বৃহস্পতিবার ২৮ মে ২০২০

১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

ই-পেপার

ফারুক আলম

এপ্রিল ০১,২০২০, ০৩:২৪

এপ্রিল ০১,২০২০, ০৩:২৪

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব

হাসপাতাল রোগীশূন্য বাজারে ভিড়

করোনা ভাইরাস আতঙ্কে গত কয়েক দিন প্রধান সড়ক, অলিগলি, বাজার জনমানবশূন্য থাকলেও গতকাল মঙ্গলবার শনির আখড়া, যাত্রাবাড়ী, রায়েরবাগ, মাতুয়াইল বাজারে লোকজনের ভিড় ছিলো চোখে পড়ার মতো।

অন্যদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে আগে রোগীর ভিড়ে যেখানে পা ফেলাও কষ্টকর হয়ে পড়তো সেখানে আজ রোগীশূন্য অবস্থা।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নতুন রোগী ভর্তি নেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।

তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, করোনা আতঙ্কে রোগী ভর্তি হচ্ছে না। আর যারা ছিলেন তারাও চলে গেছেন। তবে হাসপাতাল রোগীশূন্য হলেও বাজারে জনসমাগম বেড়েছে।

এতদিন করোনার প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ার আতঙ্কে যারা বাড়ির বাইরে বের হতেন না, এখন তাদের অনেকে বাড়ির বাইরে বের হচ্ছেন। বিনা প্রয়োজনেও অনেকে রাস্তায় চলাচল করছেন।

দেশজুড়ে অঘোষিত লকডাউন থাকলেও রাজধানীর বাজারগুলোর চিত্র ছিলো এমন। মুখে মাস্ক থাকলেও একে অপরের গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে বাজার করছেন। বাজার করতে এসে নিরাপদ দূরত্বের তোয়াক্কা করছেন না নগরবাসী।

ঢামেকে সারি সারি বেড খালি পড়ে আছে। হাসপাতালের কয়েকজন সিনিয়র কর্মকর্তা-কর্মচারী বলেন, ঢামেকে সারা দেশের রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসেন। ফলে হাসপাতালের আনাচে-কানাচে থাকে শুধু রোগী আর রোগী।

রোগীদের ভিড়ে হাসপাতালের বেড কিংবা ফ্লোরে জায়গা না পেয়ে সিঁড়ির ঢালেও সারিবদ্ধভাবে থাকতেন অনেকে। আর এখন মনে হচ্ছে রোগী শূন্যতায় ভুগছে ঢামেক। আগের মতো হাসপাতালে মানুষজনের আনাগোনাও নেই, নেই নার্স-ডাক্তারদের ছুটোছুটিও।

অন্যদিকে রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, করোনা থেকে রক্ষায় নিরাপদ শারীরিক দূরত্ব মানছেন না কেউ। করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে শারীরিকভাবে একে অন্যের তিনফুট দূরত্বে অবস্থান করতে বলা হলেও সেটা মানছে না ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই। তবে কেউ কেউ চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছেন। নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে পারছে না।

ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম নাসির উদ্দিন বলেন, সারা দেশে যানবাহন চলছে না। রোগীরা কীভাবে হাসপাতালে আসবে? আমাদের ডাক্তাররা আগের মতোই রোস্টার অনুযায়ী চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন। তারা নভেল করোনা ভাইরাস রোধে যা করণীয় সবই ব্যবহার করে ওয়ার্ডে চিকিৎসা দিচ্ছেন রোগীদের। শনির আখড়ায় বাজার করতে এসেছেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শওকত ওসমান।

তিনি বলেন, সাধারণ ছুটি ঘোষণার আগেই কিছু বাজার করেছিলাম সেগুলো দিয়ে কয়েক দিন চললাম। ফ্রিজে কোনো মাছ, মাংস ও কাঁচাবাজার নেই। তাই আজ বাধ্য হয়ে বাজারে এসেছি।

কিন্তু সারা দেশের চিত্র এক রকম আর বাজারে তার পুরোটাই উল্টো দেখছি। নিরাপদ দূরত্ব কেউ মানছেন না। গায়ে গা ঘেঁষে বাজার করছেন। একটু সরতে বললে আড়চোখে তাকাচ্ছেন। এতে করে নিজেই বিব্রত হচ্ছি। কেউ কেউ বলছেন এতই যেহেতু ভয় তাহলে বাজারে না আসলেই হয়।

শওকত ওসমান বলেন, করোনা প্রতিরোধে সচেতনতার বিকল্প নেই। তাই এক্ষেত্রে সরকারকে আরও কঠোর হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। নগরীর তালতলা বাজারে গিয়ে দেখা যায়, মানুষের ভিড় পুরো বাজারে। মাছের দোকান কিংবা সবজির সবখানেই ক্রেতা সমাগম। মুখে মাস্ক থাকলেও একে অপরের সঙ্গে কোনো দূরত্ব মানছেন না।

এদিকে নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, এলাকায় অলিগলিতে বিভিন্ন বয়সি লোকের আড্ডা। বিশেষ করে মহল্লার টি-স্টলগুলোতে তরুণ ও কিশোরদের আড্ডা দেখে মনে হয়েছে তাদের মধ্যে করোনার কোনো ভয় বা আতঙ্ক নেই। নিয়ম রক্ষায় মাস্ক অনেকে গলায় ঝুলিয়ে করছে ধূমপান। সামাজিক দূরত্ব বলতে কিছুই মানছে না তারা।

করোনা ভাইরাসজনিত কোভিড-১৯ রোগ বিশ্বব্যাপী মহামারি রূপ নিয়েছে। করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার নাগরিকদের ঘরে অবস্থান করতে বলছে। আর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গত ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করা হয় যা বৃদ্ধি করে ফের বাড়িয়ে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত করেছে সরকার।

এ ছুটি বাড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হতেও বলা হয়েছে। প্রশাসনও এ ব্যাপারে তৎপর রয়েছে। কোথাও জমায়েত হতে দিচ্ছে না। বৈশ্বিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও চলছে এক ধরনের অঘোষিত লকডাউন।

আমারসংবাদ/এসটিএমএ