মঙ্গলবার ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০

৬ ফাল্গুন ১৪২৬

ই-পেপার

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

জানুয়ারি ২৪,২০২০, ০৮:৫০

ফেব্রুয়ারি ০৯,২০২০, ১০:০৯

মরদেহ মিলল জাহাজে চাপা পড়া দুই শ্রমিকের

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে স্নেহা শিপইয়ার্ড এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস নামে একটি বেসরকারি ডকইয়ার্ডে সদ্যনির্মিত জাহাজের নীচে চাপা পড়ে নিহত দুই শ্রমিকের মরদেহে উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদল। চাপা পড়ার ২৩ ঘণ্টা পর শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে নিহতের স্বজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। মৃতরা হলো ইয়া রাসুল ও রাসেল। এ ঘটনায় আরো চার শ্রমিক আহত হয়েছেন। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বন্দর উপজেলার বিবিজোড়া এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদে এ ঘটনা ঘটে। তবে ঘটনার পর থেকে ওই ডকইয়ার্ডের মালিক আবুল কালাম পলাতক রয়েছেন। স্থানীয়রা জানান, স্নেহা শিপইয়ার্ড এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস নামে ওই জাহাজ নির্মাণ কারখানায় নির্মাণ শেষে একটি পণ্যবাহী জাহাজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পরীক্ষামূলকভাবে ব্রহ্মপুত্র নদে নামানো হয়। নদীতে ভাসানোর সময় জাহাজটি স্লিপওয়ের বালুতে আটকে অর্ধেক ডেবে যায়। এ সময় হুইল ওয়্যারের তার ছিঁড়ে ইয়া রাসূল ও রাসেল নামে দুই শ্রমিক জাহাজটির নীচে চাপা পড়ে নদীতে ডুবে নিখোঁজ হন এবং চার শ্রমিক আহত হন। সাথে থাকা শ্রমিকরা আহতদের উদ্ধার করলেও নদীতে তলিয়ে যাওয়া দুই শ্রমিক নিখোঁজ থাকেন। খবর পেয়ে বন্দর থানা পুলিশসহ ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট ও তাদের ডুবুরিদল নিখোঁজদের উদ্ধারে ঘটনাস্থলে তল্লাশি শুরু করে। রাত বারোটায় ডুবুরিদল একজনের মরদেহের সন্ধান পায়। কিন্তু জাহাজের নীচে সে মরদেহটি রাতে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পরে সকাল থেকে ফায়ার সার্ভিসের ও ডুবুরি দলের কর্মীরা জাহাজের নীচের মাটি ড্রেজারের মাধ্যমে কেটে সরিয়ে নিয়ে একই স্থান থেকে চাপা পড়া ইয়া রাসুল ও রাসেলের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে নিহতের স্বজনদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শুক্লা সরকার ও বন্দর থানা পুলিশের ওসি মো. রফিকুল ইসলামসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা। ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের নারায়ণগঞ্জ জেলা উপ-সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন জানা, জাহাজটি পানিতে ভাসানো সময় জাহাজটি স্লিপওয়ের বালুতে আটকে অর্ধেক ডেবে যায়। এ সময় হুইল ওয়্যারের তার ছিঁড়ে স্লিপওয়ের নীচে চাপা পাড়ে দুই শ্রমিক। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিটের সদস্যরা বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে জাহাজের নীচ থেকে দুই শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। এদিকে নিখোঁজদের মরদেহে উদ্ধারের পর দাফন কাফনের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রত্যেক পরিবারকে বিশ হাজার টাকা অনুদানসহ মরদেহ বাড়িতে পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থার কথা জানিয়েছেন বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শুক্লা সরকার। তিনি জানান, এই ডকইয়ার্ডটি সম্পূর্ণ অনুমোদনবিহীন পরিচালনা করা হচ্ছে বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে অভিযোগ রয়েছে। তারা বলছেন, এই প্রতিষ্ঠানটির কোন বৈধ লাইসেন্স নেই। অবৈধভাবে এতোদিন যাবত জাহাজ নির্মাণ কাজ পরিচালনা করে আসছে। তাই দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মালিক পালিয়ে গেছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বন্দর থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। অভিযোগ সত্য বলে প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমারসংবাদ/এমআর