সোমবার ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০

১১ ফাল্গুন ১৪২৬

ই-পেপার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জানুয়ারি ২৪,২০২০, ০২:১৬

ফেব্রুয়ারি ০৯,২০২০, ১০:০৯

আইসিজের রায় প্রত্যাখ্যান করল মিয়ানমার

রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগে গাম্বিয়ার করা মামলায় আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) অন্তর্বর্তীকালীন রায় প্রত্যাখ্যান করেছে মিয়ানমার। দেশটির মন্ত্রণালয়ের দাবি আদালত পরিস্থিতির ‘বিকৃত চিত্র উপস্থাপন’ করেছে। বৃহস্পতিবার (২৩জানুয়ারি) মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই কথা জানিয়েছে। খবর বিবিসির। বিবৃতিতে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মিয়ানমার গঠিত স্বাধীন তদন্ত কমিশন রাখাইনে গণহত্যার কোনো প্রমাণ পায়নি। তবে সেখানে যুদ্ধাপরাধ হয়েছে, যা তদন্ত করা হচ্ছে এবং মিয়ানমারের ফৌজাদারি বিচার ব্যবস্থায় এর বিচার হবে। গণহত্যা বন্ধ করে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গত বছর নভেম্বরে গাম্বিয়ার করা অন্তর্বর্তীকালীন আবেদনের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার হেগের জাতিসংঘের বিচার আদালত থেকে এ রায় দেয়া হয়৷ যার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী মিয়ানমারের উপর ‘কিছু বাধ্যবাধকতা তৈরি হচ্ছে’ বলে উল্লেখ করছে আদালত৷ বাংলাদেশ আইসিজে-র এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছে৷ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতার বিষয়ে আইসিজের (আন্তর্জাতিক বিচার আদালত) রায়কে স্বাগত জানিয়ে একে মানবতার বিজয় এবং সকল জাতির মানবাধিকার আন্দোলন কর্মীদের জন্য মাইলফলক হিসাবে বর্ণনা করেছেন। নেদারল্যান্ডের হেগ নগরীতে আইজেসি কর্তৃক এই রায়ের কপি সরবরাহের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী আজ ইকুয়েডোর থেকে ফোনে বলেন, “আমরা এই রায়কে স্বাগত জানাই…আমার বিশ্বাস মিয়ানমার এই আদালতকে সম্মান জানাবে…তাদের (মিয়ানমার) পক্ষে একে অগ্রাহ্য করা সম্ভব হবে না। রায়ে মিয়ানমার সরকারকে সর্বোচ্চ ক্ষমতা ব্যবহার করে নিজেদের নিয়ন্ত্রিত সব বাহিনী ও গোষ্ঠীগুলোকে রাখাইনে কোনো ধরেনের গণহত্যার ষড়যন্ত্র করা থেকে বিরত রাখার নির্দেশও দেয়া হয়েছে৷ আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়ার মামলা করা প্রসঙ্গে আইসিজে প্রেসিডেন্ট বিচারপতি আবদুলকাভি আহমেদ ইউসুফ বলেন, গণহত্যা প্রতিরোধ ও এর শাস্তির বিধানে ১৯৪৮ সালে স্বাক্ষরিত ‘জেনোসাইড কনভেনশন’ এর অধীনে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় আইসিজেতে গাম্বিয়ার এ আবেদন যুক্তিযুক্ত এবং এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার এখতিয়ার আইসিজের আছে৷ তিনি বলেন, চূড়ান্ত রায় দিতে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে৷ তবে আইসিজে-র মত, মিয়ানমারে রোহিঙ্গারা এখনো মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে বাস করছে৷ তাই তাদের সুরক্ষায় এখনই কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি৷ বৌদ্ধ অধ্যুষিত মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমানদের সেদেশের নাগরিক বলে বিবেচনা করা হয় না৷ প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সেখানে বসবাস করার পরও তাদের ‘বাঙালি’ বলা হয়৷ ১৯৮২ সাল থেকে তাদের প্রায় সবার নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হয়৷ যা বিশাল এক জনগোষ্ঠীকে রাষ্ট্রহীন করে দিয়েছে৷ এমনকি তাদের স্বাধীনভাবে চলাচল এবং মৌলিক মানবিক অধিকার থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছে৷ সন্ত্রাস দমনের নামে ২০১৭ সালের অগাস্টে রাখাইনে রোহিঙ্গা গ্রামগুলোতে সেনা অভিযান শুরু হলে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়৷ তাদের ফেরাতে মিয়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যে গত বছর একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি হয়৷ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার মতো পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি৷ বরং সেখানে ফিরে গেলে তাদের আবার একই ঝুঁকির মুখে পড়তে হবে৷ রোহিঙ্গা শরণার্থীরাও উপযুক্ত পরিবেশ ছাড়া নিজভূমিতে ফিরতে রাজি নয়৷ এ বিষয়ে বৃহস্পতিবারের রায়ে বলা হয়, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে (মিয়ানমার) যেসব ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করেছে বা রাখাইনে জাতিগত বিভেদের অবসান ঘটিয়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফেরার এবং যেসব সেনাসদস্যরা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘন করেছে তাদের শাস্তির আওতায় আনার কথা বলা হচ্ছে তা আদালত যথেষ্ট মনে করছে না৷ ২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে পূর্বপরিকল্পিত অভিযান চালায় মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীর হত্যাকাণ্ড, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও নির্যাতন থেকে প্রাণে বাঁচতে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা দেশান্তরী হয়ে কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেয়। এই নৃশংসতাকে ‘গণহত্যা’ আখ্যা দিয়ে গত বছর আইসিজেতে মামলা করে গাম্বিয়া। আমারসংবাদ/এমএআই