রবিবার ০৫ এপ্রিল ২০২০

২২ চৈত্র ১৪২৬

ই-পেপার

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

মার্চ ২২,২০২০, ০১:২৫

মার্চ ২২,২০২০, ০১:২৫

জিডিপিতে প্রভাব ফেলবে করোনা

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। এর কারণে তৈরি পোশাক শিল্প, রেমিট্যান্স এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা বেশি সমস্যায় পড়েছে।

তাই মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা করছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

গতকাল শনিবার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে সিপিডির পক্ষ থেকে এই আশঙ্কার কথা প্রকাশ করা হয়।

করোনায় সচেতন থাকতে এই প্রথমবারের মতো গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিষ্ঠানটি বলছে বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে অতি দ্রুত পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া দরকার।

‘করোনা ভাইরাসের স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি এবং করণীয়’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সিপিডির ফেলো ড. মুস্তাফিজুর রহমান নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন, গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজেম, সিনিয়র রিসার্চ ফেলো তফিকুল ইসলাম।

ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, যেসব দেশে আমাদের আমদানি-রপ্তানি বেশি করা হয় তার সবগুলোই করোনায় আক্রান্ত। ফলে সামগ্রিকভাবে বহির্খাতে যে পারফরম্যান্স তাতে সামনের দিনগুলোতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

কারণ অধিকাংশ পণ্যেও কাঁচামাল আমাদানি নির্ভর করে চীনের ওপর। চীনের নিম্নগতির কারণে আমাদের ব্যবসাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম আট মাসের প্রতিবেদন তুলে ধরে ফাহমিদা খাতুন বলেন, ১২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি মোটেই সম্ভব নয়।

কারণ তৈরি পোশাক শিল্পে এখনই নেতিবাচক প্রভাব দেখছি। করোনার কারণে এটা সামনে আরও নেতিবাচক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নিটওয়ারে ৫ দশমিক ৭ শতাংশ ঋণাত্মক, ওভেনওয়ারের ক্ষেত্রে ৫ দশমিক ৯ শতাংশ ঋণাত্মক, হোম টেক্সটাইলে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ঋণাত্মক। এ থেকে সহজেই বোঝা যাচ্ছে আগামী কয়েক মাসে এটা আরও ঋণাত্মক হতে পারে।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, ২০১৯ সালে রেমিট্যান্স ভালো ছিলো। কিন্তু আগামীতে রেমিট্যান্সেও নেতিবাচক প্রভাবের সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ প্রায় দেশে থেকে ফেরত আসছে প্রবাসীরা।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক বলেন, সরবরাহের সমস্যা দেখা দিয়েছে। সাপ্লাই চেইনে একটা নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। আমরা বিভিন্ন ধরনের পণ্যের দামে মোটামুটিভাবে কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী প্রভাব দেখছি। বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে।

টিসিবির ডাটা থেকে আমরা দেখছি— ডাল, মাছ, মুরগি, তেল, রসুনের ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা। উৎপাদন ও আমদানির ক্ষেত্রেও সরবরাহজনিত সমস্যা দেখা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলও (আইএমএফ) বারবার নিম্নমুখী রিভার্স করছে বিশ্ব অর্থনীতির চিত্র।

এখন তারা বলছে ২০১৯ সালে যে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ২০২০ সালে তার চেয়ে শূন্য দশমিক ১ পয়েন্ট কম হবে। আগামী ২০২১ সালে শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কম হবে।

আইএমএফ বলছে, যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সেটা জিডিপিতে ১ দশমিক ৬ শতাংশ প্রভাব ফেলবে।

আমারসংবাদ/এসটিএমএ