রবিবার ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০

১১ ফাল্গুন ১৪২৬

ই-পেপার

প্রিন্ট সংস্করণ

জানুয়ারি ১৫,২০২০, ১২:৩৮

ফেব্রুয়ারি ০৯,২০২০, ১০:০৯

দুর্নীতি ও লোপাট কাহিনী রুখতে হবে দ্রুত আইন প্রয়োগে

গতকাল এ কলামেই প্রকাশিত হয়েছিল রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পে সংঘটিত সামান্য বালিশকাণ্ডে দুর্নীতিমূলক অর্থ লোপাট ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সংঘটিত পর্দা ক্রয়কাণ্ডে প্রচুর অর্থ লোপাটের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়া সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা ও সেবাকাজে নিয়োজিত তিনজন চিকিৎসকের কারাবাসের দুঃখজনক সংবাদ। আমার সংবাদসহ সকল পত্র-পত্রিকায় ফের প্রকাশিত হলো “কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের যন্ত্রপাতি ক্রয়ে কোটি টাকা লোপাট” শিরোনামের লোপাট কাহিনীর সংবাদ। এখন কথা হচ্ছে দেশের মানুষ তথা দেশ-বিদেশের পত্রিকার পাঠকরা পত্রিকা খুলেইকি কেবল খুন-ধর্ষণ, ঘুষ-দুর্নীতি ও বিভিন্ন সেবা ও উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ লোপাট হওয়ার কাহিনীগুলোই পড়তে থাকবে? অবশ্য এখন লাগাতারভাবে যে অবস্থাটা চলছে, তাতে মনে হওয়া স্বাভাবিক যে, এমতাবস্থায় ঘুষ, খুন-ধর্ষণ, দুর্নীতি ও পাইকারি হারে সরকারি অর্থ লোপাট ঘটনায় এবার হয়তো আগের সব রেকর্ড ডিঙিয়ে বিশ্বের দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় চ্যাম্পিয়ন রাষ্ট্রসমূহের শীর্ষ স্থানটিতে থাকার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। আল্লাহ না করুন, যদি এমনটাই হয়ে যায়, তাহলে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর “সোনার বাংলা” গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অগ্রসরমান অগ্রগতির পথে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের মহাসড়কে যাত্রা করার প্রচেষ্টা ও ভিশন ২০৪১ ও বাংলাদেশকে উন্নত বিশ্বের রাষ্ট্রসমূহের কাতারভুক্ত করণের স্বপ্ন কীভাবে বাস্তবায়িত হবে- আশাজাগানিয়া সুখস্বপ্ন ধারণকারী জনগণের মনে ‘এমন প্রশ্ন’ জাগাটা খুবই স্বাভাবিক। লাখ লাখ কোটি টাকা বৈদেশিক দান-অনুদান এবং দেশের হতদরিদ্রসহ সকল জনগণের রক্তমাখা ট্যাক্সের টাকা ব্যয় সাপেক্ষে উন্নয়নমূলক বিশাল বিশাল মেগা প্রকল্পসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সেবা খাতে বিনিয়োগকৃত অর্থ লোপাটের সঙ্গে জড়িত দেশ ও গণবিরোধী হর্মাদ প্রকৃতির নির্লজ্জ স্বার্থপর এসব লোকদের দৃষ্টান্তমূলক কঠিন শাস্তি প্রদানসহ র্যাপিড এ্যাকশন প্রক্রিয়া জোরদার করে দেশব্যাপী দেশের সকল উন্নয়ন প্রকল্প ও সেবা খাতে জিরো টলারেন্সসহ কেবল চিরুনী নয়, বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনাপূর্বক উকুন বাছাইয়ের মতো প্রক্রিয়ায় এসব দুর্বৃত্তদের পাকড়াও করে কোনো প্রকার আইনের ফাঁক গলিয়ে যাতে পার না পেতে পারে তার বিহিত ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। নিত্যদিন টেলিভিশন এবং পত্র-পত্রিকার সংবাদ শিরোনামে এসব কেলেঙ্কারির খবরাখবর দেশের মানুষ আর শুনতে, দেখতে বা পড়তে চায়না। মানুষ তাদের জ্বালায় যেমন অতীষ্ঠ, তেমনি অহরহ তাদের দ্বারা সংঘটিত এসব অপকর্মের অপসংবাদগুলো দেখতে, শুনতে ও পড়তে পড়তে ত্যক্ত-বিরক্ত-অতীষ্ঠ হয়ে উঠেছে। প্রাণটা হাতের মুঠোয় নিয়ে কর্মক্ষেত্রের উদ্দেশ্যে রাস্তায় বেরুতে হয়। কে-কখন-কোথায় খুন-গুম-ধর্ষণের শিকার হয়ে পড়ে তার কোনো ঠিক ঠিকানা নেই। নিশ্চিন্তে ঘরে ফেরার কোনো নিশ্চয়তা নেই। ঘরে থাকা লোকরাও তাদের মধ্য থেকে বাইরে বেরিয়ে যাওয়া ছেলে-মেয়ে ও আপনজনদের ঘরে ফেরার দুশ্চিন্তায় উদগ্রীব থাকতে হয়। নিজ গৃহেও যে নিশ্চিন্তে ঘুমাবে তাতেও স্বস্তিবোধ হয়না। দু’বেলা দু’মুঠো ভাত খেয়ে যে জীবন ধারণ করবে, দ্রব্যমূল্যের বাজার দরে লেগে যাওয়া অনির্বাপনীয় আগুনে দগ্ধ হওয়ার ভয়ে নিম্ন আয়ের মানুষরা বাজারে যেতেও পারে না। এই যদি হয় বাস্তব অবস্থা, সে অবস্থাটা দেশ ও জনগণের সেবক হিসেবে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রকৃতপক্ষে কতটুকু জানেন আমরা তা জানিনা। তবে আমাদের লেখাজোখার মাধ্যমে আমরা অনবরতই এসব বাস্তব অবস্থা তুলে ধরাসহ আমাদের পক্ষ থেকে যতদূর সম্ভব সমাধানমূলক ও পরামর্শমূলক বক্তব্য পেশ করে যাচ্ছি। আবার একই ধরনের প্রসঙ্গ পুনরুল্লেখ করার প্রয়োজন পড়ে এই জন্যে যে, আমাদের এত লেখালেখি সত্ত্বেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে গণবিরোধী, সমাজবিরোধী, জাতীয় উন্নয়ন বিঘ্নকারী বিরুদ্ধাচরণমূলক ও ড্যামকেয়ার-ডেয়ারিংমূলক খুন-ধর্ষণসহ যাবতীয় দুর্নীতিমূলক দুষ্কর্মগুলো অব্যাহত গতিতে এবং বিরামহীনভাবে ঘটেই চলছে। এভাবেতো হতে দেওয়া যায়না। তারপরও হয়েই চলছে বলে নিতান্ত অনিচ্ছা সত্ত্বেও বিবেকের দায়ে আমাদেরকেও লিখতেই হচ্ছে। আশা করি প্রধানমন্ত্রীর কঠোর হস্তক্ষেপ ও নজরদারিতে শিগগিরই এমন অবস্থার অবসান হবে আর আমরাও ভালো ভালো প্রসঙ্গ নিয়ে লেখার ফুরসৎ পাব। আমারসংবাদ/এমএআই