বৃহস্পতিবার ২৮ মে ২০২০

১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

ই-পেপার

নিজস্ব প্রতিবেদক

মার্চ ২৫,২০২০, ০৩:৪৯

মার্চ ২৫,২০২০, ০৩:৪৯

মুক্তির পর যা করতে পারবেন না খালেদা জিয়া

 

দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১(১) ধারায় দুই শর্তে ৬ মাসের জন্য মুক্তি পেয়েছেন আজ। শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পাওয়ায় নিজ বাড়িতেই সীমাবদ্ধ থাকতে হবে খালেদা জিয়াকে।

বুধবার (২৫ মার্চ) বিএনপির চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব আব্দুস সাত্তার কাদির কল্লোল জানিয়েছেন, বেলা তিনটা পাঁচ মিনিটের দিকে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়া হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিজন সেল থেকে মুক্তি দেয়ার পর পরিবারের সদস্যরা এবং বিএনপির মহাসচিব তাকে গ্রহণ করেন।

এর আগে দুপুরে সুপ্রিম কোর্টে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, সরকার যে শর্তে খালেদা জিয়ার সাজা ৬ মাসের জন্য স্থগিত করেছে সেই শর্ত ভঙ্গ করলে তা বাতিল হয়ে যাবে।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সংবাদ সম্মেলন করে জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে খালেদা জিয়ার বয়স বিবেচনায় নিয়ে ও মানবিক কারণে সদয় হয়ে দুটি শর্তে তার দণ্ডাদেশ ৬ মাসের জন্য স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার। ফৌজদারী কার্যবিধির ৪০১ ধারার উপধারা ০১ অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

আইনমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তি পাওয়ার শর্ত দুটি হচ্ছে তিনি ঢাকাস্থ নিজ বাসায় থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করবেন এবং উক্ত সময়ে তিনি দেশের বাইরে গমন করতে পারবেন না। তবে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যেতে পারবেন। হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা দিতে বাধা নেই।

প্রেক্ষিতে ফৌজদারী কার্যবিধির ৪০১ ধারা অনুযায়ী খালেদা জিয়ার সাজা ৬ মাসের জন্য স্থগিত রেখে ও তাকে ঢাকাস্থ নিজ বাসায় থেকে চিকিৎসা গ্রহণ এবং উক্ত সময়ে তার দেশের বাইরে গমন না করার শর্তে মুক্তি দেয়ার জন্য আইন মন্ত্রণালয় মতামত দিয়েছে এবং এই মতামত সম্পর্কিত নথি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে।

এদিকে দুদকের আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান জানিয়েছেন, সরকার যে ধারায় খালেদা জিয়ার দণ্ড স্থগিত করেছেন সেখানে দুটি শর্ত উল্লেখ করা হয়েছে। তাই তিনি চাইলেই দণ্ড স্থগিত থাকা অন্যান্য আসামির মতো চলাচল করতে পারবেন না। সরকারের বেঁধে দেয়া দুটি শর্তের মধ্যেই তার সবকিছু সীমাবদ্ধ থাকবে।

খালেদা জিয়ার অন্যতম আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, সাজা স্থগিত থাকাবস্থায় পুলিশি নিরাপত্তার কোনও বিধান আইনে নেই। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে তার (খালেদা জিয়া) জন্য পুলিশি নিরাপত্তা রাখা হবে।

ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারার ১ উপধারায় আসামিদের দণ্ড স্থগিতের বিষয়ে সরকারকে ক্ষমতা দেওয়া হলেও পরবর্তী প্রক্রিয়াগুলো একই ধারার ২, ৩, ৪, ৪ (ক), ৫, ৫ (ক) এবং ৬ উপধারায় বর্ণিত হয়েছে।

এর মধ্যে ৪০১ ধারার ২ উপধারায় বলা হয়েছে, যখন কোনও দণ্ড স্থগিত রাখা বা মওকুফ করার জন্য সরকারের কাছে আবেদন করা হয় তখন যে আদালত ওই দণ্ড দিয়েছিলেন বা অনুমোদন করেছিলেন সেই আদালতের প্রিজাইডিং জজকে সরকার ওই আবেদন মঞ্জুর করা কিংবা মঞ্জুর করতে অস্বীকার করা উচিত কিনা, সে সম্পর্কে তার মতামত ও মতামতের কারণ বিবৃত করতে এবং এই বিবৃতির সঙ্গে বিচারের নথির নকল অথবা যে নথি বর্তমানে আছে সেই নথির নকল পাঠানোর নির্দেশ দেবেন।

ফলে ৪০১ ধারার ২ উপধারা অনুযায়ী খালেদা জিয়াকে ৬ মাসের জন্য মুক্তি দেয়ার বিষয়টি আদালতকে জানাবে সরকার।

প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালে বিএনপি চেয়ারপার্সনের বিরুদ্ধে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ মামলা দায়ের হয়।

দশ বছর পর ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে মামলার রায়ে তার পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হয়। তবে পরে হাইকোর্ট সেই সাজা বাড়িয়ে দশ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেন। এরপর দুই বছরের বেশি সময় ধরে কারাগারে রয়েছেন খালেদা জিয়া। তার মধ্যে গত ১১মাস ধরে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আমারসংবাদ/জেআই