বৃহস্পতিবার ০২ এপ্রিল ২০২০

১৯ চৈত্র ১৪২৬

ই-পেপার

ফেব্রুয়ারি ১৬,২০২০, ০৭:০৩

ফেব্রুয়ারি ১৬,২০২০, ০৭:০৪

ক্ষণিকের নয় ভালোবাসা চিরন্তন

  • বিশ্বাস করুন, আমি কবি হতে আসিনি, আমি নেতা হতে আসিনি- আমি প্রেম দিতে এসেছিলাম, প্রেম পেতে এসেছিলাম- সে প্রেম পেলাম না বলে আমি এই প্রেমহীন নীরস পৃথিবী থেকে নীরব অভিমানে চিরদিনের জন্য বিদায় নিলাম-কাজী নজরুল ইসলাম
  • প্রেমের আনন্দ থাকে স্বল্পক্ষণ কিন্তু বেদনা থাকে সারাটি জীবন-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  • এই পৃথিবীতে প্রিয় মানুষগুলোকে ছাড়া বেঁচে থাকাটা কষ্টকর কিন্তু অসম্ভব কিছু নয়। কারো জন্য কারো জীবন থেমে থাকে না, জীবন তার মতোই প্রবাহিত হবে-হুমায়ূন আহমেদ
  • ছেলেরা ভালোবাসার অভিনয় করতে করতে যে কখন সত্যি সত্যি ভালোবেসে ফেলে তারা তা নিজেও জানেনা ... মেয়েরা সত্যিকার ভালোবাসতে বাসতে যে কখন অভিনয় শুরু করে তারা তা নিজেও জানেনা-সমরেশ মজুমদার

ভালোবাসা ক্ষণিকের নয় ভালোবাসা চিরন্তন। ভালোবাসা একদিনের জন্য নয় ভালোবাসা সারা জীবনের। আজকের এই যুগে ভালোবাসার মধ্যে যে রোমান্স, তার যে ভাষা বা প্রকাশভঙ্গি তা আর গোপন থাকছে না। এখন এটি অনেক বেশি খোলামেলা আর উন্মুক্ত।

পৃথিবীর প্রত্যেকটি দেশের নিজস্ব সংস্কৃতি আছে। সেখানে আছে ভালোবাসা প্রকাশের নিজস্ব রীতি। প্রত্যেক দেশের তরুণ-তরুণী তাদের প্রেম ভালোবাসা কিভাবে প্রকাশ করে তার ভালোলাগার মানুষের কাছে সেই ভালোবাসা প্রকাশ নিয়ে আজকের আয়োজন লিখেছেন— জিয়া উল ইসলাম

বাংলাদেশে বাসন্তী সাজে তরুণীদের ভালোবাসা
বাংলাদেশ ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিনে প্রাসাদ থেকে কুঁড়েঘর সর্বত্রই হাতছানি দিয়ে ডাকে ভালোবাসা। এই দিনে একে অন্যকে তাদের ভালোবাসা জানায় প্রেমিক-প্রেমিকা, বন্ধু-বান্ধব, স্বামী-স্ত্রী, মা-সন্তান, ছাত্র-শিক্ষকসহ বিভিন্ন বন্ধনে আবদ্ধ মানুষরা। লাল হলুদ শাড়ি পড়ে নারীরা ঘুরতে বের হয় পুরুষরা বিভিন্ন রংঙের পাঞ্জাবি পড়ে বের হয়।

এই দিনে ভালোবাসার মানুষদের দ্বারা পরিপূর্ণ থাকে পার্ক ও বিনোদন কেন্দ্রগুলো। ভালোবাসার দিনে প্রিয়জনকে ফুল ও বিভিন্ন সামগ্রী উপহার দেয় সবাই। প্রিয়জনের সঙ্গে দিনভর স্বর্গীয় সুখের অনুভূতিতে মেতে থাকে কপোত-কপোতিরা।

দুই উৎসবে চীনে ভালোবাসা
ভা লোবাসা উদযাপনের প্রাচীন ঐতিহ্যের দেশ হচ্ছে চীন। ভালোবাসা প্রকাশের চীনে রয়েছে দুটি বিশেষ দিন। প্রথমটি কি কিয়াও জাই বা চায়নিজ ভালোবাসার দিন। চীনা বর্ষপঞ্জির সপ্তম মাসের সপ্তম দিন এটি পালন করা হয়। একটি কিংবদন্দি থেকে এই উৎসবের সূচনা। ঘটনাটি হলো দুই প্রেমিক-প্রেমিকার গল্প, পুরুষটি কারখানার ফোরম্যান আর নারী একজন তাঁতশিল্পী।

বছরের কেবল একদিন তাদের দেখা হয়, পাখিদের তৈরি একটা সেতুর ওপর। আর এ দিনটিই কি কিয়াও জাই। অপর উৎসবটির নাম শাং উয়ান জি বা দ্যান জাই। এটিই আসলে চীনাদের ভালোবাসার দিবস। চীনা প্রথম মাসের ১৫তম দিনে এটি উদযাপিত হয়। এ দিন ঘর ছেড়ে বাইরে আসে কুমারীরা। এখনও কিছু কিছু লোক দ্যান জাই বা ভালোবাসা দিবস পালন করে।

মেক্সিকোয় কনে চুরি করে ভালোবাসা প্রকাশ
অ সাধারণ স্বকীয় কিছু বৈশিষ্ট্য নিয়ে এখনো টিকে আছে মেক্সিকান কিছু রোমান্টিক ঐতিহ্য। কোনো কোনো অঞ্চলে ‘কনে’ চুরি করে আনার বিচিত্র রীতি চালু আছে। প্রেমের চূড়ান্ত পর্যায়ে যদি বাদ সাথে পরিবার, তখন এই রীতি নিয়ে মাঠে নামে প্রেমিক। রাতের আঁধারে গা ঢাকা দিয়ে রওনা হয় সে মেয়ের বাড়ির উদ্দেশ্যে। তরুণ আশা করে প্রেমিকাকে নিয়েই সে পালাতে সফল হবে।

আর একবার তা করা গেলে যত দ্রুত সম্ভব সর্বসম্মতিতে তাদের বিয়ে পড়িয়ে দেয়া ছাড়া কনের পরিবারের আর কোনো বিকল্প থাকে না। মেক্সিকোতে রোমান্সের আরও কিছু মিষ্টি ও মধুর রীতি প্রচলিত আছে। ভালোবাসার মানুষকে গান শোনানোর ঐতিহ্য মেক্সিকান সংস্কৃতির সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে গেছে।

বেশ কয়েকজন শিল্পীসহ পাত্রিপ্রার্থী হাজির হয় তার পছন্দের মেয়েটির বাড়ির সামনে। প্রেমিক পুরুষটিকে গ্রহণ করতে তরুণীটি এগিয়ে আসার আগ পর্যন্ত শিল্পীরা গাইতে থাকে ভালোবাসার গান। আর যদি শেষ পর্যন্ত মেয়েটি না-ই আসে, তবে ধরে নিতে হবে, হতভাগ্য প্রেমিককে প্রত্যাখ্যান করেছে সে।

ডিনারের মাধ্যমে প্রেম নিবেদন ব্রিটেনে
প্রতিবছর ১৪ ফেব্রয়ারি উপহারের মাধ্যমে ভালোবাসার প্রকাশ ব্রিটেনে এমন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে যে অনেকে এটা কাজে লাগিয়ে রীতিমতো জমজমাট ব্যবসা করে।

ভ্যালেন্টাইন ডে উপলক্ষে ব্রিটিশরা লাখো লাল গোলাপ, আর কার্ড কিনে। এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ভালোবাসা দিবসে বিশেষ মূল্যে বিশেষ প্যাকেজের ব্যবস্থা করে। এতে প্রেমিকযুগলের জন্য থাকে বিলাসবহুল আর বৈচিত্র্যময় এক ডিনারের ব্যবস্থা।

ডিনারের শেষে থাকে বিয়ের প্রস্তাব দিতে সক্ষম আশ্চর্য কথা বলা ডেজার্ট। তবে এতসব কিছুর পরও কেউ বলতে পারে না, ব্রিটিশদের ভালোবাসা দিবস কেবল উহার দেয়া-নেয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।

প্রতিবছরের ফেব্রুয়ারিতে হাজার হাজার মানুষ তাদের ভালোবাসা দিবসের কার্ড পাঠাতে হাজির হয়ে যায় লাভার শহরের ডাকঘরে। যেন তাদের ভালোবাসার উপহারের গায়ে শোভা পায় সেখানকার বিশেষ ছাপ।

পর্তুগালে রুমাল ঝুলিয়ে ভালোবাসা
উত্তর পর্তুগাল থেকে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়া প্রেম বিনোদনের প্রাচীন রীতিতে প্রেমিকাদের নিতে হয় তাঁতির ভূমিকা। এখানে ভালোবাসা প্রকাশের মাধ্যম হচ্ছে রুমাল।

ভালোবাসার মানুষটির কাছে পাঠানোর আগে এই রুমালে নকশা তৈরি করে হূদয়ের সব ভালোবাসা উজাড় করে দেয় প্রেমিকা। যার যেদিন নকশার কাজ শেষ হবে, সেদিনই তার ভালোবাসার দিন। ফলে প্রতিটি তরুণীর ভালোবাসার দিন আলাদা।

রুমালটি পাঠানোর ঠিক পরের রোববার ভালোবাসার মানুষ যদি রুমালটা গলায় ঝুলায় তবে বুঝতে হবে প্রেমের স্বীকৃতি দিয়েছে তরুণ। আর মেয়েটাকে যদি সে না চায়, তবে রুমালটা তাকে ফিরিয়ে দেবে।

গাড়িতে ভালোবাসা সৌদি তরুণ-তরুণীদের
সমপ্রতি আরব নিউজ একটি প্রেমিক-প্রেমিকাদের জন্য নির্দেশিকাও প্রকাশ করেছে। এতে প্রেম করার জন্য সেরা স্থানগুলোর তালিকা রয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন বাজেটে প্রেমিক বা প্রেমিকার জন্য উপহার ও একসঙ্গে খাওয়ার জন্য সেরা রেস্টুরেন্টগুলোর ঠিকানা দেয়া হয়েছে ওই নির্দেশিকায়।

সংস্কারের পর সৌদি আরবে রেস্তোরাঁয় তরুণ-তরুণীদের পাশাপাশি বা মুখোমুখি বসে গল্প করা এখন স্বাভাবিক দৃশ্য। আগে তা কল্পনাই করা যেত না। আগে একজন অপরিচিতের পাশে একজন নারী বসবে এটা কল্পনা করাও ছিল অসম্ভব। তরুণ-তরুণীরা এখন কতটা স্বাধীন?

এর উত্তরে এক সৌদি গণমাধ্যমকর্মী তরুণী জানান, এখন মেয়েরাই ছেলেদের ডেকে বাইরে নিয়ে যায়। ডয়েচে ভেলে জানিয়েছে, তবে এখনো রেস্টুরেন্টগুলোতে চুমু খাওয়া সহজ নয়। এ জন্য গাড়ির মধ্যে ডেট করাটাই শ্রেয় মনে করেন অনেক সৌদি তরুণ-তরুণীরা।

আমেরিকায় চারজনের তিনজনই যে দিনটি উদযাপন করে
প্রায় ৯৮.৩ লাখ র্বগকিলোমটাির দেশ আমেরিকা। দেশটির জনসংখ্যা প্রায ৩০ কোটি ৯০ লাখ। আমেরিকার চারজনের তিনজনই যে দিনটি উদযাপন করে তা হচ্ছে ভালোবাসা দিবস। নিজস্ব ঢঙে এটা করে তারা।

প্রতিবছর ১৪ ফেব্রয়ারি তারা বিনিময় করে ১৬ কোটি কার্ড, আর এই এক দিনে আমেরিকাবাসী কিনে ১০০ কোটি ডলারের চকোলেট ও ১৩ কোটি গোলাপ। কেউ কেউ বাসায় ডিনার করতে পছন্দ করলেও তিনজনের একজন আমেরিকান ফেব্রুয়ারি ১৪ তারিখ বাইরে কোনো রেস্তোরাঁ বা হোটেলে খেতেই পছন্দ করে।

ভালোবাসার এই উচ্ছ্বাস যে শুধু প্রেমিক-প্রেমিকার মধ্যে সীমাবদ্ধ, তা নয়। সামপ্রতিক বছরগুলোতে বন্ধু-বান্ধব আর আত্মীয়স্বজনকে কার্ড পাঠানোর প্রবণতা অনেক বেড়েছে বলে রিপোর্ট করেছে শুভেচ্ছা কার্ড প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান হলমার্ক।


আমারসংবাদ/এসটিএমএ