মঙ্গলবার ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০

৬ ফাল্গুন ১৪২৬

ই-পেপার

আশুলিয়া প্রতিনিধি

জানুয়ারি ২৪,২০২০, ১২:৩৬

ফেব্রুয়ারি ০৯,২০২০, ১০:০৯

সোহাগীর দুই স্বামী, দু’বোনের এক স্বামী!

ছলনাময়ী নারী সোহাগী। তার ছলনায় ভাঙলো শিল্পীর সাজানো সুখের সংসার। স্বামী সংসার হারিয়ে ১১ বছর বয়সের মেয়ে সিমোকে নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন শিল্পী। তার মত আরও অনেকের সংসার অশান্তির আগুনে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে অঙ্গার করেছে একই নারী। সোহাগী মূলত ১০/১২ টি মোবাইল সিম ব্যবহার করে বিভিন্ন নামে ফেসবুক আইডি, ইমু খুলে ছদ্মনামে ছেলেদের সঙ্গে বিয়ে করাসহ প্রেমের নাটক সাজিয়ে নানা কৌশলে হাতিয়ে নেয় লাখ লাখ টাকা। তার প্রেমের ফাঁদে পা দিয়ে সর্বোস্ব খুঁইয়েছেন অনেকেই। আর এই ফাঁদে টোপ হিসেবে ব্যবহার করা হতো নিজের আপন দুই বোন সাগরিকা এবং আদুরীকে। প্রতারিত হয়ে যেন মুখ খুলতে না পারে সে জন্য দেখাতো মামলার ভয়। সোহাগীর ছলনার হাত থেকে রেহাই পায়নি নিজের স্বামীও। সোহাগীর স্বামী শাজাহান বিদেশ যাওয়ার পরপরই তার ফুফাতো বোন শিল্পীর স্বামী আবু বক্করের সঙ্গে গোপনে বিয়ে করে একসাথে দুই স্বামীর সংসার করতে থাকে সোহাগী। এক স্বামী বিদেশ থেকে টাকা পাঠায় আর অন্য জন দেশে বসে লুটে খায়। এভাবে চলছিল সোহাগীর। এদিকে তার দুই বোন সাগরিকা এবং আদুরীর জন্য রয়েছে এক স্বামী আর সোহাগীর একাই দুই স্বামী। এমন ঘটনায় হতবাগ ধামরাই এবং আশুলিয়াবাশী। প্রথম স্বামী শাজাহানের পাঠানো প্রায় ২০ লাখ টাকা আত্মসাতসহ অনেকের সঙ্গে প্রেমের নাটক সাজিয়ে লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে সোহাগীর বিরুদ্ধে। সোহাগী বরিশাল জেলার আগৈলঝাড়া থানার ভালুকসি গ্রামের মৃত নুরুল ইসলাম ফকিরের মেয়ে। শাজাহানের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতো, সেখানেই পরিচয় হয় সোহাগীর সঙ্গে। সোহাগীও ওই কারখানায় কাজ করতো। পরিচয়ে প্রেম তারপর বিয়ে। অফিসে সোহাগীর নাম সাগরিকা পিতা হায়দার খাঁন দেওয়া ছিলো। এই নামেই তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। এদিকে সংসারে সচ্ছলতা ফিরাতে বিয়ের ৭ বছরের মাথায় বিদেশ চলে যান শাজাহান। প্রবাস জীবনে কঠোর পরিশ্রম করে প্রতিমাসে রোজগারের সব টাকা সোহাগীর নামেই পাঠাতেন তিনি। প্রায় সাড়ে চার বছর পর শাজাহান বাড়িতে আসলেও স্ত্রী সোহাগী তার সাথে দেখা না করে আশুলিয়ার ডেন্ডাবর এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে আত্মগোপনে থেকে মোবাইলে তাকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি ধামকি দিতে থাকেন। উপায়ান্তর না পেয়ে সোহাগীর নামে আশুলিয়া থানায় অভিযোগ দায়েরের সিদ্বান্ত নেন। শাজাহান ধামরাই উপজেলা নান্নার ইউনিয়ন উলাইল গ্রামের আব্দুল হাই এর ছেলে। আত্মসাতের টাকা ফেরত দিতে হবে এবং মামলায় ফেঁসে যাওয়ার ভয়ে শাহজাহান বিদেশ থেকে আসার আগেই সোহাগী আশুলিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। যার জি.ডি নং ১১৮৬। এদিকে শাজাহান বাড়িতে আসায় সোহাগী ফের স্থান পরিবর্তন করে তার ফুপাতো বোনের স্বামী আবু বক্করকে নিয়ে উধাও হয়ে যায়। ভুক্তভোগী শাজাহান বিচারের আশায় যখন দ্বারেদ্বারে ঘুরছিলো ঠিক তখনই শাজাহানকে কব্জায় আনতে নতুন ফন্দি আটে সোহাগী। শাহজানের নামে নারী ও শিশু নির্যাতনের মিথ্যা মামলা দিতে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে নতুন কৌশলে তার আপন বড় বোন দুই সন্তানের জননী স্বামী পরিত্যক্তা সাগরিকার সঙ্গে বিয়ে দেয়। শাজাহান বলেন, আমি প্রবাসে থাকতে আশুলিয়ার কুরগাঁও এলাকায় জমি কেনার জন্য টাকা পাঠাই সেই টাকায় জমি কিনে তার নিজের নামে, এবং আমাকে বলে জমি আমার নামে দিয়েছে। আমার ফুপাতো বোনের স্বামী বক্করকে সোহাগী অনেক আগেই বিয়ে করেছে। বিষয়টি আমার কাছে গোপন রেখে সোহাগী আমাকে প্রস্তাব দেয় পূনরায় আমার নিকট ফেরত আসবে তার বড় বোনকে তালাক দিলেও সমস্যা নেই। আমার জমি আমার নামে রেজিস্ট্রি করে দিবে। সবকিছু ভুলে আমাদের একমাত্র ছেলের ভবিষ্যতের চিন্তা করে গত নভেম্বর মাসে আশুলিয়ার কুরগাঁও গ্রামে একটি ফ্ল্যাট বাসা ভাড়া নিয়ে আমি আর সোহাগী বাড়ির নির্মাণ কাজ শুরু করি। পরে জানতে পারি সে বক্করের সঙ্গে বিয়ে করেছে এবং এখানেও মাঝেমঝে আসে। বিষয়টি আমি যেনে যাওয়ায় সোহাগী ফের কুরগাঁও হইতে পালিয়ে ময়মনসিংহ বক্করের কাছে চলে যায়। আমার টাকায় খরিদকৃত জমি গত ২৩ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার ফোনে ফেরত চাইলে সে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। আমি নিরুপায় হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করি যাহার নং ২০১৯। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন আমার সংবাদকে জানিয়েছেন, বিভিন্ন কৌশলে তার কাছ থেকে সোহাগী পাঁচ লাখ টাকা নিয়েছে। টাকা ফেরত চাইলে মোবাইল ফোনে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। উপান্তর না পেয়ে সে আশুলিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি ও আদালতে মামলা করে। সে মামলা চলমান আছে। আমারসংবাদ/কেএস/জেডআই