সোমবার ০৬ জুলাই ২০২০

২২ আষাঢ় ১৪২৭

ই-পেপার

জালাল উদ্দিন, সাদুল্লাপুর

জুলাই ০১,২০২০, ০১:৫২

জুলাই ০১,২০২০, ০১:৫২

জীবন বাঁচাতে পত্রিকা বিক্রিই একমাত্র অবলম্বন

প্রতিদিন সকলের সুখ দুঃখের সংবাদ সকালে সকলের দরজায় কড়া নেড়ে দিয়ে আসলেও কেউ তার কোন খোঁজ-খবর রাখেনি। তিনি হলেন, সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাটের পত্রিকা বিক্রেতা সাত্তার মিয়া। দীর্ঘ দিন থেকে পত্রিকা বিক্রি করে সংসারে স্বচ্ছলতা নিয়ে আসতে না পারলেও পেশা থেকে ছিটকে যায়নি। এ যেন তার অন্য রকম ভালো লাগার অনুভূতি তার ভাষায়।

অসুস্থতা, অভাব প্রতিনিয়ত থাকলেও ঝড় বৃষ্টি উপেক্ষা করে সময়মত সংবাদ পত্র পৌঁছে না দেয়া পর্যন্ত তার তৃপ্তি হয় না। কখনও একটি ভাঙ্গা বাইসাইকেলে বা পায়ে হেঁটে ছুটে চলা। পেছন থেকে কেউ ডাকলে সারা দেয়না তিনি। হঠাৎ কোন ব্যক্তির ডাক না শুনলে বা গাড়ির হর্ণের শব্দ না শুনলে অনেকেই রেখে যায়। সামনা সামনি হলে যখন প্রশ্ন করলেও ভূল ভাল উত্তর দেয় তখন সেই রাগ আবার তড়িৎ গতিতে থেমেও যায়।কারণ তিনি কানে শুনে না।

শরীরে বাসা বাঁধা বিভিন্ন রোগের কানের চিকিৎসা, মেশিন, কিংবা ভাঙ্গা চুড়া বাইসাইকেল নতুন কেনার সামর্থ্য কোনটাই তার নেই।পত্রিকা বিক্রির আয় দিয়ে কোন রকমে চলে সংসার। চিকিৎসা বা দরকারি বাইসাইকেল ক্রয় করার টাকা নেই।করোনা কালে করুণ সংকটের মধ্যে কেউ করেনি করুণা।

সেদিন হঠাৎ দেখতে না পেয়ে তার নাতি কে জিজ্ঞেস করলাম তোমার নানা কই। সে বল্লো অসুস্থ। কর্ম ব্যবস্তার কারণে ভুলেই গেছিলাম তার কথা। পরের দিন সকাল বেলা পত্রিকা হাতে তাকে দেখতে পেয়ে জিজ্ঞেস করলাম কেমন আছে।

আমরা দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে বলতে থাকে তার মনের ভেতর জমে থাকা সকল সুখ-দুঃখের পাওয়া না পাওয়ার বেদনার কথা। সাহায্য না চাইলেও করোনা সংকট কালে সরকারি বা বেসরকারি, ব্যক্তিগত ভাবে সাহায্য জরুরি।

আমারসংবাদ/এমআর