রবিবার ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০

১১ ফাল্গুন ১৪২৬

ই-পেপার

প্রিন্ট সংস্করণ

জানুয়ারি ১৯,২০২০, ০১:০৮

ফেব্রুয়ারি ০৯,২০২০, ১০:০৯

সিইসির সঠিক সিদ্ধান্তহীনতার পরিণাম

একটি গণতান্ত্র্রিক দেশে যেকোনো রাষ্ট্রীয় নির্বাচনে ভোট প্রদানের অধিকার হচ্ছে রাষ্ট্রের নাগরিকদের একটা গণতান্ত্রিক অধিকার। রাষ্ট্রের যাবতীয় নির্বাচনিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্বাধীন ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্যে সাংবিধানিকভাবে ‘নির্বাচন কমিশন’ বা ‘ইসি’ নামক একটা রাষ্ট্রস্বীকৃত ও সম্পূর্ণ সর্বোচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন স্বায়ত্বশাসিত একটা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। ১৮ বছর থেকে তদুর্ধ বয়সী নাগরিকদের ভোটারভুক্তকরণ, ভোটার তালিকা প্রণয়ন, নির্বাচন তফসিল নির্ধারণ ও দেশের সর্বস্তরের জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করার লক্ষ্যে অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান নিশ্চিতকরণ ও পুরো নির্বাচন ব্যবস্থা পরিচালনা করা ও যথাযথভাবে ভোট গণনাপূর্বক ফলাফল ঘোষণা করে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করাই নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। নির্বাচন কার্যক্রম অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হওয়ার ওপর নির্ভর করে রাষ্ট্রের সরকার গঠন ও নির্বাচন পরবর্তীকালে সরকার পরিচালনার সকল ব্যবস্থাপনা। সুতরাং, নির্বাচন কমিশন এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যার ওপর দেশ, জাতি ও রাষ্ট্রের ভবিষ্যত নির্ভর করে। এই নির্বাচন কমিশনের যাবতীয় কার্যক্রম হতে হবে দলমত নির্বিশেষে সকলের আশা-ভরসার স্থল হিসেবে সকল সন্দেহ ও বিতর্কের উর্ধ্বে অবস্থানকারী একটা সম্মানজনক কর্মপ্রক্রিয়ার নিয়ামক হিসেবে। সিইসিসহ ইসিগণকে হতে হবে ক্লিন ইমেজের সচ্চরিত্র ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ব্যক্তি বিশেষ, যাদের স্বাধীন কাজে কেউ কোনো প্রকার প্রভাব প্রয়োগ করতে পারবেনা। তারা কেবলমাত্র দেশ ও জাতির ভবিষ্যত কাঠামো বিনির্মাণের জন্যে জনগণের পছন্দের যোগ্য প্রতিনিধি নির্বাচিত করার কাজে সহযোগিতাদানের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টায় নিবিষ্টভাবে নিয়োজিত। কিন্তু তারাতো নির্বাচন সামনে রেখে এমন কিছু করতে পারেনা, যেটা সার্বিক ও সুষ্ঠু নির্বাচনে বা সকল দলমত, শ্রেণী-পেশা ও ধর্মমতের ভোটাররা তাদের ভোট প্রদানে বিঘ্ন সৃষ্টি করবে। যেটা দেশের অত্যধিক গুরুত্বপূর্ণ আসন্ন ঢাকা সিটি নির্বাচন নিয়ে ইতোমধ্যে একটা বিতর্কিত ধুম্রজাল সৃষ্টি করেছে। সেটা হলো- ৩০ জানুয়ারি তারিখে অনুষ্ঠিতব্য ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনের দিনটি হচ্ছে হিন্দু জনগোষ্ঠীর অতি গুরুত্বপূর্ণ ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান ‘সরস্বতী পূজা’র দিন। তাই, রাজধানীতে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক হিন্দু ভোটার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেনা বলে নির্বাচনের দিনটি পরিবর্তনের জন্যে সিইসি ও ইসির কাছে আবেদন জানালেও নির্বাচনের দিন পরিবর্তনের কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় বিষয়টা উচ্চ আদালতের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষের বিবেচনার অপেক্ষায় রয়েছে। এর মধ্যে দু’টি বিষয় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। ১. হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ এ নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে এবং বলেছে এ নির্বাচন ঘিরে যদি অপ্রীতিকর কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, তার দায় ইসিকেই বহন করতে হবে। ২. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা সিটি নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তনের দাবিতে গত ১৬ জানুয়ারি থেকে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করছে। ইতোমধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়া একাধিক শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই যদি হয় ইসি বা সিইসির ভূমিকা, তাহলে আগামী জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত এ সিইসি বা ইসির অধীনে নির্বাচন ব্যবস্থা কেমন হতে পারে, সেটা এখন থেকে দেশের মানুষরাই বিবেচনা করবে। এমনিতেই এই সিইসি ও ইসির অধীনে যে কিছু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেগুলো নিয়েও বিস্তর অভিযোগ ছিলো। তাই ঢাকাবাসীসহ দেশের জনগণ সিইসি হিসেবে বিচারপতি আবদুর রউফের সময়কার ইসির অধীনে অনুষ্ঠিত হওয়া নির্বাচনের কথা এখনো মনে রেখেছে এবং যত শিগগির সম্ভব এমন একজন সিইসি নিয়োগ করে ইসিকে বিতর্কমুক্ত করতে সরকারপ্রধান বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চায় দেশের জনগণ। আমরাও চাই, ইসি বা সিইসিকে কেন্দ্র করে দেশে যেন নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো অবস্থার সৃষ্টি না হয়। আমরা গতকাল এব্যাপারে আমাদের শঙ্কার বিষয়ে উল্লেখ করেছি। ঢাকাবাসীসহ সকল দেশবাসী সিটি নির্বাচনসহ সকল স্তরে শঙ্কামুক্ত সুষ্ঠু নির্বাচনই কামনা করে। আসন্ন ঢাকা সিটি নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তন বিষয় নিয়ে ইসি বা সিইসি কর্তৃক কেবল উদ্ভূতই নয়, অদ্ভূত পরিস্থিতিতে অনশনরত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জীবনাবসানের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো অবস্থা যাতে সৃষ্টি না হয়- এব্যাপারটা যখন দেশের সর্বোচ্চ আদালতের সর্বোচ্চ বিবেচনাধীন আছে, তাতে সবার সঙ্গে আমরাও আশাবাদী যে এব্যাপারে অবশ্যই একটা ইতিবাচক রায় প্রকাশিত হবে এবং তাতে কেবল সিটির ভোটাররাই নয়, সারা দেশবাসী স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবে। আমারসংবাদ/এসটিএমএ