ্গার সরোজগঞ্জে

দেশের অন্যতম বড় খেজুরগুড়ের হাট বসে চুয়াডাঙ্গার সরোজগঞ্জে। প্রতি বছর শীত মৌসুমে গাছিরা খেজুরগাছের রস থেকে গুড় তৈরি করে। ওই গুড় বিক্রি হয় চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সরোজগঞ্জ গুড়ের হাটে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে গুড় ব্যবসায়ীরা এখানে আসেন গুড় কিনতে। সপ্তাহের শুক্র ও সোমবার হাট বসে। চুয়াডাঙ্গার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানাগেছে, চুয়াডাঙ্গা জেলায় রয়েছে আড়াই লক্ষাধিক খেজুরগাছ। এ থেকে আড়াই হাজার মেট্রিকটন খেজুরগুড় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে কৃষি বিভাগের। গাছিরা উৎপাদিত সুস্বাদু গুড় বিক্রির জন্য নিয়ে আসে সরোজগঞ্জ হাটে। সরেজমিন সরোজগঞ্জ গুড়ের হাটে গিয়ে দেখা যায় হাজার হাজার গুড়ের ভাড়। ব্যবসায়ীরা জানান, এবছর ১০-১২ কেজি ওজনের এক ভাড় গুড় বিক্রি হচ্ছে ১০০০-১২০০ টাকায়। প্রতি হাটে ৩৫-৪০ ট্রাক গুড় বেচাকেনা হয়। গুড়ের মান ভালো, তুলনামূলকভাবে দামও কম। এ কারণে দূর-দূরান্ত থেকে ব্যাপারীরা এ হাটে আসেন গুড় কিনতে। সিরাজগঞ্জ জেলার গুড় ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমি ১৫-১৬ বছর ধরে সরোজগঞ্জের এ হাটে আসি গুড় কিনতে। সিরাজগঞ্জ জেলায় চুয়াডাঙ্গার গুড়ের বিশেষ চাহিদা রয়েছে।’ চুয়াডাঙ্গার সরোজগঞ্জ হাটের ইজারাদার জাহিদ হাসান জানান, চুয়াডাঙ্গার খেজুরগুড়ের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, ভেজালমুক্ত গুড় তৈরি হয় চুয়াডাঙ্গায়। এজন্য চুয়াডাঙ্গার খেজুরগুড়ের কদরও বেশি। এ হাট থেকে দেশের বিভিন্ন জেলা ও দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে চুয়াডাঙ্গার খেজুরগুড়। তিনি আরও জানান, সরোজগঞ্জে সপ্তাহে অন্তত এক কোটি টাকার গুড় বেচাকেনা হয়ে থাকে। আগামী মার্চ মাস পর্যন্ত এ হাটে গুড় বিক্রি হবে। চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আলী হোসেন বলেন, সরোজগঞ্জের খেজুরগুড়ের জন্যই খেজুরগাছের যত্ন নিয়ে থাকেন এলাকার চাষিরা। জেলায় উৎপাদিত গুড় সহজে এবং বেশি দামে সরোজগঞ্জের হাটে বিক্রি করতে পারে চাষিরা। সরোজগঞ্জের হাটের গুড় চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। এ কারণে অর্থনৈতিকভাবেও এগিয়ে রয়েছে এলাকাবাসী। আমারসংবাদ/এসটিএমএ