বুধবার ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০

১৪ ফাল্গুন ১৪২৬

ই-পেপার

প্রিন্ট সংস্করণ॥কাজী ইহসান বিন দিদার

জানুয়ারি ২৫,২০২০, ১২:৫৮

ফেব্রুয়ারি ০৯,২০২০, ১০:০৯

ঢাবি শিক্ষার্থী ধর্ষণ মামলা: এ মাসেই দেয়া হবে চার্জশিট

এ মাসেই দেয়া হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ধর্ষণ মামলার চার্জশিট। এরই মধ্যে ওই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া মজনু আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। তার জবানবন্দি, ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া আলামত ও ডিএনএ পরীক্ষায় প্রাপ্ত বেশ কিছু প্রমাণের ভিত্তিতে দেয়া হবে এই চার্জশিট। আর এর মাধ্যমে মজনুর সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে তদন্ত সংস্থা। পাশাপাশি অরুণা বিশ্বাস (মজনুর কাছ থেকে ধর্ষণের শিকার হওয়া মেয়েটির মোবাইল ফোন কিনেছিল সে) এবং রিকশাচালক খাইরুল ইসলামকে (অরুণা বিশ্বাস তার পূর্বপরিচিত হিসেবে তাকে সেই মোবাইলের ডিসপ্লে ঠিক করার জন্য দিয়েছিল) মামলার সাক্ষী করা হবে। রাজধানীর কুর্মিটোলা এলাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ধর্ষণ মামলার একমাত্র আসামি মজনুকে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিল গোয়েন্দা পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য মিলিয়ে নিতে সরেজমিন ঘুরে দেখা হয় পুরো এলাকা। সেখানে ঘটনার আদ্যোপান্ত বর্ণনা দেয় মজনু। ঘটনার দায় স্বীকার করে এরই মধ্যে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে সে। স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ঘটনার দিন একাই মেয়েটিকে পাঁজাকোলা করে তুলে নেয় মজনু। রাত সাড়ে ৯টার দিকে হেঁটে চলে যায় বিমানবন্দর রেলস্টেশনে। সেখানে রাতে থেকে পরদিন চলে যায় নরসিংদী। এ ছাড়া যে অরুণা এবং খাইরুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে তারা এই মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী। গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নাম না প্রকাশ করার শর্তে আমার সংবাদকে বলেন, বায়োলজিক্যাল টেস্টের মাধ্যমে এ মামলার আসামিকে শনাক্ত করা হবে। যেহেতু, এই ঘটনার কোনো প্রত্যক্ষদর্শী নেই, তাই উদ্ধারকৃত আলামতের ফরেনসিক পরীক্ষার ফলাফল অপরাধ প্রমাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তদন্তের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখন আমরা সব আলামত একত্রিত করে চার্জশিট দাখিল করতে পারবো। এই মাসেই দেয়া হতে পারে এই মামলার অভিযোগপত্র। প্রসঙ্গত, গত ৫ জানুয়ারি বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষণিকা বাসে করে ওই ছাত্রী বান্ধবীর বাসায় যাচ্ছিলেন। সন্ধ্যার সময় কুর্মিটোলা বাস-স্টপেজে নামার পর ধর্ষণের শিকার হয় সে। ৬ জানুয়ারি সোমবার সকালে অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে ওই ছাত্রীর বাবা ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন। ৭ জানুয়ারি ক্লুলেস এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মজনুকে গ্রেপ্তার করে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন। পরের দিন কাওরানবাজারে র্যাব কার্যালয়ে র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লে. কর্নেল সারোয়ার বিন কাসেম সংবাদ সম্মেলনে জানান, মজনু (৩০) মাদকাসক্ত, ছিনতাইকারী এবং সিরিয়াল রেপিস্ট (ধর্ষক)। এর আগে একই জায়গায় সে এ ধরনের অপরাধ করেছে। প্রতিবন্ধী, ভিক্ষুকসহ বিভিন্ন নারীকে সে আটকে রেখে ধর্ষণ করতো। মজনু এই কথাগুলো স্বীকার করেছে। মজনু আরও জানিয়েছে, সে একাই এ ধরনের কাজ করতো। ওইদিনও সে একাই ছিলো, ভিকটিমও তেমনই বলেছে। ঘটনার দিন মজনু কুর্মিটোলা হাসপাতালের সামনের রাস্তায় মেয়েটিকে দেখতে পায়। এরপরই সে আলোড়িত হয়। পরে মেয়েটিকে অনুসরণ করে তার পিছু নেয়। তারপর সে ওই এলাকায় গিয়ে ওঁৎ পেতে ছিলো। মেয়েটি সেখানে পৌঁছালে মজনু তাকে ধর্ষণ করে। মজনু মূলত নিরক্ষর। ট্রেন থেকে পড়ে গিয়ে তার সামনের দুটি দাঁত ভেঙে যায়। স্ত্রী মারা যাওয়ার পরে সে আর বিয়ে করতে পারেনি। তাই সে এ ধরনের কাজ করতো। সারোয়ার বিন কাসেম জানান, ধর্ষণের পর মজনু ভিকটিমের ব্যাগ, মোবাইল ও পাওয়ার ব্যাংক নিয়ে চলে যায়। ঘটনাটি ছিলো একদমই ক্লুলেস। অপরাধিকে ধরার একমাত্র সূত্র ছিলো মেয়েটির (ভিকটিম) হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোনটি। তারপর শুরু হয় সেটি উদ্ধারের চেষ্টা। প্রথমে মোবাইল ফোনটি পাওয়া যায় খায়রুল ইসলাম নামে একজন রিকশাচালকের কাছে। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, অরুণা বিশ্বাস নামে তার পরিচিত এক নারী তাকে ডিসপ্লে ঠিক করার জন্য মোবাইলটি দেয়। সেই সূত্রে ধরে অরুণাকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে র্যাব জানতে পারে মজনু তার কাছে ডিসপ্লে ভাঙা একটি মোবাইল বিক্রি করে। সেটি খায়রুলকে মেরামত করার জন্য দিয়েছিল সে। অরুণার দেয়া তথ্য ও ভিকটিমের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যমতে জানা যায় উভয়েই একই ব্যক্তি। সে আর কেউ নয়। এই অপরাধের মূল সংগঠক। ধর্ষক মজনু। তার সামনের দাঁত ভাঙা ছিলো। ব্যাস। সে ক্লু অনুযায়ীই শনাক্ত করা তাকে। কড়া নজরদারিতে রাখার পর শ্যাওড়া রেলক্রসিং এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তাকে। আমারসংবাদ/এসটিএমএ