মঙ্গলবার ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০

৫ ফাল্গুন ১৪২৬

ই-পেপার

প্রিন্ট সংস্করণ

জানুয়ারি ১৮,২০২০, ০১:২২

ফেব্রুয়ারি ০৯,২০২০, ১০:০৯

সিটি নির্বাচনের তারিখ সুপ্রিম কোর্ট বিবেচনা করতেই পারেন

কেন এমন হবে ? ধর্মনিরপেক্ষ সাস্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রেক্ষিতেইতো হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ‘সরস্বতী পূজা’র নির্দিষ্ট বা নির্ধারিত দিনটির প্রতি সরকারের গুরুত্ব দেওয়া উচিত। এক-দুই মাস পূর্বে সরকারি গ্যাজেট আকারে প্রকাশিত সরকারি ক্যালেন্ডারে ২৯ তারিখ পূজার ছুটি নির্ধারিত করণের সময় বিষয়টা ক্যালেন্ডার প্রস্তুতকারি কারো মাথায় ছিলনা বলে এবং ২০২০ ইংরেজি বর্ষের ক্যালেন্ডারে ছুটি সংক্রান্ত গ্যাজেট প্রকাশিত হওয়ার পর পরই হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা তেমন খেয়াল না করে এ নিয়ে বাদ-প্রতিবাদ করেনি। কিন্তু যখনই তাদের পূজা উদ্যাপনের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় হয়েছে, তখনই তারা খেয়াল করে যে তাদের পঞ্জিকা অনুযায়ী পূজার তারিখ ২৯ নয়, ৩০ জানুয়ারি। আর তখন থেকেই তারা এই তারিখের বিষয়টা নিয়ে সোচ্চার হয় এবং মিটিং-মিছিল, বক্তব্য-বিবৃতির মাধ্যমে এবং বিভিন্ন উপায়ে ইসি কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন-নিবেদন জানিয়ে আসছে ৩০ জানুয়ারি পূজার দিনে ঘোষিত ঢাকা সিটি নির্বাচনের তারিখটা যেন পরিবর্তন করা হয়। কিন্তু এমন কী কারণ ছিলো যে ইসি এ দাবিটা শুরু থেকেই উপেক্ষা করে এসেছে? ইসি ইচ্ছা করলে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরামর্শ বা এই এজেন্ডা দিয়ে একটা মিটিংয়ের আয়োজন করে এব্যাপারে একটা ইতিবাচক পদক্ষেপ নিতে পারতো। কিন্তু এরূপ কিছু না করে ইসি তাদের একগুঁয়েমির ওপর অটল থাকার কারণে ক্ষুব্ধ হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে বিষয়টি উচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়ালো। এটা কোনোমতেই ঠিক হয়নি। সরকারের প্রধানমন্ত্রী কতো দিকে খেয়াল করবেন। তবু প্রধানমন্ত্রী তার নিজ ক্ষমতায় ইসি কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিতে পারেন নির্বাচনের তারিখটা মাত্র একটি দিন পিছিয়ে দিতে। তাহলে সব কিছু চুকে যেতো। কিন্তু নির্বাচন পরিচালন সংক্রান্ত সব সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও কার্যকরীকরণের বিষয়টা চূড়ান্তভাবে নির্বাচন কমিশনের একক দায়িত্ব হলেও যেকোনো আপৎকালীন অস্থায় সরকার প্রধানের ভূমিকাই চূড়ান্ত বলেও বিবেচিত বলে সবাই জানে বা মনে করে। কিন্তু এব্যাপারে নিশ্চয়ই দেশের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে একটা নেতিবাচক প্রশ্নের উদ্রেক করাটা বিচিত্র কিছু নয়। যদি ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র ও সরকার সবার’ কথাটাকে সম্মান করতে হয়, তাহলে আসন্ন পূজা ও নির্বাচনের দিন-তারিখ নিয়ে একটা গণবিক্ষোভমূলক পরিস্থিতি সৃষ্টি করাটা দূরদর্শী কোনো হীনচক্রান্তের ফসল কিনা, এমন মনে করাটাও কেবল অমূলক নয়। একেতো বিরোধীপক্ষের রাজনীতিকরা সবসময় সরকার পতন আন্দোলনের প্রচেষ্টায় মরিয়া, সেটা না করতে পেরে সামান্য কোনো ক্ল্যু পাওয়ার চেষ্টায় মরিয়া, যেটার সূত্র ধরে মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টিকারী সরকার ও সরকারের প্রধানমন্ত্রীকে কীভাবে ঘায়েল করা যায় তজ্জন্য আপ্রাণ চেষ্টায় নিয়োজিত। আর এমনই একটা পরিস্থিতিতে, মুজিব জন্মশতবার্ষিকীতে, সিটি নির্বাচনকে মাত্র একদিন পেছানোর দাবিটা ইসি কর্তৃক বিবেচিত না হওয়ায় আজ সেটা উচ্চ আদালত পর্যন্ত পৌঁছানোর বিষয় হয়ে দাঁড়ালো। এদিকে বিভিন্ন কারণে উত্তপ্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাজুক পরিস্থিতির মধ্যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা হিন্দুদের আরাধ্য বিদ্যার দেবী ‘সরস্বতী’ পূজার নির্ধারিত দিন ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য সিটি নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তনের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে গত ১৬ জানুয়ারি থেকে আমরণ অনশনে বসেছে। ইসি বা সিইসির গোঁয়ার্তুমির কারণে গুরুত্বপূর্ণ সিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় কর্মসূচি ও ধর্মীয় চেতনায় বিঘ্ন সৃষ্টি করার মতো একটা পরিস্থিতি সৃষ্টি করা কোনোমতেই স্বাভাভিক বলে মেনে নেওয়া যায়না। বিতর্কিত চরিত্রের ব্যক্তি হিসেবে বর্তমান সিইসি’র ওপর খোদ ইসিতে-ই অসন্তোষ বিরাজ করছে। আর এই বিতর্কিত ইসি-সিইসির অধীনে নির্বাচনে না যাওয়াকে কেন্দ্র করে দেশে বড় ধরণের আন্দোলনতো ইতোমধ্যেই দানা বেঁধে ওঠার প্রক্রিয়া চলমান। ইতোপূর্বে অনাকাঙ্ক্ষিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আবির্ভাব ঘটেছিল তৎকালীন সিইসির অধীনে নির্বাচন বিরোধী ভয়াবহ আন্দোলনের প্রেক্ষিতেই। আমরা চাইনা এমতাবস্থায় দেশের নির্বাচন ঘিরে আবার দেশে এমন কোনো পরিস্থিতির অবতারণা হোক। তাই আশা করা যায় দেশের সর্বোচ্চ আদালত এই পূজা উপলক্ষ্যে সিটি নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তনের বিষয়টাতে স্বস্তিমূলক সঠিক রায়টাই প্রদান করবেন। আমারসংবাদ/এমএআই