মঙ্গলবার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০

১৩ ফাল্গুন ১৪২৬

ই-পেপার

প্রিন্ট সংস্করণ॥রেজুয়ান আলম ধামইরহাট (নওগাঁ)

জানুয়ারি ১৮,২০২০, ০১:০৩

ফেব্রুয়ারি ০৯,২০২০, ১০:০৯

ঘুরে আসুন নওগাঁর আলতাদিঘি

নওগাঁ জেলার পর্যটনকেন্দ্রগুলোর মধ্যে অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র হলো ধামইরহাট উপজেলায় অবস্থিত আলতাদিঘি। ষড় ঋতুর এই বাংলাদেশে প্রকৃতি একেক ঋতুতে যেমন একেকরূপ ধারণ করে অপরূপ এক সৌন্দর্য বহন করে, ঠিক তেমনি ঋতু বদলের সাথে সাথে এর প্রকৃতিগত সৌন্দর্যও বৃদ্ধি পেতে থাকে। আপনি যতবার আসবেন ঠিক ততবার তার অপরূপ সৌন্দর্যে মোহিত না হয়ে পারবেন না। বিশালাকার লম্বাটে এই দিঘিতে শোভা পাচ্ছে নানান ধরনের জলীয় ফুল। তার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ফুল হলো পদ্ম ও শালুক ফুল। যার অপরূপ শোভা যেন চোখ ধাঁধিয়ে দেবার মতো। দিঘির চারদিকে তাকালে অজস্র শালগাছ যেন অপরূপ লীলাভূমিতে পরিণত করেছে। বাগানের মধ্যে প্রবেশ করলে সর্বাগ্রে চোখে পড়ার মতো একটি দৃশ্য হলো ‘উইয়ের ঢিবি’। এঁটেল-দোআঁশ মাটির এই বাগনে অজস্র উই পোকা মাটি ঠেলে বিশালাকৃতির নিজেদের রাজপ্রাসাদ তৈরি করে। শীতের সময় নানান ধরনের অতিথি পাখি আসে এখানে, যাদের কল-কাকলিতে মুখরিত থাকে এই বাগানের পরিবেশ। দিঘিতে অসংখ্য পাখির জলকেলিতে যেন প্রকৃতির একটি চমকপ্রদ দিক ফুটে ওঠে। যা পর্যটকদের মুগ্ধ করে। দিঘির চারপাশে গ্রামগুলোতে বসবাস করে সাঁওতাল ও কিছু উপজাতির লোক। যারা বিভিন্ন সময়ে এই উদ্যানে ধর্মীয় উৎসব পালন করে থাকে যা চোখে পড়ার মতো। ইতিহাস ঘাটলে জানা যায়, সৌন্দর্যের লীলাভূমি আলতাদিঘি জাতীয় উদ্যান রাজশাহীর সামাজিক বন বিভাগের আওতাধীন নওগাঁ জেলার ধামইরহাট উপজেলায় পাইকবান্ধা রেঞ্জের অধীন ধামইরহাট বিটে অবস্থিত। রাজশাহী থেকে ১১০ কি.মি. উত্তরে নওগাঁ জেলা সদর থেকে ৬০ কি.মি., জয়পুরহাট জেলা সদর থেকে ২৭ কি.মি., পশ্চিমে বগুড়া জেলা সদর থেকে ৮০ কি.মি. পশ্চিমে এবং ধামইরহাট উপজেলা থেকে উত্তরে প্রায় ৫ কি.মি.-এর মধ্যে এই বনাঞ্চল তথা জাতীয় উদ্যানটির অবস্থান। আলতাদিঘি জাতীয় উদ্যানের মোট আয়তন ২৬৪.১২ হেক্টর। শালবন এলাকার মাঝে ৪২.৮১ একর আয়তনের একটি বিশাল দিঘি বিদ্যমান আছে। এর নাম আলতাদিঘি। নওগাঁ জেলার এই দিঘির ন্যায় বৃহৎ ও মনোমুগ্ধকর দিঘি আর নেই। দিঘিটির দৈর্ঘ্য ১.২০ কি.মি., প্রস্থ ০.২০ কি.মি.। দিঘিটির উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম পাড়ে বন বিভাগের সৃজিত বাগান ও প্রাকৃতিক শালবাগান রয়েছে, পূর্ব পাশে কিছু সাঁওতাল উপজাতির লোকের বসবাস রয়েছে। আলতাদিঘির চতুর্পাশের বাগান, প্রাকৃতিক শালবন এবং সাঁওতাল আদিবাসীদর ভিন্নধর্মী জীবনাচারণ দিঘিটির গুরুত্ব ও সৌন্দর্য্য আরও বৃদ্ধি করেছে যা উপভোগ করার জন্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রচুর দর্শনার্থী এখানে পরিদর্শনে আসেন। আনুমানিক ১৪০০ খ্রিস্টাব্দে এ অঞ্চলের রাজা বিশ্বনাথ জগদল রাজত্ব করতেন। সেই সময় এতদাঞ্চলে পানির অভাব প্রকট আকার ধারণ করেছিল। কথিত আছে— একদিন রানি স্বপ্নে দেখলেন যে, ওই এলাকার পানির সমস্যা নিরসনের জন্য একটি বৃহৎ দিঘি করতে হবে। সেই মতে রানি রাজাকে বললেন আমি পায়ে হেঁটে যাব এবং যতক্ষণ পর্যন্ত আমার পা ফেটে রক্ত না বের হবে ততক্ষণ পর্যন্ত হাঁটতে থাকব। আমি যতদুর পর্যন্ত হাঁটব ততবড় একটি দিঘি খনন করে দিতে হবে। রানির কথামতো পাইক-পেয়াদা-বাদিসহ রানি হাঁটতে শুরু করলেন। হাঁটতে হাঁটতে রানি বহুদুর চলে যাচ্ছিলেন। তখন পাইক-পেয়াদারা চিন্তা করলো রানি যদি হাঁটতে থাকেন তাহলে রাজার পক্ষে এতবড় দিঘি খনন করা সম্ভব হবে না। তাই তারা হাঁটার এক পর্যায়ে রানির পিছন থেকে রানির পায়ে আলতা ঢেলে দিয়ে চিৎকার করে উঠে বললো— রানিমা আপনার পা ফেটে রক্ত বের হচ্ছে। তখন রানিমা ওই স্থানে বসে পড়লেন। রাজা বিশ্বনাথ জগদল সে পর্যন্ত ওই দিঘিটি খনন করলেন। রানির পায়ে আলতা ঢেলে দেয়ার প্রেক্ষিতে দিঘিটির নামকরণ করা হয় ‘আলতাদিঘি’। আপনিও ঘুরে আসতে পারেন অপরূপ সৌন্দর্যমণ্ডিত আলতাদিঘি জাতীয় উদ্যান। আমারসংবাদ/এমএআই