মঙ্গলবার ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০

৬ ফাল্গুন ১৪২৬

ই-পেপার

বিনোদন প্রতিবেদক

জানুয়ারি ০৪,২০২০, ০৬:২১

ফেব্রুয়ারি ০৯,২০২০, ১০:০৯

অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন রাজ্যে গাইছেন অমিয়া

অস্ট্রেলিয়ার সিডনি প্রবাসী জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী অমিয়া মতিন। শনিবার সন্ধ্যায় দৈনিক আমার সংবাদ অফিসে এসেছিলেন গুণী এই শিল্পী। গানের জগতে তার বিচরণ, প্রবাসে গানের পরিবেশ ও আগামীর বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন তিনি। তার বক্তব্যের চুম্বকাংশ তুলে ধরা হল পাঠকদের জন্য। অমিয়া মতিন ছোটবেলা থেকে গানকে ভালোবাসেন। তাই গানকে আকড়ে ধরে বেড়ে উঠেছেন এই শিল্পী। মূলত নজরুল ও ক্লাসিক্যাল গান গেয়ে থাকেন অমিয়া মতিন। ১৯৯৫ সালে তার প্রথম গানের অ্যালবাম ‘যেতে যেতে কিছু কথা’ সঙ্গীতা থেকে বের হয়েছিল। এরপর থেকে আর ফিরে তাকাতে হয়নি শিল্পীকে। একের পর এক জনপ্রিয় একক এবং যৌথ অ্যালবাম বের করেছেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে। অমিয়া মতিন বাংলা গানকে ভালোবেসেছেন অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে। তাই দীর্ঘদিনের প্রবাস জীবনেও চর্চা করতে ভুলেননি বাংলা গান। অক্লান্ত পরিশ্রম করে নিজেকে প্রমাণ করে নিয়েছেন, চেষ্টায় সম্ভব সবকিছু! তাইতো প্রবাসে ব্যবসা, পারিবারিক কাজ সবকিছু সামলিয়ে নতুন নতুন গানের অডিও এবং ভিডিও অ্যালবাম বের করে চমকে দিয়েছেন বরাবরই। দেখিয়ে দিয়েছেন নিজের প্রতিভা। গান গেয়ে এরই মধ্যে জায়গা করে নিয়েছেন শ্রোতাদের হৃদয়। অমিয়া মতিনের ভাষ্যমতে, তার প্রথম অডিও অ্যালবাম ১৯৯৫ সালে পুরনো দিনের মর্ডান বাংলা গানের ‘যেতে যেতে কিছু কথা’ সঙ্গীতা থেকে প্রকাশিত হয়েছিল। এরপর একে একে বাসু দেব ঘোষের সুরে ‘যেতে হবে কতদূর’, শেখ সাদী খানের সুর ও সঙ্গীতে ‘মেঘ জমলেই বৃষ্টি হবে’, হারানো দিনের বাংলা গান এর ‘এ রাতের এই গান’, অ্যালবামে অমিয়ার সাথে কণ্ঠ দিয়েছেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী সুবীর নন্দী। শেখ সাদী খান’র সুর ও সঙ্গীত পরিচালনায় ‘অন্তবিহীন রাত্রি’, ‘কে প্রথম কাছে এসেছি’ অ্যালবামটিতে অমিয়া মতিনের সঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছেন সাদি মহম্মদ। এছাড়া রয়েছে বাসু দেব ঘোষের ‘স্বরলিপি’, আবু হেনা মোস্তাফা কামালের ‘জানিনা কেন যে ভালো লাগে’ ইত্যাদি। গানের জগতে অমিয়া মতিনের যাত্রা ছায়ানটের শিক্ষক সুমন চৌধুরীর হাত ধরে। তার কাছ থেকে নজরুল গীতি ও ক্ল্যাসিকেল গানের তালিম নিয়েছেন এই শিল্পী। অমিয়া মতিনের কাছে সবশেষ জানতে চাওয়া হয়, বহুদিন অস্ট্রেলিয়া সিডনিতে অবস্থান করছেন। সেখানকার গানের পরিবেশ সম্পর্কে। তিনি দৈনিক আমার সংবাদকে বলেন, অস্ট্রেলিয়ার সিডনিসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে নিয়মিত গান করেন অমিয়া মতিন। সেখানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিজয় দিবস, পহেলা বৈশাখ, বইমেলা, স্বাধীনতা দিবস, ২১ ফেব্রুয়ারিসহ সকল অনুষ্ঠানগুলোতে পারফর্ম করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। আর এসব অনুষ্ঠানের নিয়মিত পদচারনা এই শিল্পীর। অমিয়া মতিন ছায়ানটের শিক্ষক সুমন চৌধুরী ছাড়াও দেশে একে একে তালিম নিয়েছেন এনায়েত উল্লাহ খান, মফিজ উদ্দিন, ইয়াকুব আলী খান, সুমন চৌধুরী, বরকত উল্লাহ এবং ফাতেমা তুজ জোহরা থেকেও। শিল্পীর গানের অনুপ্রেরণা কে? এমন প্রশ্নের জবাবে অমিয়া মতিন জানান, ছোটবেলা থেকেই আমার মা এবং বাবা আমাকে গানের প্রতি উৎসাহিত করেছেন। মোদ্দাকথা তাদের অনুপ্রেরণায় আজ এই পর্যন্ত এসেছি। তারাই আমাকে গানের স্কুলে ভর্তি করিয়েছেন। শিল্পী জানান, ছোটবেলায় মা-বাবা তাকে ধানমন্ডিতে ‘কলিম শরাফী সংগীত ভবনে ‘নজরুল পরিষদ মিউজিক স্কুল’ থেকে ক্ল্যাসিকেল এবং নজরুল সংগীতের উপর গান শিখিয়েছেন। অমিয়া মতিন আরও বলেন, মা-বাবা ছাড়াও বিয়ের পর আমার স্বামী প্রকৌশলী আব্দুল মতিন আমাকে গানে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন। বলতে পারেন আমার জীবনের সাফল্যের পেছনে মা-বাবা-স্বামীর অবদান সবচেয়ে বেশি। প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সাল থেকে অমিয়া মতিন পরিবারসহ অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বসবাস করছেন। সেখান থেকেই মাঝে মাঝে দেশে আসা যাওয়ায় থাকেন এই শিল্পী। আমারসংবাদ/জেডআই