মঙ্গলবার ৩১ মার্চ ২০২০

১৭ চৈত্র ১৪২৬

ই-পেপার

মাহমুদুল হাসান

প্রিন্ট সংস্করণ

মার্চ ২৫,২০২০, ০৮:৪১

মার্চ ২৫,২০২০, ০৮:৪২

অঘোষিত লকডাউন

  • শনাক্ত ১০ জনের অনুপাতে একজনের মৃত্যু
  • সড়ক, নৌ, রেল এবং চলাচল বন্ধ ঘোষণা
  • বুয়েট আবাসিক এলাকা লকডাউন
  • শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি আরও বাড়লো
  • চীনের মেডিকেল পণ্য আসবে কাল

করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। মৃত্যুও চারজনে পৌঁছেছে। কিট ও চিকিৎসকদের নিরাপত্তা উপকরণ (পিপিই) স্বল্পতা কেটে ওঠেনি।

ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে এখন ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। যাদের শরীরে করোনার উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে- তাদের বড় অংশ বিদেশফেরত করোনা আক্রান্ত অথবা তার স্বজনদের সঙ্গে মিশে সংক্রমিত হয়েছেন।

স্থানীয়দের মধ্যে রোগী বাড়তে থাকায় শঙ্কা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার দেশে জরুরি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। ছুটিতে যেন সবাই নিরাপদে গৃহে অবস্থান করেন।

এসময়ে সরকার পরবর্তী পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। কিন্তু এর মধ্যে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে মানুষ গ্রামে ফিরতে শুরু করেছে। এই অস্বাভাবিকভাবে সড়ক, নৌ, রেল ও বিমান পথে গ্রামে ফেরায় ব্যক্তিরা বহু লোকের সংস্পর্শে আসছে।

ফলে করোনা ভাইরাস আরও বেশি মাত্রায় সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। তাই সরকার সব ধরনের গণপরিবহন চলাচল নিষিদ্ধ করেছে। তারা এই ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা বন্ধ করে নিজ নিজ গৃহে অবস্থানের নির্দেশ দিয়েছেন।

সেই সাথে বিদেশফেরত যাত্রীদের নিকটস্থ থানায় যোগাযোগের নির্দেশ দেন। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি আরও ৯ দিন বর্ধিত করা হয়েছে।

দেশের ব্যাংকিং সেবাকে ২ ঘণ্টার মধ্যে সীমিত করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘব করতে স্বাস্থ্যসেবায় নিয়জিত কর্মীদের মতো ভোক্তা ও টিসিবির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাধারণ ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

করোনা ভাইরাস শনাক্তের কিট সঙ্কট থাকায় কাজে স্থবিরতা কেটে যাবে। আগামীকাল চীন থেকে ২০ হাজার কিটসহ অন্য মেডিকেল সামগ্রী দেশে পৌঁছাবে বলে জানিয়েছেন।

এদিকে এ পর্যন্ত চারজন মৃত্যুবরণ করেছেন এবং ৩৯ জনের শরীরে করোনার উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। যার মধ্যে গতকালই একজনের মৃত্যু ও ছয়জনের শরীরে করোনা উপস্তিতি পাওয়া গেছে।

১০ জনের অনুপাতে একজনের মৃত্যু : গতকাল রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) অধ্যাপক ডা. মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরা অনলাইন ব্রিফিংয়ে জানান, করোনা সন্দেহে এ পর্যন্ত আইইডিসিআরে ৭১২ জনের পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল পর্যন্ত পূর্বের ২৪ ঘণ্টায় ৯২ জনের পরীক্ষা হয়েছে।

এর মধ্যে নতুন করে ছয়জনের কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে; এদের মধ্যে একজন মারা গেছেন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে যিনি মারা গেছেন তিনি ৭০ বছরের এক বৃদ্ধ। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।

আর নতুন আক্রন্তদের একজনের ভ্রমণের ইতিহাস আছে। একজন অন্য রোগে আক্রান্ত হয়ে আগে থেকেই হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। বাকি চারজন আগে আক্রন্ত হয়েছেন এমন কারো সংস্পর্শে এসে আক্রন্ত হয়েছেন।

ডা. ফ্লোরা বলেন, করোনা সন্দেহে শনাক্তদের মধ্যে ৪০ জনকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক কোয়োরেন্টাইনে রয়েছেন ৪৬ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আইইডিসিআরের হটলাইনে এক হাজার ৭০০টি কল এসেছে।

এর সবই করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত। আচারণগত শিষ্টাচারের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, খুব প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হবেন না। এমনকি হাসপাতালেও যাবেন না। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন।

সবধরনের গণপরিবহন লকডাউন : করোনা ভাইরাসের সংক্রামণ ঠেকাতে সবার গৃহবন্দি থাকা প্রয়োজন। এই কথা বিবেচনা করে সরকার লম্বা ছুটি ঘোষণা করেছে। এ সময়ে সবাইকে গৃহবন্দি থাকতে বলা হয়েছে।

কিন্তু এই নির্দেশনা অমান্য করে ভিড় ঠেলে সবাই শহর ছেড়ে নিজ নিজ জেলায় ফিরছে। এতে করোনা ভাইরাস ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হয়েছে। তাই সড়ক পথে গণপরিবহন, লঞ্চ, ট্রেন ও অভ্যন্তরীণ রুটে বিমান চলাচল বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে।

গতকাল সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এক ভিডিও বার্তায় জানান, আগামীকাল ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল সারাদেশে সব গণপরিবহন লকডাউন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে ট্রাক, কভার্ডভ্যান, ওষুধ, জরুরি সেবা, জ্বালানি, পচনশীল পণ্য পরিবহন। তবে পণ্যবাহী যানবাহনে কোনো যাত্রী পরিবহন করা যাবে না।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মহিবুল হক বলেন, দেশের সকল অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর বন্ধ থাকবে মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে।

পরবর্তী ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে। ছুটিতে গ্রামে নয় নিজগৃহে অবস্থান ও বিদেশফেরতদের

থানায় যোগাযোগের নির্দেশ : সরকার ঘোষিত ছুটি পেয়ে ভিড় ঠেলে গ্রামে যেতে বারণ করেছে প্রলিশ প্রশাসন। তারা বলছে, ভিড় ঠেলে বাড়ি যাবেন না। নিজ নিজ গৃহে অবস্থান করুন। গতকাল মঙ্গলবার দেশের নাগরিকদের উদ্দেশ্যে পুলিশের পক্ষ থেকে এই বার্তা প্রদান করা হয়।

এতে বলা হয়েছে- জনগণের মধ্যে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার জন্য সরকার ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সব সরকারি-বেসরকারি অফিস আদালতে ছুটি ঘোষণা করেছে।

এই ১০ দিনের ছুটিতে অনেকেই হয়তো সরকারের মহৎ উদ্দেশ্য না বুঝে বা সচেতনতার অভাবে অথবা অতি উৎসাহের কারণে পরিবার-পরিজন নিয়ে গ্রামের বাড়িতে ছুটবেন।

এতে দেশব্যাপী করোনা সংক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে। তাই বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া বাড়ি ফিরতে নিষেধ করেছে পুলিশ।

এদিকে অপর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ সদরদপ্তর জানায়, করোনা ভাইরাসের বিস্তাররোধে পুলিশের সব ইউনিট সম্মিলিতভাবে কাজ করছে। বিভিন্ন সময় সরকার যে নির্দেশনা দিচ্ছে, নিষ্ঠার সাথে তা প্রতিপালন করছেন বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা।

ইতোমধ্যে সরকারের নির্দেশনামতে বিদেশফেরত প্রবাসী নাগরিকরা হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন কি-না তা নিশ্চিত করতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ নেয়া হয়েছে এবং হচ্ছে।

আশঙ্কার সাথে লক্ষ্য করা গেছে, উল্লিখিত সময়ের মধ্যে দেশে ফেরা বেশির ভাগ প্রবাসীই তাদের পাসপোর্টে উল্লিখিত ঠিকানায় অবস্থান করছেন না।

তাদের অনেকেই সরকারের নির্দেশনা অমান্য করে ঘোরাফেরা করছেন যা বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের নিজেদের এবং সাধারণ জনগণের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

উদ্ভুত পরিস্থিতিতে ১ মার্চ থেকে এ যাবত বিদেশফেরত সকল প্রবাসী নাগরিকদের তাদের বর্তমান অবস্থান নিকটস্থ থানায় অতিসত্তর যোগাযোগ করে তাদের বর্তমান ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর জানাতে অনুরোধ করা হচ্ছে।

অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন-২০১৮, বাংলাদেশ দণ্ডবিধি এবং প্রযোজ্য অন্য আইনের উপযুক্ত ধারামতে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এমনকি প্রয়োজনে তাদের পাসপোর্ট রহিত করারও উদ্যোগ নেয়া হবে।

বুয়েট এলাকা লকডাউন : বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ঢাকেশ্বরী আবাসিক এলাকার ভবনে একজন করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ায় আগামী দুই সপ্তাহ ওই এলাকা লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে।

সেইসাথে এলাকার সবাইকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। ব্যাপক সংক্রমণ এড়াতে এই পদেক্ষপ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক মো. মিজানুর রহমান।

ঢাকেশ্বরী আবাসিক এলাকার কোয়ার্টারে বুয়েটের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ১৫০টি পরিবার রয়েছে। যে ভবনে রোগী পাওয়া গেছে, সেখানে রয়েছে ৪৪টি পরিবার।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি আরও বাড়লো : পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের দিন আরও ৯ দিন বাড়ানো হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির সভাপতিত্বে এক সভায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়।

এরপর এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে প্রাক-প্রাথমিক থেকে শুরু করে সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আগামী ৯ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর আগে ৩১ মার্চ পর্যন্ত দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়।

১০ দিনের ছুটিতে দেশ; প্রয়োজনে অফিস খোলা রাখা যাবে : করোনা ভাইরাস সংক্রমণ মোকাবিলায় ১০ দিনের সাধারণ ছুটির আদেশ জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

এর আগে গত সোমবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব সংবাদ সম্মেলনে ছুটির এ ঘোষণা দেন। আদেশ অনুযায়ী, জরুরি প্রয়োজনে অফিস খোলা রাখা যাবে, প্রয়োজনে চালু থাকবে ওষুধ ও রপ্তানি শিল্পকারখানা।

আদেশে বলা হয়েছে, ২৬ মার্চ সরকারি ছুটি এবং ২৭ ও ২৮ মার্চ সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে ২৯ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হলো। ৩ ও ৪ এপ্রিল সাপ্তাহিক ছুটির দিন এ ছুটির সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে।

এতে আরও বলা হয়, কাঁচাবাজার, খাবার, ওষুধের দোকান, হাসপাতাল এবং জরুরি পরিষেবার (বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, ফায়ার সার্ভিস, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট ইত্যাদি) ক্ষেত্রে এ ব্যবস্থা প্রযোজ্য হবে না।

চীনের মেডিকেল পণ্য আসবে কাল : করোনা ভাইরাস শনাক্ত করতে প্রয়োজন পর্যাপ্ত মেডিকেল কিট ও চিকিৎসা কাজে দরকার নিরাপত্তা পোশাক। এসবের যথেষ্ট সঙ্কট রয়েছে দেশে।

এছাড়াও দেশে চাহিদা অনুপাতে ফেস মাস্ক এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজারের সঙ্কটও রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পাশে দাঁড়িয়েছে বন্ধুপ্রতীম চীন। সহায়তা হিসাবে ২০ হাজার টেস্ট কিট ও ব্যক্তিগত সুরক্ষা উপকরণসহ বিভিন্ন মেডিকেল সরঞ্জাম আগামীকাল পাঠাবে।

গতকাল মঙ্গলবার দেশটির বাংলাদেশ দূতাবাসের ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার চীন সরকারের একটি বিশেষ বিমানে এ সরঞ্জামাদি ঢাকায় পৌঁছবে। চীন থেকে দ্বিতীয় ধাপে আসছে ১০ হাজার টেস্ট কিট, প্রথম সারির ডাক্তারদের জন্য ১০ হাজার পিপিই এবং এক হাজার থার্মোমিটার।

এর আগে বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের সংক্রমণ পাওয়ার আগেই ফেব্রুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহে ৫০০ টেস্ট কিট পাঠিয়েছিল চীন।

সম্প্রতি আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তরের এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে যে, করোনা ভাইরাস দেশে সংক্রমিত হওয়ায় ফেস মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যাপক সঙ্কট দেখা দিয়েছে।

তাই এসব পণ্য রপ্তানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে দেশে তৈরি কোনো ফেস মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বিদেশে রপ্তানি করা যাবে না।

প্রতিদিন ব্যাংক খোলা থাকবে ২ ঘণ্টা : করোনার প্রভাব দেশের অর্থনীতিতে ঝেকে বসেছে। মানুষের মৌলিক চাহিদা মেটাতে ও সামান্য অর্থনৈতিক লেনদেন পরিচালনার জন্য সীমিত আকারে ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু রাখার নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

নতুন সময় অনুযায়ী প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত নগদ জমা ও উত্তোলন করা যাবে। লেনদেন পরবর্তী আনুষঙ্গিক কার্যক্রম শেষ করার জন্য ব্যাংক খোলা থাকবে বেলা দেড়টা পর্যন্ত। গতকাল মঙ্গলবার এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, শুধু নগদ জমা ও উত্তোলনের জন্য অনলাইন সুবিধা থাকা ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের লেনদেনের সার্বিক সুবিধা নিশ্চিত করে শাখাগুলোর মধ্যে দূরত্ব বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয়সংখ্যক শাখা খোলা রাখা যাবে।

অনলাইন সুবিধা ছাড়া ব্যাংকের শাখাগুলো শুধু নগদ জমা ও উত্তোলনের জন্য খোলা রাখা যাবে। শুধু জরুরি বৈদেশিক লেনদেনের জন্য এডি শাখাগুলো খোলা রাখা যাবে।

এটিএম ও কার্ডের মাধ্যমে লেনদেন চালু রাখার সুবিধার্থে এটিএম বুথগুলোয় পর্যাপ্ত নোট সরবরাহ রাখতে হবে এবং সার্বক্ষণিক চালু রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

আমারসংবাদ/এসটিএমএ