মঙ্গলবার ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০

৬ ফাল্গুন ১৪২৬

ই-পেপার

ভৈরব প্রতিনিধি

জানুয়ারি ২৪,২০২০, ০৭:৫১

ফেব্রুয়ারি ০৯,২০২০, ১০:০৯

সেই পুলিশ কনস্টেবলকে পিটুনির দায়ে আটক ৩

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে অটো রিক্সা চুরির অভিযোগে মো. আবু সায়েম নামের এক পুলিশ সদস্য গণপিটুনির শিকার হয়েছেন। অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য ভৈরব থানায় কনস্টেবল পদে কর্মরত আছেন। গতকাল (বৃহস্পতিবার) সকাল দশটার দিকে পৌর শহরের স্টেশন রোডে এঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ভৈরব থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে জনতার হাত থেকে ওই পুলিশ কনস্টেবলকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এদিকে এঘটনায় সরকারি কাজে বাধা দেওয়াসহ একাধিক ধারায় পুলিশের দায়ের করা মামলায় গণপিুটনিতে অংশ নেওয়া তিন যুবককে গ্রেপ্তার করে কারাগারে প্রেরণ করেছে পুলিশ। অপরদিকে চোর পুলিশের শাস্তির পাশাপাশি চুরি যাওয়া অটো রিকশা উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন অটোচালকরা। জানা যায়, গত বছরের সেপ্টেম্বরের দশ তারিখে তার কিস্তিতে কেনা অটো রিকশাটি চুরি হয়ে যায়। চুরি হওয়ার আধ ঘন্টার মধ্যেই চালক হৃদয় মিয়ার মুঠোফোনে একটি অপরিচিত নাম্বার থেকে কল আসে এবং ২০ হাজার টাকা নিয়ে নরসিংদীর ইটাখলায় গিয়ে তার চুরি যাওয়া অটো রিকশাটি ফেরত আনতে বলা হয়। পরে চালক হৃদয় মিয়া কথা অনুযায়ী টাকা নিয়ে গিয়ে ওই নাম্বারের কল দিলে নাম্বারটি বন্ধ দেখায়। পরবর্তিতে ওই অপরিচিত মোবাইল নাম্বারটি চালক হৃদয় মিয়া তার মুঠোফোনে সেভ করে ডাটা অন করলে নাম্বারটি ব্যবহার করে খোলা একটি ইমু আইডি সামনে আসে। আইডির প্রোফাইল পিকচার হিসেবে এক যুবকের ছবি পাওয়া যায়। পরে ওই ছবিকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে পৌর শহরের পলাশের মোড় এলাকায় সিভিল পোশাকে থাকা কনস্টেবল আবু সায়েমকে দেখতে পেয়ে ইমো আইডিতে পাওয়া ছবির যুবক সন্দেহে কয়েকজন রিকশাচালক তাকে অনুসরণ করেন। বিষয়টি টের পেয়ে ওই পুলিশ কনস্টেবল আচমকা দৌঁড়ে পালানোর সময় তাকে আটক করে গণপিটুনি দেয় জনতা। এ সময় আটকৃত যুবক নিজেকে পুলিশ কন্সটেবল বলে পরিচয় দিলে থানায় খবর দেয়া হয়। খবর পেয়ে ভৈরব থানার সিনিয়র উপ-পরিদর্শক মো. মোখলেছুর রহমান রাসেল সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশের জিম্মায় আটকৃত কনস্টেবলকে থানায় নিয়ে যায়। এ বিষয়ে ভৈরব থানার ওসি (তদন্ত) মো. বাহালুল খান বাহার জানান, পুলিশ কনস্টেবলকে গণপিটুনির ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিকেলে ভৈরব থানায় সরকারি কাজে বাধা প্রদানসহ মোট ছয়টি ধারায় তিনজনের নাম উল্লেখসহ পুলিশ বাদী একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে রাতেই এজাহারভুক্ত মানিক, হৃদয় ও আকাশ নামে তিন যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে কারাগারে প্রেরণ করা হয় এবং মামলার অজ্ঞাতনামা বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি। এছাড়াও সিভিল পোশাকে মাদকের তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে আসামিরা পরকল্পিতভাবে গণপিটুনির ঘটনা ঘটিয়েছে বলে দাবি পুলিশের এই কর্মকর্তার। আমারসংবাদ/কেএস