বুধবার ০৮ জুলাই ২০২০

২৩ আষাঢ় ১৪২৭

ই-পেপার

প্রিন্ট সংস্করণ॥নিজস্ব প্রতিবেদক

জানুয়ারি ১৪,২০২০, ০৩:২৭

ফেব্রুয়ারি ০৯,২০২০, ১০:০৯

বাণিজ্য মেলায় নিম্নমানের পণ্য

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলাকে মনে হয় যেন শুধু নামেই আন্তর্জাতিক। সর্বত্র বিক্রি হচ্ছে স্থানীয়ভাবে তৈরি নিম্নমানের পণ্য। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন দেখেও না দেখার ভান করে বসে আছে। এতে ক্রেতা ও দর্শকদের রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। এবার বাণিজ্য মেলায় পণ্যের মান ঠিক রাখার জন্য অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমানো হলেও নিম্নমানের পণ্য বিক্রি কিন্তু থেমে নেই। অর্থাৎ কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ কাজে লেগেছে বলে মনে হয় না। মেলায় আসা অনেক ক্রেতা-দর্শনার্থী পণ্যের মান নিয়ে তুলেছেন নানা প্রশ্ন। অনেকেই বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় এসে নিম্নমানের পণ্য কিনতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। মেলায় এসে যদি নিম্নমানের পণ্য কিনতে হয তবে এখানে না এসে যেকোনো বাজার থেকে কেনাই ভালো। দেশি-বিদেশি পণ্যসামগ্রী প্রদর্শন, রপ্তানি বাজার অনুসন্ধান এবং দেশি-বিদেশি ক্রেতার সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের ক্ষেত্রে এ মেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে— এমন লক্ষ্য নিয়ে প্রতি বছর এ মেলার আয়োজন করা হয়ে থাকে। তবে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সেই লক্ষ্যের কথা ভুলে নিম্নমানের পণ্য বিক্রি করছেন। ঢাকার মিরপুর থেকে এসেছিলেন রেখা খাতুন নামের এক দর্শনার্থী। তিনি বলেন, মেলার মান বাড়ানোর কথা বলে এবার প্রবেশের টিকিটের দাম বাড়ানো হয়েছে। তবে মেলার সর্বত্র বিক্রি হচ্ছে নিম্নমানের পণ্য। তিনি বলেন, বিদেশি প্যাভিলিয়নে আগের মতোই নিউমার্কেট, চকবাজারের পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় আন্তর্জাতিকমানের পণ্য বিক্রি হচ্ছে খুবই কম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান বলেন, কয়েক বছর যাবত তিনি এ মেলায় আসেন। প্রতিবারই মেলার কর্তৃপক্ষ যে আয়োজন করে থাকে তাতে এবারো এর কোনো পার্থক্য দেখতে পাইনি আমি। তিনি বলেন, গুগলে সার্চ দিয়ে দেখলাম, এ মেলা দেশি-বিদেশি পণ্যসামগ্রী প্রদর্শন, রপ্তানি বাজার অনুসন্ধান এবং দেশি-বিদেশি ক্রেতার সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে এখানে যে সব নিম্নমানের পণ্য বিক্রি হয় তাতে কোনো বিদেশি ক্রেতা আসবে বলে আমার মনে হয় না। তিনি আরও বলেন, যতবার এ মেলায় এসেছি ততবারই হতবাক হয়েছি। এখানকার বেশিরভাগ পণ্যই মনে হচ্ছে গুলিস্তান, চকবাজার থেকে এসেছে।ঢাকার শ্যামলী থেকে পরিবার নিয়ে এসেছেন হান্নান মল্লিক। তিনি বলেন, এটি একটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। স্বাভাবিকভাবেই এখানে ব্যবসায়ীদের আন্তর্জাতিকমানের পণ্য নিয়ে আসার কথা। কিন্তু মেলার যেদিকেই চোখ যায় সেখানেই দেখি নিম্নমানের পণ্যে ভরপুর। মেলার সদস্য সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে এবার মেলায় পণ্যের গুণগতমান অনেক ভালো। মেলায় যাতে নিম্নমানের পণ্য বিক্রি না হয় সেজন্য নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। মেলার মান বাড়ানোর জন্য স্টল সংখ্যা কমানো হয়েছে। এছাড়া আগে বিদেশি প্যাভিলিয়নে নিম্নমানের দেশি পণ্য বিক্রি হতো, এবার যাতে এমনটি না হয় সে জন্য পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এবার মেলায় নিম্নমানের পণ্য প্রবেশ করবে না। মেলায় যাতে নিম্নমানের পণ্য বিক্রি না হয় সে জন্য ভোক্তা অধিদপ্তরের অফিস রয়েছে। মেলায় আমরা তাদের জায়গা দিয়েছি। কেউ নিম্নমানের পণ্য বিক্রি করলে তারা ব্যবস্থা নেবে। আমারসংবাদ/এসটিএমএ