বুধবার ০৮ জুলাই ২০২০

২৪ আষাঢ় ১৪২৭

ই-পেপার

প্রিন্ট সংস্করণ

এপ্রিল ০৭,২০২০, ০২:১৭

এপ্রিল ০৭,২০২০, ০২:১৭

বেকারদের খাবার পৌঁছানো জরুরি

বিশ্বে করোনা ভাইরাস মহামারি আকার ধারণ করায় বাংলাদেশের অর্থনীতিও মন্দার হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। তাই এর সম্ভাব্য বিরূপ প্রভাব থেকে উত্তরণে গতকাল গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করে ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা এবং সামাজিক সুরক্ষার আওতা বৃদ্ধি করেছেন।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ। ভালো উদ্যোগ। তবে চ্যালেঞ্জ হচ্ছে— প্রণোদনা সুষ্ঠুভাবে বণ্টন করা। বেকারদের মধ্যে খাবার পৌঁছে দেয়াই জরুরি। তাদের এসব তথ্য তুলে ধরেছেন আমার সংবাদের সিনিয়র রিপোর্টার জাহাঙ্গীর আলম

প্রকৃত উদ্যোক্তাদের পৌঁছাতে হবে প্রণোদনা: ড. আহসান এইচ মনসুর

অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, এই মুহূর্তে মহামন্দার প্রভাব নিরূপণ করা কঠিন। তবে বিশ্বমন্দা ভয়াবহ হবে। তার প্রভাব মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন তা নিঃসন্দেহে ভালো উদ্যোগ। এটি সময়োপযোগী সঠিক সিদ্ধান্ত। যা দুঃসময়ে খুবই দরকার ছিলো।

তিনি আরও বলেন, ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য যে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংককে নিশ্চিত করতে হবে প্রকৃতপক্ষে যাতে উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছে।

কারণ অতীতেও আমরা দেখেছি, এ দুঃসময়েও খাদ্য নিয়ে দুর্নীতি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন, অপব্যবহার না করতে এবং দুর্নীতি যাতে না হয়। কাজেই এই দুঃসময়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে শক্ত হাতে ঋণ প্যাকেজগুলো উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।

তবে আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে— এ মুহূর্তে প্রায় এক থেকে দেড় কোটি বেকার হয়ে পড়া শ্রমিকের মাঝে খাবার পৌঁছে দেয়া জরুরি। কারণ তাদের ক্রয়ক্ষমতা হারিয়ে গেছে।

এছাড়া হোটেল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যারা চাকরি হারাবেন তাদের দিকেও নজর দিতে হবে। আয়ের একটি বড় অংশ দোকান ভাড়া ও বাড়ি ভাড়ায় ব্যয় হয়ে থাকে।

তাই সবার জন্য কথা বিবেচনা করে দোকান ও বাড়িভাড়া অর্ধেক করে তিন মাসের জন্য বন্ধ রাখতে হবে বলে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক জানান।

প্রবাসীদেরও দিতে হবে সুবিধা: ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ

ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। এর প্রভাব পড়বে শিলে,গু ব্যবসা-বাণিজ্যে। কারণ এটি বড় অঙ্কের ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্যাকেজ।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংককে নিশ্চিত করতে হবে প্রকৃত উদ্যোক্তাদের কাছে যাতে পৌঁছে। বিভিন্নভাবে এটা করতে হবে। তাই এটা বাস্তবায়ন করা কঠিন হবে। এ জন্য শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

তিনি বলেন, সামাজিক সুরক্ষার আওতা বৃদ্ধি করা হয়েছে এটাও ভালো দিক। তবে অপ্রাতিষ্ঠানিক কাজে নিয়োজিত জনসাধারণের মৌলিক চাহিদা পূরণে বা শ্রমিকদের জন্য আলাদাভাবে ক্যাশ ইনসেনটিভ ( নগদ প্রণোদনা) দেয়া উচিত। কারণ তারা ইতোমধ্যে ক্রয়ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছেন। এ জন্য তাদের ক্রয়ক্ষমতার সুযোগ দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সামাজিক সুরক্ষাভোগীদের আয়েরও উৎস রাখতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাদের এ কাজের ব্যবস্থা করতে হবে।

ওষুধশিল্পসহ এসএমই শিল্পে কারখানায় যে সব শ্রমিক রয়েছেন তাদের খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। এই সাবেক গভর্নর বলেন, করোনা ভাইরাসে বিশ্বে ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করছে।

তাই যে সব প্রবাসী এখনো বিভিন্ন দেশে থেকে গেছে, তাদের সুবিধা দিতে হবে। গভনমেন্ট টু গভনমেন্ট আলোচনা করা দরকার। তা না হলে তারাও মারাত্মক বিপদে পড়বে।

কারণ ওই সব দেশে তারা বেকার হয়ে গেছে। তাদের পরিবারের কথা বিবেচনা করেই দরকার হলে বিনাসুদে ঋণসুবিধার ব্যবস্থা করতে হবে।

আরও ব্যাপকভাবে সমন্বিতভাবে দীর্ঘমেয়াদি কমপক্ষে দুই বছর এই ঋণসুবিধা প্রবাসীদের জন্য দেয়া উচিত বলে অভিমত প্রকাশ করেন।

আমারসংবাদ/এসটিএমএ