মঙ্গলবার ০২ জুন ২০২০

১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

ই-পেপার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এপ্রিল ২৯,২০২০, ০২:১৯

এপ্রিল ২৯,২০২০, ০২:১৯

মুসলিমদের কাছ থেকে সবজি না কেনার পরামর্শ বিজেপি নেতার

 

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে মুসলিম বিক্রেতাদের কাছ থেকে সবজি না কেনার পরামর্শ দিয়েছেন ভারতের উত্তর প্রদেশের বিজেপি বিধায়ক সুরেশ তিওয়ারি। তার এ ধরণের পরামর্শে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

পার্সটুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ১৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, সুরেশ বলছেন, ‘একটা কথা মনে রাখুন। আমি সকলকে খোলাখুলিই বলছি, মিঞাদের (মুসলিমদের) কাছ থেকে সবজি কেনার কোনও প্রয়োজন নেই।’

বিরোধী দল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়লেও বিধায়ক সুরেশ অবশ্য নির্বিকার রয়েছেন। বরং পাল্টা সাফাইতে তার দাবি, তিনি কোনও ভুল কথা বলেননি। এ নিয়ে অহেতুক হইচই করা হচ্ছে। আত্মপক্ষ সমর্থন করে সমালোচকদের উদ্দেশে বিধায়ক সুরেশ তিওয়ারির প্রশ্ন, ‘বিষয়টিকে এত বড় ইস্যু করা হচ্ছে কেন?’

বিজেপি বিধায়কের ওই মন্তব্যের বিরুদ্ধে সরব হয়ে সাবেক অভিনেত্রী ও উত্তর প্রদেশের কংগ্রেস নেত্রী নাগমা নিজের টুইটার হ্যান্ডলে ওই ভিডিওটি শেয়ার করেছেন। একইসঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ট্যাগ করে তিনি লিখেছেন, ‘আপনার নেতাদের এ ধরনের কাজ করতে নিষেধ করুন। এঁরা তো কিছুই বোঝেন না।’

বিজেপি বিধায়ক সুরেশ তিওয়ারির দাবি, তার কেন্দ্রের ১০/১২ জন লোকের সঙ্গে লকডাউন নিয়ে তিনি কথাবার্তা বলছিলেন। এ সময় তারা তাকে জানান, সবজি বিক্রির আগে মুসলিম বিক্রেতারা তাতে থুথু ছিটিয়ে দিচ্ছেন। এরফলে করোনা সংক্রমণ এড়াতে তাদের ওই পরামর্শ দেন বলেও স্বীকার করেন।

নিজের মন্তব্যের স্বপক্ষে সাফাই দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমি তাদের বলেছিলাম, এ নিয়ে আমি কিছুই করতে পারব না। তবে করোনা সংক্রমণের হাত থেকে বাঁচতে ওই বিক্রেতাদের থেকে সবজি কেনা বন্ধ করার কথা বলেছিলাম। মানুষজন যখন জানতে চাচ্ছেন, এ বিষয়ে কী করণীয়, তখন একজন বিধায়কের আর কী-ই বা বলা উচিত? আমি কি কিছু ভুল বলেছি? বিষয়টিকে এত বাড়িয়ে দেখা হচ্ছে কেন?’

এ প্রসঙ্গে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মানবাধিকার সংস্থা ‘বন্দি মুক্তি কমিটি’র সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ভানু সরকার মঙ্গলবার বলেন, ‘মহামারী বা অতিমারীর ইতিহাস যদি আপনি দেখেন তাহলে কোনো না কোনো গোষ্ঠীকে মহামারী বা অতিমারীর জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে, তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাদের খুন করা হয়েছে, এটা বরাবর ছিল। ভারতবর্ষে এখন যারা ক্ষমতায় আছে শুধু ভারতবর্ষে না সারা পৃথিবীতে যারা ক্ষমতায় আছে তারা মূলত ইসলামোফোবিক, জেনোফোবিক এবং বর্ণবিদ্বেষী। ভারতবর্ষে তো আরএসএসের একদম অবস্থান তারা দলিত-মুসলিম-আদিবাসীদের বিরুদ্ধে। এখন তারা মুসলিমদের বলছে, এরপরে দলিতদের বলবে, তারপর আদিবাসীদের বলবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘করোনার যে গোটা দায়টা যদি আপনি একটু ভালো করে দেখেন প্রথমত ভারত সরকার যেভাবে পনের লাখ মানুষকে ঢুকতে দিয়েছে কোনোরকম চেকিং করেনি। সেই সব ‘আলালের ঘরের দুলাল’ তারা সব যে যার নিজের ফ্ল্যাটে, নিজের আবাসনে ঢুকে বসে আছে এবং এখন লকডাউন বাড়াও, লকডাউন বাড়াও বলে চিৎকার করছে। আর রাস্তার গরীব মানুষ যারা তাদের পুলিশ পেটাচ্ছে। এবং তাদেরকেই করোনার জন্য দায়ী করছে। এবং আস্তে আস্তে শিফট হচ্ছে বিষয়টা। পশ্চিমবঙ্গে যত কন্টেইনমেন্ট জোন আছে বেশিরভাগ হল গরীব এলাকা ও বস্তি এলাকা। যারা করোনাকে সঙ্গে করে বিদেশ থেকে নিয়ে এসেছে তারা সবাই নিরাপদে ঘরে ঢুকে আছে। আর যাদের ওপরে দায় চাপানো হচ্ছে তারা সব গরীব মানুষ।’ এটা অতীতে মহামারীর ইতিহাসে তাই হয়েছে। এটা শাসকদের পুরোনো কৌশল বলেও ভানু সরকার মন্তব্য করেন।

আমারসংবাদ/জেআই