সোমবার ০৬ এপ্রিল ২০২০

২৩ চৈত্র ১৪২৬

ই-পেপার

আমার সংবাদ ডেস্ক

মার্চ ২০,২০২০, ০৪:৪৭

মার্চ ২১,২০২০, ১০:২৬

করোনা থেকে বাঁচতে ছাড়তে হবে যেসব অভ্যাস

করোনাভাইরাসের কারণে আতঙ্কের মধ্য দিয়ে দিন পার করছে সারাবিশ্বের মানুষ। এর জেরে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আরো কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, করোনাভাইরাস ছড়িয়ে যাওয়া ঠেকাতে কিছু অভ্যাস আসলেই পরিবর্তন করা প্রয়োজন। আর এসব অভ্যাস পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে নিজের যেমন ঝুঁকি কমে, অন্যরাও ঝুঁকি থেকে বাঁচে।

১. নাক অথবা চোখ স্পর্শ 
মনে রাখতে হবে, কোভিড-১৯ এর ভাইরাসটি লেগে আছে এরকম জিনিসে শুধু স্পর্শ করলেই আপনি আক্রান্ত হবেন না। স্পর্শ করার পর আপনি যদি হাত দিয়ে মুখ, নাক অথবা চোখ স্পর্শ করেন তাহলেই এই ভাইরাসটি আপনার শরীরে ঢুকে পড়বে। তাই এই ভাইরাসটি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ একটি করণীয় হচ্ছে হাত দিয়ে নাক, চোখ বা মুখ স্পর্শ না করা।

২.সামাজিকতা পরিহার
রেস্টুরেন্ট, নাইট ক্লাব, চার্চ, মসজিদ, বিয়ের অনুষ্ঠান কিংবা শেষকৃত্যে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। প্রতিদিন বাইরে যেভাবে ঘুরে বেড়াতেন, সেটাও কমিয়ে নিয়ে আসতে হবে। সরকারিভাবে এরই মধ্যে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেছে। সেহেতু সামাজিকতা রক্ষা করতে গিয়ে বিপাকে পড়া থেকে বিরত থাকাই উচিৎ। বন্ধু-বান্ধবদের এই অসময়ে এড়িয়ে চলার বিকল্প নেই।

৩.টাকা
টাকা লেনদেনের মাধ্যমে কিন্তু হাতে জীবাণু লেগে যায়। প্রয়োজনে টাকা স্পর্শ করলে হাত ধুয়ে ফেলতে হবে। তবে নগদ টাকা ছাড়া স্মার্টকার্ড, ক্রেডিট কার্ড, ই-লেনদেন ইত্যাদির মাধ্যম ব্যবহার করে কেনাকাটা করুন। তাহলে আপনার মাঝে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি কমবে।

৪.অফিসে যাওয়া
বিভিন্ন দেশে স্কুল কলেজের পাশাপাশি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কর্মীদের ঘরে বসে কাজ করার কথা বলা হচ্ছে। আমাদের দেশেও বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা বাড়িতে থেকে কাজ করছেন। সে ক্ষেত্রে বাড়িতে থেকে কাজ করা সম্ভব হলে, অফিসে না যাওয়া ভালো।

৫.চলাচলে নিয়ন্ত্রণ
চীনে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়তেই উহান শহর লকডাউন করে দেয়া হয়। পরে পুরো চীন লকডাউনে চলে যায়। ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে বিভিন্ন দেশ সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশের মাদারীপুরের শিবচর লকডাউন করা হয়েছে। এরকম পরিস্থিতিতে নিজেদের অবাধ চলাচল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা দরকার।

৬.খরচ কমানো
সারাবিশ্বের বিভিন্ন খাত করোনাভাইরাসের কারণে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। বহু মানুষ বেকার হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে ঘরে বসে থাকতে হচ্ছে মানুষজনকে। সবমিলিয়ে বৈশ্বিকভাবে অর্থনৈতিক মন্দার শঙ্কা রয়েছে। এমতাবস্থায় খরচ কমানোর বিকল্প নেই। প্রয়োজনীয় সামগ্রী, খাবার এবং জীবাণু থেকে বাঁচার সরঞ্জাম কিনতে হবে। বাড়তি খরচ এখন না করাই ভালো।

৭.চিকিৎসা নেয়া
অনেকেই একেবারে খারাপ পরিণতি হওয়া পর্যন্ত চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার ব্যাপারে উদাসীনতা দেখান। এটা করবেন না। আবার হালকা সমস্যা হলেই হাসপাতালে দৌড় দেবেন না। বিষয়টি সুচিন্তিতভাবে ভেবে দেখুন। তারপরই সিদ্ধান্ত নিন।

৮.সঙ্গে অতিরিক্ত ন্যাপকিন ও ফেসিয়াল টিস্যু রাখতে হবে
বাইরে গেলে সঙ্গে অতিরিক্ত ন্যাপকিন, টিস্য নিয়ে বের হবেন। যাতে পথে কোথায় হাঁচি-কাশি দিলে সেটা মুখ ঢেকে দিতে পারেন। তাহলে আপনিও যেমন ভাইরাস থেকে নিরাপদ থাকবেন, আপনার থেকে অন্যদের মাঝে সংক্রমণের ঝুঁকিও কমবে।

৯.বাইরে থেকে বাসায় ফিরলেই হাত ধুযে ফেলুন
প্রয়োজনে যতবারই বাড়ির বাইরে যাবেন, ফেরার সঙ্গে সঙ্গে সাবান বা স্যানিটাইজার দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুয়ে ফেলবেন। কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধুতে হবে। সংক্রমণ এড়াতে এটা সবচেয়ে কার্যকরি উপায়।

১০.জীবাণু থাকতে পারে এমন সন্দেহজনক জিনিস ৯ দিন ছোঁবেন না
নোভেল করোনাভাইরাস কোন পৃষ্টদেশে ৯ দিন পর্যন্ত সক্রিয় থাকে। এই জন্য আপনার ব্যবহৃত কোন বস্তুতে জীবাণু থাকতে পারে এমন সন্দেহ হলে ৯ দিনের জন্য সেটা দূরে ছুড়ে ফেলুন। আমরা জানি সাবান এবং ভালো স্যানিটাইজার দিয়ে পরিষ্কার করলে জীবাণু মরে যায়। তবে এই সময়ে ঝুঁকি নেওয়া ঠিক হবে না। নোংরা জুতা, জ্যাকেট, মোজাগুলো কমপক্ষে ৯ দিন ব্যবহার করবেন না।

আমারসংবাদ/এআই