মঙ্গলবার ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০

৫ ফাল্গুন ১৪২৬

ই-পেপার

আমার সংবাদ ডেস্ক

জানুয়ারি ২১,২০২০, ১২:৫১

ফেব্রুয়ারি ০৯,২০২০, ১০:০৯

চীনের নতুন ভাইরাস কতটা ভয়ঙ্কর?

সম্প্রতি চীনে ছড়িয়ে পড়া নতুন ভাইরাসের নাম সিভিয়ার অ্যাকুইট রেসপিরেটরি সিনড্রোম (এসএআরএস)। গেলো বছরের ডিসেম্বর থেকে এই নতুন ভাইরাস মানুষের শরীরের ফুসফুসে বড় ধরণের সংক্রমণ ঘটাচ্ছে বলে জানা গেছে। চীনা কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যেই নিশ্চিত করেছে যে অন্তত তিনজন এই ভাইরাস সংক্রমণে মারা গেছে এবং আক্রান্ত হয়েছে আরও অন্তত ২শ’ জন। যদিও কিছু স্বাস্থ্য বিশ্লেষকের ধারণা, এই রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় দু’হাজারের কাছাকাছি। ভাইরাসটিকে এক ধরণের করোনাভাইরাস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং এটি একটি কমন ভাইরাস যা নাক, সাইনাস বা গলার উপরিভাগে সংক্রমণ ঘটায়। কিন্তু এই ভাইরাস সংক্রমণ কতটা উদ্বেগজনক এবং কতটা দ্রুত ছড়ায় এই ভাইরাস? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ধারণা, ভাইরাসটি উৎস কোনও প্রাণী থেকে। যতটুকু জানা যায়, মানুষের আক্রান্ত হবার ঘটনাটি ঘটেছে চীনের উহান শহরে সামুদ্রিক মাছ পাইকারি বিক্রি হয় এমন একটি বাজারে। করোনাভাইরাস ভাইরাস পরিবারে আছে তবে এ ধরণের ছয়টি ভাইরাস আগে পরিচিত থাকলেও এখন যেটিতে সংক্রমিত হচ্ছে মানুষ সেটি নতুন। বেশিরভাগ করোনাভাইরাসই বিপজ্জনক নয় কিন্তু আগে থেকে অপরিচিত এই নতুন ভাইরাসটি ভাইরাল নিউমোনিয়াকে মহামারীর দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে। এই রোগে আক্রান্ত মানুষ শরীরে কি কি লক্ষণ দেখা যায় রেসপিরেটরি লক্ষণ ছাড়াও জ্বর, কাশি, শ্বাস প্রশ্বাসের সমস্যাই মূলত প্রধান লক্ষণ। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব অনেককে সার্স ভাইরাসের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে যা ২০০০ সালের শুরুতে প্রধানত এশিয়ার অনেক দেশে ৭৭৪ জনের মৃত্যুর কারণ হয়েছিলো। নতুন ভাইরাসটির জেনেটিক কোড বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে এটি অনেকটাই সার্স ভাইরাসের মতো। এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর মার্ক উলহাউস বলেন, আমরা যখন নতুন কোনো করোনাভাইরাস দেখি, তখন আমরা জানতে চাই এর লক্ষণগুলো কতটা মারাত্মক। এ ভাইরাসটি অনেকটা ফ্লুর মতো কিন্তু সার্স ভাইরাসের চেয়ে মারাত্মক নয়। কত দ্রুত ছড়াতে পারে এই ভাইরাস? ডিসেম্বরে উহান শহরে প্রথম এ ভাইরাসটি তার অস্তিত্ব জানান দিয়েছিল এবং এ পর্যন্ত মারা গেছে তিন জন। কিন্তু কর্তৃপক্ষের উদ্বেগের কারণ হলো লুনার নিউ ইয়ার বা চান্দ্র নববর্ষ উপলক্ষ্যে যখন লাখ লাখ মানুষ বিশ্বজুড়ে ভ্রমণ করে, সেই সময়ে নতুন এই ভাইরাসে বেশি মানুষ আক্রান্ত হওয়ার আশংকা থাকবে। দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও থাইল্যান্ডও এ নতুন ভাইরাসে আক্রান্ত হবার খবর নিশ্চিত করেছে। লন্ডনে ইমপেরিয়াল কলেজের এমআরসি সেন্টার ফর গ্লোবাল ইনফেকশাস ডিজিজ এনালাইসিস এর এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, তারা মনে করেছে ইতোমধ্যেই এক হাজার সাতশ মানুষ নতুন ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। এটি কি মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমিত হতে পারে? বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই রোগ মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমিত হওয়ার কিছু ঘটনা এরই মধ্যে ঘটেছে। সিঙ্গাপুরের ডিউক-নুস মেডিকেল স্কুলের ওয়াং লিন ফা সম্প্রতি উহান সফরে করে এসেছেন। তিনি বলছেন, মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণের লক্ষণগুলোর দিতে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দেয়া হচ্ছে। ‘চাইনিজ নিউ ইয়ার আসছে। চীনে অন্তত ৪০ কোটি মানুষ এ সময় ভ্রমণ করবে বিভিন্ন জায়গায়। প্রত্যেকেই উদ্বিগ্ন। এটার দিকে ভালো ভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে আমাদের।’ প্রতিরোধ করতে করণীয় ইতোমধ্যেই সংক্রমিত ব্যক্তিকে আলাদা করে রেখে চিকিৎসা দিতে হবে অন্যকে সংক্রমিত করার ঝুঁকি পার হওয়া পর্যন্ত। ইতোমধ্যেই উহান প্রদেশের সেই মাছের বাজার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে এবং সেখানে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলছে। মানুষজনকে অরক্ষিত প্রাণী থেকে সাবধানতার পাশাপাশি ডিম ও মাংস রান্না এবং ঠাণ্ডা বা ফ্লুতে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে থাকার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। আমারসংবাদ/জেডআই